শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১২ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ মে, ২০২১ ২২:৪৩

দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর বাবুল আটক

চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলায় নতুন মোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর বাবুল আটক
স্ত্রী মিতুর সঙ্গে বাবুল
Google News

আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার বাদী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাকে যে কোনো সময় গ্রেফতার দেখানো হতে পারে বলে পিবিআইর এক সূত্র জানিয়েছেন।

এর আগে ঢাকায় এক দিন জিজ্ঞাসাবাদ করার পর গতকাল তাকে চট্টগ্রাম এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা অবশ্য এর আগে বলেছিলেন, ‘আমরা মামলার বিষয়ে আলোচনার জন্য বাদী বাবুল আক্তারকে ডেকেছি। ওনার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। এ মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।’

মিতুর মা সাহেদা মোশাররফ বলেন, ‘বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআই ডেকেছে বলে শুনেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু জানা নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময় প্রশাসনের কাছে বলে আসছি এ খুনের সঙ্গে বাবুল আক্তার জড়িত। তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই এ খুনের আসল রহস্য বের হয়ে আসবে।’

জানা যায়, মিতু হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে সোমবার ঢাকার পিবিআই অফিসে ডাকা হয়। পুরো দিন তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গতকাল তাকে চট্টগ্রাম কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। গত রাত ৮টা পর্যন্ত বাবুল আক্তার পিবিআই কার্যালয়ে ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন একাধিক সূত্র। সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু খুনের পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এ খুনের পেছনে প্রশাসন জঙ্গি সংগঠনের সম্পৃক্ততার সন্দেহ করলেও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ‘আইএস’ খুনের প্রতিবাদে বিবৃতি দিলে নতুন মোড় নেয় এ মামলা। খুনের এক মাসের মধ্যেই গ্রেফতার হন কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সাতজন। পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন খুনে সরাসরি অংশগ্রহণকারী রাশেদ ও নবী। বন্দুকযুদ্ধের পর একই বিন্দুতে স্থির থাকে এ খুনের তদন্ত। থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ হয়ে বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। খুনের কিছুদিন পর থেকে মিতুর পরিবার এ ঘটনার জন্য বাবুল আক্তারকে দায়ী করে আসছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রাম মহানগরের জিইসির মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে মহানগরের পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এক মাসের মধ্যে এ খুনে সরাসরি অংশগ্রহণকারী এবং অস্ত্র সরবরাহকারীসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।