শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:২৭

বাবুনগরী মামুনুলদের গ্রেফতার দাবিতে ৬০ সংগঠনের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাবুনগরী মামুনুলদের গ্রেফতার দাবিতে ৬০ সংগঠনের মানববন্ধন
জুনাইদ বাবুনগরী ও মামুনুল হকদের গ্রেফতার দাবিতে গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মানববন্ধনে অংশ নেয় ৬০ সংগঠন -বাংলাদেশ প্রতিদিন

বঙ্গবন্ধু ও সংবিধান অবমাননার অভিযোগে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরী এবং যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ৬০টি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আয়োজনে গতকাল বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধন।

মৎস্য ভবন থেকে শুরু করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, ঢাকা ক্লাব, শাহবাগ মোড় ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ছবির হাট পর্যন্ত এ মানববন্ধন কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়ে। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সঞ্চালনায় এতে অংশ নেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সংসদ সদস্য শাজাহান খান, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, সাংবাদিক আবেদ খান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবীব, জাসদ একাংশের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা কাজল দেবনাথ প্রমুখ।

অবিলম্বে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরী, যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেফতার এবং জামায়াত-হেফাজতের মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক, সন্ত্রাসী রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য কর্মসূচি থেকে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান বক্তারা।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ সমুচিত জবাব দেবে। মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দেওয়ার পর এখনো তাদের নিয়ে কিছু বলা হয়নি। এটিই তাদের সৌভাগ্য। দৃষ্টান্তমূলক পরিণামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবীব বলেন, ‘তারা এত বছর ধরে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে এসেছে। তারা বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চায়। যে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে সেই বাংলাদেশ কখনো পাকিস্তানি, আফগানিস্তানি বা তালেবানি রাষ্ট্র হতে পারে না।’

নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, ‘জাতির পিতার ভাস্কর্য ভেঙে ফেলে নদীতে ছুড়ে ফেলার মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছে মৌলবাদীরা। সামাজিক-সাংস্কৃতিক শক্তির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মৌলবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে এখন প্রগতিশীলতার বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আজকে যারা নতুন করে বাংলাদেশের অস্তিত্বকে হুমকি দিচ্ছে, যারা মসজিদের ভিতর মানুষ পুড়িয়ে মারছে, তাদের যথাযোগ্য শাস্তি নিশ্চিতে সরকারকে বাধ্য করব।’

রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য প্রতিষ্ঠার বিরোধিতার নামে সাম্প্রদায়িক মহল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যে চেষ্টা করছে, এটি শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।’

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘আমরা মনে করি- ভাস্কর্যের সঙ্গে ধর্মের কোনো বিরোধ নেই। কাজেই যারা বাংলাদেশে ভাস্কর্যের সঙ্গে ধর্মের সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি করছে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’  একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ছাড়াও এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেয় সেক্টরস কমান্ডার্স ফোরাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অ্যাসোসিয়েশন, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, প্রজন্ম ’৭১, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ইতিহাস সম্মিলনী, জাতীয় কবিতা পরিষদ, সম্প্রীতি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ, বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু গবেষণা সংসদ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ), জাতীয় যুব জোট, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ কেন্দ্র, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলন, বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ, ’৭২-এর সংবিধান পুনঃপ্রবর্তন জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্র, মুক্তিযুদ্ধ সংহতি পরিষদ, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ), বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরাম, গৌরব ’৭১, অপরাজেয় বাংলা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতি পাঠাগার, কর্মজীবী নারী, জাতীয় নারী জোট, নারী মুক্তি সংসদ, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন ইউএসএ (বাংলাদেশ চ্যাপ্টার), জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ মোর্চা, সেক্যুলার ইউনিটি বাংলাদেশ, উইথ ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ঘাসফুল শিশু-কিশোর সংগঠন, বাংলাদেশ মানবাধিকার আন্দোলন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশ।

কর্মসূচি শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করে ঘাতক-দালাল-নির্মূল কমিটি। সম্প্রতি রাজধানীর ধোলাইরপাড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে সেটির নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধের দাবি তুলেছেন হেফাজত নেতা মামুনুল হক। গত ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রামের এক অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরী বলেছেন, যে কোনো দল ভাস্কর্য বসালে তা ‘টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হবে’।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর