শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ মার্চ, ২০২০ ২৩:৪৬

করোনা সন্দেহে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ মারা গেল যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

করোনা সন্দেহে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ মারা গেল যুবক

নওগাঁর রানীনগরে ঢাকা থেকে আসা এক যুবক জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পরিবারের অভিযোগ, করোনাভাইরাস সন্দেহে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন তিনি। শনিবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। রাতেই তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। গতকাল তাকে দাফন করা হয়। তবে ওই যুবক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে গ্রামবাসী ও ইউপি সদস্য প্রথমে তাকে গ্রামেই প্রবেশ করতে দেননি। স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন। শনিবার সকালে জ্বর আর কাশি নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা থেকে নওগাঁয় আসেন। এ সময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামের কিছু লোক তাকে গ্রামে প্রবেশ করতে দেননি। চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানেও চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা না করে ফিরিয়ে দেন। এরপর আবারও তাকে নিয়ে এসে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের বারান্দায় রাখা হয়। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে রানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে চিকিৎসকরা তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠান। অবশেষে তিন হাসপাতাল ঘুরে রামেকে গিয়ে মারা যান তিনি। ওই যুবকের বাবা বলেন, ‘ছেলেকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তাররা চিকিৎসা না দিয়েই রাজশাহী নিয়ে যাওয়ার জন্য হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দেন। এরপর বিকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কিছু ওষুধ ও ইনজেকশন লিখে দেন চিকিৎসকরা। সেগুলো দিয়েও ছেলের শরীরের জ্বর কোনোভাবেই কমছিল না। এরপর থেকে কোনো চিকিৎসক আমার ছেলের আশপাশে আর আসেনি। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে অতিরিক্ত জ্বরে অবশেষে ছেলে রাত ৮টার দিকে মারা গেছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু বলেন, জ্বর-সর্দির খবর পাওয়ার পর তার পরিবারকে বলেছিলাম চিকিৎসকের প্রতিবেদন নিয়ে গ্রামে আসতে। প্রতিবেদনে কোনো সমস্যা না থাকলে গ্রামে আসবে, আর সমস্যা থাকলে আসার দরকার নেই। গ্রামবাসীর কথা ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খান বলেন, তার শরীরে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে জ্বর ছিল। তাকে হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, ওই যুবক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। তিনি মেনিনজাইটিস রোগে মারা গেছেন। তিনি যে করোনাভাইরাসে মারা যাননি মৃত্যু সনদে চিকিৎসক তা নিশ্চিত করে দিয়েছেন। যেহেতু মেনিনজাইটিস রোগে মারা গেছেন তাই লাশ দাফনে কোনো সমস্যা নেই।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর