সোমবার, ২২ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

দেশের অগ্রযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয় লক্ষ্য রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অগ্রযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয় লক্ষ্য রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গতকাল ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে তাঁর কার্যালয়ে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে তিন বাহিনীর প্রধানরা সাক্ষাৎ করেন -পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেন সারা বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে। প্রতিটি বাঙালি পৃথিবীর যেখানেই যাক না কেন যেন মাথা উঁচু করে বলতে পারে, আমরা বিজয়ী জাতি, উন্নত জাতি। আমরা নিজেদের দেশকে গড়ে তুলেছি একটা সম্মানজনক অবস্থানে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতা যুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত নির্বাচিত  মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারদের দেওয়া সংবর্ধনা এবং ২০২০-২০২১ সালের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের পদকে ভূষিতকরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে ভার্চুয়ালি অংশ নেন। খবর : বাসস।

সরকার সশস্ত্র বাহিনীসহ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের নানাবিধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এটুকু দাবি করতে পারি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবার সঙ্গে সমান পা মিলিয়ে চলতে পারে। সে সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে, বাংলাদেশকে বিশ্ব মর্যাদায় আমরা আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছি। এই মর্যাদা ধরে রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এবং উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ ইনশা আল্লাহ আমরা গড়ে তুলব। এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকেও এ সময় অভিনন্দন জানান।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আবদুল হান্নান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রাক্তন আরও পাঁচ কর্মকর্তাকে ২০২০-২০২১ সালের শান্তিকালীন পদকে ভূষিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁদের হাতে সম্মানী চেক এবং উপহার তুলে দেন। দিবসটি উপলক্ষে শেখ হাসিনা বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং সশস্ত্র বাহিনীর খেতাব প্রাপ্ত এবং খেতাব প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের মাঝে উপহার প্রদান করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আবদুল হান্নান উপস্থিত ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের নিকট আত্মীয়সহ প্রায় ৭৫ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীরা সংবর্ধনায় যোগ দেন।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত : যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গতকাল সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত হয়েছে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনটি উদযাপন শুরু হয়। আইএসপিআর জানায়, সশস্ত্র বাহিনী দিবসে শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল সকালে ফজরের নামাজ শেষে দেশের সব সেনানিবাস, নৌ ও বিমান ঘাঁটির মসজিদে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনায় মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এ দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে ঢাকা সেনানিবাসে পৌঁছলে তাদের স্বাগত জানান তিন বাহিনীর প্রধান ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তিন বাহিনীর একটি চৌকশ দল এ সময় তাঁকে অভিবাদন জানায়। পরে রাষ্ট্রপতি শিখা অনির্বাণ চত্বরে রাখা পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। রাষ্ট্রপতির পর প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। কিছু সময় তিনি সেখানে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এসময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকশ দল গার্ড অব অনার দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী যখন শিখা অনির্বাণে ফুল দেন, তখন বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। পরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আবদুল হান্নান নিজ বাহিনীর পক্ষে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা।

সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা : সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে সেনাকুঞ্জে বিকালে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই সংবর্ধনায় সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা ছাড়াও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় দূতাবাসসমূহের বিদেশি কূটনৈতিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভিটিসিতে সংযুক্ত হন এবং তিনি তাঁর ভাষণে বলেন, অসাধারণ কর্মতৎপরতার ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ জাতির যে কোনো প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নিবেদিত থাকবেন এটাই আমার প্রত্যাশা। শুধু দেশেই নয়, বহির্বিশ্বেও আপনারা সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবেন বলে আমার বিশ্বাস।

দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য সেনা গ্যারিসন, নৌ জাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকা, খুলনা, চাঁদপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনী জাহাজসমূহ দুপুর হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সর্বসাধারণের দেখার জন্য নিকটস্থ ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়।

নৌবাহিনী : বাংলাদেশ নৌবাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত ১৯ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ সালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৮ জন নৌসদস্যদের শান্তিকালীন পদকে ভূষিত করা হয়েছে। গতকাল বনানীর নৌসদর সাগরিকা হলে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল শাহীন ইকবাল এই সম্মাননা ও শান্তিকালীন পদক তুলে দেন।

বিমান বাহিনী : বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও কিলো ফ্লাইটের বৈমানিক এবং তাঁদের উত্তরাধিকারীদের গতকাল সংবর্ধনা দিয়েছে বিমান বাহিনী। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আবদুল হান্নান ঢাকার তেজগাঁওয়ে বিএএফ শাহীন হলে ২৫ জন সদস্যকে সংবর্ধনা দেন।

কুমিল্লায় হাজার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সম্মাননা : কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, সশস্ত্র বাহিনী দিবসে বিকালে কুমিল্লা সেনানিবাসের এম আর চৌধুরী প্রাঙ্গণে এক হাজার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও কুমিল্লা এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর হারুন। অনুষ্ঠানে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম এমপি, আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি, আঞ্জুম সুলতানা সীমা এমপি, রওশন আরা মান্নান এমপি, নাছিমুল আলম চৌধুরী এমপি, নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান এমপি, এরোমা দত্ত এমপিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা ও উপহার তুলে দেন মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর হারুন।

সর্বশেষ খবর