Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩১ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ মে, ২০১৯ ২৩:৫০

ঈদের সাজ

ঈদের সাজ
♦ মডেল : সঞ্চিতা দত্ত ♦ পোশাক : অঞ্জন’স ♦ মেকআপ : তানজিনা আহমেদ জিনিয়া ♦ ছবি : রাফিয়া আহমেদ
ঈদের দিন যত এগিয়ে আসছে আমাদের উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে। ঈদে কী করবেন, কোথায় যাবেন, কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবেনÑ সবকিছু নিয়ে ভাবনার অন্ত নেই। পছন্দের সব পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে সাজগোজ কেমন হবে তা যেন আপনাকে সব সময় ভাবাচ্ছে। ইদানীং তো ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে বিয়ে, পার্টি, ঘুরতে যাওয়ার জন্য একের পর এক শিডিউল থাকে। উদ্দেশ্য একটাই- নিজেকে ট্রেন্ডি লুকে উপস্থাপন। ঈদে আপনার পারফেক্ট লুক আনতে সাজ নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন-  তানিয়া তুষ্টি

 

ঈদ মানেই আনন্দ আর আনন্দ মানেই নতুন জামার সঙ্গে সুন্দর সাজ। তাই সেই সাজটা হওয়া চাই আকর্ষণীয় এবং মানানসই। তা ছাড়া ঈদের সাজটা চমকপ্রদ না হলে যেন ঈদ উৎসবটাই ম্লান হয়ে যায়। মেয়েদের সাজে সময় ও আবহাওয়া বুঝে নেওয়া উচিত। আবার হাওয়া বুঝে ট্রেন্ড বদল করাও যে আরেকটি ফ্যাশন। সাজের ক্ষেত্রে গত দুই বছরে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। মেয়েদের কাছে নো মেকআপ লুকই বেশি পছন্দের। তা ছাড়া এবারের ঈদটাও হবে তীব্র গরমের ভিতর। তাই সাজগোজে যত সাধারণ থাকা যায় ততই ভালো। তবে পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে মেকআপ নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ।

 

ঈদের দিন সকালের সাজ কেমন হবে অথবা কেমন ধরনের পোশাক বেশি মানাবে সেই বিষয় নিয়ে অনেকে দ্বিধায় থাকেন। সেক্ষেত্রে লাইট কালারের কটনের সালওয়ার কামিজ অথবা কটনের শাড়ির সঙ্গে হালকা সাজ, এলো চুলের হাত খোঁপা, কপালে একটা ছোট টিপে খুব স্নিগ্ধ লাগে। চুলের সাজেও খুব বেশি পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। স্ট্রেইট চুলের ফ্যাশনটা বর্তমানে বেশি। হেয়ার কাট যার যার রুচির ব্যাপার। তবে চুলের কালারের ব্যাপারে অনেকটায় নিরুৎসাহিত মনে হচ্ছে তাদের। মূলত ন্যাচারাল লুকেই ছিমছাম উপস্থাপনা গুরুত্ব পাচ্ছে।

 

ঈদের সকালে অনেকের আবার কাজের চাপ একটু বেশি থাকে। তাদের চলাফেরা করতে সুবিধা হয় এমন কোনো পোশাকই সকালের জন্য বেছে নেওয়া ভালো। সকালে যারা রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকবেন তারা হালকা সেজে নিতে পারেন। ভারী মেকআপ এ সময় না নেওয়ায় ভালো। চোখে সামান্য কাজল, ঠোঁটে ন্যাচারাল লিপস্টিক আর খোঁপায় বাঁধা চুল ছড়িয়ে দেবে শুভ্রতা। এমন সাজের সঙ্গে পরিহিত গয়নাটাও হালকা হওয়া চাই। সকালের মেকাপের বর্ণনা দিতে গেলে বলা যায়, ঈদের দিন সকালে বেস মেকাপ হালকা রাখা জরুরি। চোখে টেনে কাজল এবং ভারি করে মাশকারা লাগানো যেতে পারে। তবে সকালে আলগা পাপড়ি না পরাই ভালো। হালকা টোনের ব্লাশ যেমন গোলাপি, পিচ এবং লাইট কালার লিপস্টিক যেমন নুড ব্রাউন, হালকা কমলা, নুড পিংক খুব মানাবে। সকালে আমরা কনটোরিং না করে ব্রনজার ব্যবহার করতে পারি। হাইলাইটারের ব্যবহার খুব কম হলেই ভালো লাগবে।

এবারের ঈদ গরম আর বৃষ্টির শেকলে বন্দী, তাই দুপুরের সময়টাতে বাড়িতেই থাকার চেষ্টা করুন। দুপুরে সামান্য ফাউন্ডেশনের পর পাউডার মেখে হালকা করে ব্লাশন বুলিয়ে নিন। ঠোঁটের পলবে দিন পছন্দের লিপস্টিক। চোখের সাজে ভিন্নতা আনতে শ্যাডো আর আইলাইনার দিতে পারেন। পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কানে আর গলায় ছোট গয়না আর হাতে আংটি পরতে পারেন।

 

ঈদের মূল আয়োজনটাই হয়ে থাকে সন্ধ্যা বা রাতে। তাই ঈদের রাতের সাজ নিয়ে একদমই ভাববেন না। রাতে নিজের ইচ্ছামতোই সাজুন। তবে খুব বেশি ভারী মেকআপ এ গ্রীষ্ম-বর্ষায় মানাবে না। তাই পরিমিত হালকা মেকআপ নেওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। মুখে, গলায় ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। সাজ বেশি সময় স্থায়ী করতে স্পঞ্জ পানিতে ভিজিয়ে মুখে চেপে ফাউন্ডেশন বসিয়ে নিন। মুখে দাগ থাকলে সহজে কনসিলার ব্যবহার করুন। এরপর হালকা করে ফেস পাউডার দিয়ে নিন। চোখে মাশকারা, আইলাইনার এবং গাঢ় রঙের শ্যাডো ব্যবহার করুন। রাতের মেকআপটা একটু ভারী করুন। ঠোঁটের লিপস্টিকের রঙের ক্ষেত্রেও একটু গাঢ় রংটাই বেছে নিন।

 

ঈদের সকালে ব্লো ড্রাই করে চুল ছেড়ে রাখলে ভালো দেখাবে। চাইলে বেঁধেও রাখতে পারেন। দুপুরে ঝুঁটি করতে পারেন, আবার চাইলে টুইস্ট করে বাঁধতে পারেন। ফ্রেঞ্চ বেণিও মানানসই। রাতের জমকালো সাজে চুল কোঁকড়া করে ছেড়ে রাখুন। সাজ যেহেতু হালকা, তাই ভারী গয়না আর মানানসই এক্সেসরিজ চেহারায় ছড়াবে ঈদ উৎসবের আমেজ।

 

ঈদের রাতে অথবা ঈদের পর দিন আমরা বেশির ভাগ সময় দাওয়াতে বা পার্টিতে যাই। পোশাকের ক্ষেত্রে আমরা বেছে নিতে পারি গাঢ় রং যেমন মেরুন, মেজেন্টা, নেভি ব্লুু, কালো ইত্যাদি রঙের সিল্ক, তসর বা কাতানের শাড়ি বা সালওয়ার-কামিজ। ধবধবে সাদা রঙের পোশাকের সঙ্গে গোল্ডেন বা সিলভার কালার ভারি গয়নাতেও যে কোনো পার্টিতে আপনি হয়ে উঠতে পারেন মনকাড়া সুন্দর। মেকাপের ক্ষেত্রে ওয়াটার প্রুফ লং লাস্টিং বেস মেকাপ রাতের পার্টিতে জরুরি। আমাদের স্কিন টোনের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশনের শেড বেছে নিতে হবে। দেখতে যেন অবশ্যই ন্যাচারাল লাগে। কনটোরিংয়ের জন্য আমরা গাঢ় বাদামি রং ব্যবহার করতে পারি। গোল্ড বা শ্যাম্পেইন কালার হাইলাইটার যে কোনো স্কিনে মানিয়ে যাবে। আমাদের স্কিনে সুন্দর গ্লো আনতেও এগুলোর জুড়ি নেই। রাতের সাজে আমরা আই মেকাপ ডিপ ব্রাউন বা ব্লাক স্মোকি করতে পারি। গোল্ড বা সিলভার গ্লিটার অথবা ড্রেসের সঙ্গে মিলিয়েও আই শেড নির্বাচন করতে পারি। তবে আজকাল নিউট্রাল কালারের আই শেড পিগমেন্ট যেমন কপার, ব্রঞ্জ, শ্যাম্পেইন ইত্যাদি রং ব্যবহৃত হচ্ছে যা চোখের সাজে খুবই গর্জিয়াস লাগে। রাতের মেকাপে আমরা স্মাজ করে কাজল পড়তে পারি। আলগা পাপড়ি, ভারি করে মাশকারা এবং চোখের ওয়াটার লাইনে নুড কাজল আমাদের চোখের সাজে ভিন্নতা আনবে। সব শেষে  সেটিং স্প্রে দিয়ে পুরো মুখ সেট করে নিতে হবে যেন লম্বা সময় আমাদের মেকাপ ঠিক থাকে। ঈদের দিন রাতের পার্টিতে আপনার হেয়ার স্টাইলিং হওয়া চাই আকর্ষণীয়। মেসি বান বা টেনে খোঁপা করে খোঁপার চারপাশে ফুল জড়িয়ে দিলেও খুব সুন্দর লাগবে। আজকাল লম্বা চুলে বিভিন্ন রকমের বেণি যেমন ফ্রেঞ্চ ব্রেইড, ডাচ ব্রেইড, ফোর স্টেন্ড ব্রেইড ইত্যাদি বেশ আকর্ষণীয় লাগে। ঈদের সাজ এমনই হওয়া উচিত যা আপনাকে স্বস্তি দেবে এবং আপনার ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলবে।


আপনার মন্তব্য