শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ মে, ২০২১ ২৩:৪৩

ডাক ভবন ও ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

রেল নেটওয়ার্কে আসবে সারা দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রেল নেটওয়ার্কে আসবে সারা দেশ
Google News

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অল্প খরচে যোগাযোগ স্থাপন ও পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে রেল যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

গতকাল দুপুরে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সরকারে এসে বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেলসংযোগ করি। সেই সঙ্গে  রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ হাতে নিই। জাতির পিতা যেভাবে সারা দেশে একটা যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যোগাযোগ করতে পারে, অল্প খরচে চলাচল করতে পারে, পণ্য পরিবহন করতে পারে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে রেলকে আমরা গুরুত্ব দিই। অন্যের পরামর্শ নিয়ে আমরা চলি না। দেশটা কীভাবে চলবে, দেশের মানুষের ভাগ্য কীভাবে পরিবর্তন হবে, কীভাবে উন্নত হবে; আমরা সেটাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আর সেভাবে গুরুত্ব দিয়েই সমগ্র বাংলাদেশে রেল যোগাযোগে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। তিনি বলেন, ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দিকে তাকায়নি। সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতাকে তারা ভোগের বস্তুতে পরিণত করেছিল। নিজেদের আর্থিকভাবে সচ্ছল করতে দুর্নীতিটাকে নীতি হিসেবে নিয়েছিল। আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সব স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলতে চেয়েছিল। বিজয়ী জাতি হিসেবে আমাদের যে মর্যাদা, সে মর্যাদাটুকু ভূলুণ্ঠিত করেছিল; বরং পরাজিত শত্রুরই পদলেহন করত তারা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। তখন থেকেই আমরা প্রচেষ্টা চালাই জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই অন্য সব দিকের সঙ্গে আমরা যোগাযোগব্যবস্থার কাজ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নিই। রেল, পরিবহন, নৌপথ, আকাশপথ সবগুলোকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিই। রেলওয়ে আলাদাভাবে একটা মন্ত্রণালয় করে দিই, যাতে আলাদা বাজেট থাকে এবং রেলের উন্নতি হয়।

সরকারপ্রধান বলেন, যমুনা নদীর ওপর আরেকটা ডেডিকেটেড রেলসেতু হবে। সেটারও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এর কাজ আমরা করে যাচ্ছি। তা ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইস্পিড ট্রেন লাইন করার চিন্তাভাবনা আছে। তবে সেটা আমাদের দেশের মাটি কতটা স্পিড লোড নিতে পারবে তার ওপর নির্ভর করে স্টাডি করে করব। শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি, সেখানে আমরা রেললাইন করছি। পদ্মা সেতু পার হয়ে ভাঙ্গা, আবার ভাঙ্গা থেকে একদিকে যেমন যশোর হয়ে খুলনা পর্যন্ত যোগাযোগ করব, অন্যদিকে সোজা বরিশাল হয়ে একেবারে পায়রা নতুন নৌবন্দর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। সে পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বরিশাল বিভাগকে একসময় বলা হতো বাংলার ভেনিস। অসংখ্য নদী-নালা-খাল-বিল, বিশাল বিশাল নদী, সেখানে রেললাইন করার চেষ্টা করেও ব্রিটিশরা পারেনি। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, স্টাডি চলছে। ব্রিটিশদের অনুরোধ করছি তারা যেন রেলটা নির্মাণ করে দেয়। সে পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগোচ্ছি। সমগ্র বাংলাদেশটাকে রেলওয়ের আওতায় নিয়ে আসছি। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ থেকে ভারতের যেসব জায়গায় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আমরা সেগুলো পুনরায় স্থাপন করেছি, আস্তে আস্তে আমরা করে যাচ্ছি। যেমন বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে দর্শনা-গেদে, বেনাপোল-পেট্রাপোল, রহনপুর-সিঙ্গাবাদ, বিরল-রাধিকাপুর এবং চিলাহাটি-হলদিবাড়ী এ রুটে রেল চালু করেছি আমরা। এখন শিলিগুড়ি পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছি। উদ্বোধনের সময় রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, রাজশাহী রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) মিহিরকান্তি গুহ, জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ, পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব, সিভিল সার্জন ডা. নজরুল চৌধুরী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন শিমুল, সংসদ সদস্য ফেরদৌসি ইসলাম জেসিসহ সরকারি দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইনের যুগে ডাক বিভাগ পিছিয়ে থাকলে চলবে না : এর আগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নবনির্মিত ডাক ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বলেন, এখন বেশির ভাগ অনলাইন ব্যবসা ও কেনাবেচা চলছে। ডাক বিভাগকে পিছিয়ে থাকলে চলবে না। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ডাক বিভাগকে আরও বেশি সেবামুখী হতে হবে। খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে ফলমূল যেন ডাকের মাধ্যমে পাঠানো যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। ডাকের সেবাটাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, ডাকসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ চলছে। এখন মানুষের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সেবাগুলো পৌঁছে দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আফজাল হোসেন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমত উল্লাহসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।