শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:২৮

যত আলোচনা ভ্যাকসিন নিয়ে

শুরু ২৭ জানুয়ারি, ৮ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে, ট্রায়ালের প্রস্তুতি চীনা ভ্যাকসিনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

যত আলোচনা ভ্যাকসিন নিয়ে

করোনাভাইরাস নির্মূলে ভ্যাকসিন ঘিরে চলছে আলোচনা। সরকারের কেনা প্রথম ধাপের ৫০ লাখ ডোজ ও ভারতের উপহারের ২০ লাখ ডোজ মিলিয়ে আগামী ২৭ জানুয়ারি টিকা কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২০-২৫ জনকে টিকা দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকার তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল করতে যাচ্ছে আনুই জিফেই নামের একটি চীনা প্রতিষ্ঠান। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের পর চলতি মাসের শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) টিকা পরীক্ষার প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে আনুই জিফেইকে চিঠি দেয়। বিএসএমএমইউর উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা আনুই জিফেইয়ের সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। আমরা গবেষণা প্রটোকল (পরীক্ষাবিধি) তৈরি করছি। আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে প্রটোকল চূড়ান্ত হবে। তাদের সঙ্গে ট্রায়াল সংক্রান্ত বিষয়ে যোগাযোগ হচ্ছে।’ গত বৃহস্পতিবার ভারত থেকে উপহার হিসেবে এসেছে ২০ লাখ ডোজ টিকা। এগুলো রাজধানীর তেজগাঁও ইপিআই স্টোরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আগামী ২৫ জানুয়ারি দেশে এসে পৌঁছাবে সরকারের কেনা ৫০ লাখ ডোজ টিকা। এই ৭০ লাখ মিলিয়ে ২৭ জানুয়ারি কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এরপর পর্যবেক্ষণমূলক হিসেবে ঢাকার চার হাসপাতালের ৪০০-৫০০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়া হবে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে টিকা কর্মসূচি শুরুর পরিকল্পনা করছে সরকার। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান বলেন, ২৭ কিংবা ২৮ জানুয়ারি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২০-২৫ জন মানুষকে টিকা দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে কর্মসূচি শুরু হতে পারে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন। ব্যাপকভাবে টিকাদান শুরুর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ৪০০-৫০০ জনকে টিকা দিয়ে সাত দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে পারে। সরকারের কেনা প্রথম ধাপের ৫০ লাখ ডোজ ও ভারতের উপহারের ২০ লাখ ডোজ মিলিয়ে প্রথম মাসে ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হবে। পরের মাসে দেওয়া হবে ৫০ লাখ ডোজ। অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ডোজ অনুযায়ী তৃতীয় মাসে দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে ৬০ লাখ টিকা দেওয়া হবে। টিকাদানে সরকারি হাসপাতালের বাইরে কোনো কেন্দ্র হবে না। টিকা সংক্রান্ত তথ্য প্রচারে সেল করা হয়েছে। নিয়মিত বুলেটিনের মাধ্যমে যাবতীয় তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। বেসরকারি অনেক হাসপাতাল টিকাদান কার্যক্রমে অংশ গ্রহণের আবেদন করেছে। তাদের ২০টি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে এবং এখনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দরে টিকা গ্রহণ থেকে শুরু করে ইপিআই স্টোরে নিয়ে যাওয়াসহ সবকিছু কঠোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে করা হবে। ঢাকার স্টোর থেকে সারা দেশে টিকা পরিবহনের সময় পুলিশ পাহারায় নিয়ে যাওয়া হবে। টিকা কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণ করবে তারা। করোনা টিকা কার্যক্রমের সবকিছু ‘সুরক্ষা অ্যাপ’ এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সরকারের মনোনীত ব্যক্তি ও ৮০ বছরের বেশি বয়সীরা এই অ্যাপস মোবাইলে ডাউনলোড করে নিবন্ধন করতে পারবেন। এখাকে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরের সঙ্গে নাম, ঠিকানা, রোগের ইতিহাস সব তথ্য দিয়ে টিকা নিতে নিবন্ধন করতে হবে। আপাতত অন্য কেউ নিবন্ধন করতে পারবেন না। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অন্যদের জন্য অ্যাপস নিবন্ধনের সুযোগ করে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, সব টিকার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। জ্বর, গায়ে ব্যথা, টিকা দেওয়া জায়গা হালকা ফুলে যেতে পারে। কিন্তু এনাফাইলিপিসের যে চিন্তা করা হচ্ছে তা এ পর্যন্ত কোনো টিকাই হয়নি। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে টিকা গ্রহণকারী ব্যক্তিকে সেবা দিতে হাসপাতালেই টিকা দান কেন্দ্র করা হয়েছে। টিকা দেওয়ার পর ওই ব্যক্তি ১০-১৫ মিনিট ওখানেই অবস্থান করবেন। টিকা দান কেন্দ্রে ভিড় করা যাবে না, দর্শনার্থী হয়ে ঘোরাঘুরি করা যাবে না। তাদের সার্বিক চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে, টেলিমেডিসিন সেবার ব্যবস্থা থাকবে। তাই অহেতুক বিভ্রান্তি, গুজব ছড়িয়ে অনাস্থা তৈরি করা যাবে না। ভ্যাকসিন শরীরে কতদিন কার্যকর থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, টিকা দেওয়ার পর তা শরীরে কতদিন কার্যকর থাকবে এই তথ্য এখনো পৃথিবীর কারও কাছেই নেই। এ নিয়ে বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন। টিকা দেওয়ার পর অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে কি না তা টেস্ট করে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে।


আপনার মন্তব্য