শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:১৫

জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব পাচ্ছে দুই সিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব পাচ্ছে দুই সিটি

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনকে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ওয়াসার কাছ থেকে কীভাবে সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করা হবে- সে বিষয়ে ১৪ সদস্যের একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। ‘ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খালসমূহ সিটি করপোরেশনের নিকট ন্যস্তকরণ’ সংক্রান্ত পরামর্শ সভা শেষে গতকাল এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। উল্লেখ্য, জলাবদ্ধতা নিরসনে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করে আসছিল ঢাকা ওয়াসা। কিন্তু বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেলে পানি নিষ্কাশন নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে ঢাকা ওয়াসা। ওয়াসা বরাবরই সিটি করপোরেশনের ওপর দোষ চাপিয়ে আসছে। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন বলে আসছে এটি ওয়াসার কাজ।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গতকালের সভায় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও উত্তরের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, হস্তান্তর প্রক্রিয়া কীভাবে কোন পদ্ধতিতে করা যায়- সেজন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ ইবরাহিমকে আহ্বায়ক এবং উপসচিব মোহাম্মদ সাঈদ উর রহমানকে সদস্য সচিব করে টেকনিক্যাল কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে দুই সিটি করপোরেশনের আটজন এবং ওয়াসার চারজন প্রতিনিধিও থাকবেন। তিনি বলেন, এই কমিটি এক মাসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দেবে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাজুল ইসলাম বলেন, সভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মূল বিষয় ঢাকা শহরের ড্রেনেজ সিস্টেম এবং খালগুলো নিয়ে। আমি ব্যাকগ্রাউন্ডটা আগেও বলেছি যে, আইনে যেভাবে আছে সিটি করপোরেশন এ কাজ করার জন্য দায়বদ্ধ। ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সংস্কার করাসহ তারা দায়বদ্ধ। কিন্তু একটি সময় রাষ্ট্রপতির আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াসার কাছে এই দায়িত্বটা হস্তান্তর করা হয়েছে। সেজন্য কাজটি ওয়াসা এরই মধ্যে করে গেছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সিটি করপোরেশনের দুজন মেয়র জনগণের কল্যাণে আন্তরিক। কাজটি যদি ওনারা করেন ভালো করতে পারবেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন কাজ ওয়াসার কাছে থাকবে। ড্রেনেজ সিস্টেম সিটি করপোরেশনের কাছে গেলে তারা ভালো করতে পারবে। এটার জন্য নীতিগতভাবে ঐকমত্যে পৌঁছতে পেরেছি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, যেটি আমরা চেয়েছিলাম তাই বাস্তবায়নের জন্য নীতিগতভাবে একমত হয়েছি এবং এখানে যেহেতু টেকনিক্যাল অনেক ব্যাপার আছে। আমরা চেষ্টা করব জনগণকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষার জন্য। কালশীর ৬০ ফুটের খাল এখন পাঁচ ফুট পাওয়ার কথা জানিয়ে উত্তরের মেয়র বলেন, খালগুলো উদ্ধার করে দুই পাশে ওয়াকওয়ে, সাইকেল লেনসহ যুগোপযোগী করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসনে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৯৮৮ সালে জনস্বার্থ প্রকৌশল বিভাগ এ দায়িত্ব (পানি নিষ্কাশন) সিটি করপোরেশনকে দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা না দিয়ে ওয়াসাকে দেওয়া হয়। সেই থেকে আজ অবধি প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ঢাকাবাসী দুর্ভোগে নিমজ্জিত ছিল। আজকের এই সিদ্ধান্তে আমরা একটা নবসূচনা করতে পারছি। আমি আশাবাদী আমরা অচিরেই ঢাকাবাসীকে এর সুফল পৌঁছে দিতে পারব। এক প্রশ্নের জবাবে দক্ষিণের মেয়র বলেন, ঢাকাবাসী নির্বাচনের মাধ্যমে তারা দুজন নেতাকে নির্বাচিত করেছেন। সেই ম্যান্ডেটের কারণে এই সাহস করেছি যে, ঢাকাবাসীকে এ সমস্যা থেকে সমাধান দেব। সব প্রতিকূলতা নিয়েই এ বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর