শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ মে, ২০২১ ২৩:২৬

পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

হেফাজতের জাকারিয়ার বিয়ে ছাড়াই একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক : পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

Google News

হেফাজতে ইসলামের সদ্যবিলুপ্ত কমিটির প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জীর একাধিক বিবাহবহিভর্‚ত সম্পর্কের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এসব সম্পর্কের কথা স্বীকারও করেছেন। দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই হেফাজতে ইসলাম দেশের বিভিন্ন জায়গায় তান্ডব চালানোর কথা স্বীকার করেছেন তিনি। গতকাল চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক বলেন, ‘জাকারিয়ার সঙ্গে বেশ কয়েকজন নারীর বিবাহবহিভর্‚ত সম্পর্ক ছিল। তার মোবাইল থেকে বিভিন্ন জনকে দেওয়া কুরুচিপূর্ণ মেসেজও পাওয়া গেছে। জাকারিয়া বিবাহবহিভর্‚ত সম্পর্কের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’ পুলিশ সুপার বলেন, ‘জাকারিয়া স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ ও সরকারকে অস্থিতিশীল করতে তারা সারা দেশে তান্ডব চালিয়েছেন। তাদের পেছনে আর যারা আছেন প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।’

জানা যায়, বুধবার বিকালে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে জাকারিয়াকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে জাকারিয়া স্বীকার করেন হাটহাজারীসহ সবকটি ঘটনায় তার ইন্ধন ছিল। হাটহাজারীর থানা ভবন ভাঙচুর, ভূমি অফিস ও ডাকবাংলোয় অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায়ও তিনি জড়িত ছিলেন। জাকারিয়ার মোবাইলে কয়েকজন নারীর সঙ্গে করা অশ্লীল চ্যাটিং পেয়েছে পুলিশ। কয়েকজন নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পুলিশের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে হেফাজতে ইসলামের এ নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য গতকাল চট্টগ্রামের জুডিশয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার ইকবালের আদালতের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। আদালত ভার্চুয়াল শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক বলেন, ‘হাটহাজারীতে হওয়া ১০টি মামলার সবকটিতে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাকে এসব মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।’ প্রসঙ্গত, ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদির সফর ঘিরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তান্ডব চালান হেফাজতে ইসলামের নেতা কর্মীরা। তারা সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ১৭ জন নিহত হন।

এই বিভাগের আরও খবর