শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২২:৫০

কোম্পানীগঞ্জে গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা গেছেন

কাদের মির্জার অব্যাহতি নিয়ে ধূম্রজাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ স্থানীয় সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির (২৫) গতকাল রাত পৌনে ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এদিকে আবদুল কাদের মির্জাকে বহিষ্কারের সুপারিশ এবং সংগঠনের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঢামেক সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাতে সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির (২৫)-কে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার সমর্থক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। মুজাক্কির কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি ছিলেন।

অব্যাহতি ও বহিষ্কারের সুপারিশ নিয়ে ধূম্রজাল : নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল কাদের মির্জাকে বহিষ্কারের সুপারিশ এবং সংগঠনের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনাম সেলিম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী। গতকাল রাত ৯টা ২৫ মিনিটে মুঠোফোনে একরামুল করিম চৌধুরী এমপি জানান, ‘অব্যাহতির বিষয় এখনো বহাল রয়েছে।’ অন্যদিকে খায়রুল আনম সেলিম রাত ১০টায় বলেন, প্রথমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে দলীয় শান্তি বজায় রাখতে আমি সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছি। যেহেতু বিষয়টি নেত্রীর কাছে পেন্ডিং আছে এবং আমি মনে করি আমাদের অব্যাহতিরও এখতিয়ার নেই।’

এদিকে ফেসবুক লাইভে রাত ৯টা ২৫ মিনিটে এসে একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘একজন লোক অপরাধী। মির্জা কাদের শুধু নোয়াখালী নয়, সারা দেশের আওয়ামী লীগকে ছোট করেছে- তাকে তো ছাড়া যায় না। তার বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিয়েছি। আমার সভাপতি কী বলেছেন আমি জানি না। তিনি নাকি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তিনি আমাকে দিয়ে নির্দেশনা দিলেন আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, এখন তো তিনিও নীতিহীন হয়ে গেলেন। কাদের মির্জার অব্যাহতি অব্যাহত রেখেছি। এ ধরনের লোকদের দলের অবস্থানে রাখা উচিত না। সবার অবগতির জন্য জানাচ্ছি তার অব্যাহতি বহাল রইল।’

বসুরহাটে হরতাল, পুলিশের লাঠিচার্জ : বসুরহাটে মেয়র আবদুল কাদের মির্জার ডাকে অর্ধবেলা হরতাল পালিত হয়েছে। এদিকে হরতাল চলাকালে সকাল সাড়ে ৭টায় কোম্পানীগঞ্জ থানার সামনে এসে থানা ঘেরাও ও পুলিশকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে কাদের মির্জার সমর্থকদের ব্যাপক লাঠিচার্জ ও পিটুনি দেয়। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে শুরু হয় হাতাহাতি। একপর্যায়ে পুলিশ ও র‌্যাব লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে ১০-১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে কাদের মির্জার দাবি অন্ততত ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন। পরে বেলা ১১টায় বসুরহাট রূপালী চত্বরে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এ হামলার প্রতিবাদ জানান এবং ডিসি, এসপি ও ওসির প্রত্যাহার দাবিতে সোমবার (কাল) সকাল ১০টায় মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। অন্যদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল সোমবার (কাল) রূপালী চত্বরে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। গতকাল সকালে বসুরহাট রূপালী চত্বরে মির্জা কাদের এবং দুপুরে উপজেলার পেশকারহাট রাস্তার মাথায় বাদল পৃথক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।