২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৭:০০

জার্মানিতে করোনা টিকার তৃতীয় ডোজ নিয়ে বিতর্ক

অনলাইন ডেস্ক

জার্মানিতে করোনা টিকার তৃতীয় ডোজ নিয়ে বিতর্ক

ফাইল ছবি

বিতর্ক সত্ত্বেও দুর্বল অ্যান্টিবডির কারণে বয়স্ক ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য করোনা টিকার তৃতীয় ডোজ দিতে শুরু করেছে জার্মানির কয়েকটি রাজ্য। এদিকে শিশু-কিশোরদের জন্য টিকার ছাড়পত্রের প্রস্তুতি চলছে।

দেরিতে হলেও জার্মানি তথা ইউরোপে করোনা টিকা কর্মসূচি যথেষ্ট গতি পেয়েছে। সেপ্টেম্বর মাস শুরু হবার আগেই ইউরোপের ৭০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ টিকার সব প্রয়োজনীয় ডোজ পেয়ে গেছেন। আসন্ন হেমন্ত ও শীতকালে করোনা মহামারি কার্যকরভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে আরও বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ চলছে।

এরই মাঝে শুরু হয়ে গেছে বয়স্ক মানুষের জন্য করোনা টিকার তৃতীয় ডোজ দেবার প্রক্রিয়া। তবে এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের মতামত ও পারস্পরিক সমন্বয়ের বদলে জার্মানির অনেক রাজ্য ‘একলা চলো রে’ নীতি গ্রহণ করছে। সেখানে আশির বেশি বয়সি ও দুর্বল ইমিউন সিস্টেমের সমস্যায় জর্জরিত মানুষদের অ্যান্ডিবডি শক্তিশালী করতে তৃতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। জার্মানির টিকা কমিশনের পরামর্শ ছাড়াই এমন বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন জার্মানির ডাক্তারদের সংঘের প্রধান ক্লাউস রাইনহার্ট।

তার মতে, নীতিগতভাবে এমন পদক্ষেপের পক্ষে কিছু যুক্তি থাকলেও বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের মতে, বেশিরভাগ টিকাপ্রাপ্তদের এখনই এমন বুস্টার ডোজের প্রয়োজন নেই। তাছাড়া ঠিক কখন, কাকে এমন বুস্টার ডোজ দেওয়া উচিত বা আদৌ সেটার প্রয়োজন আছে কিনা, সে বিষয়ে যথেষ্ট গবেষণার ফল এখনো পাওয়া যায়নি। সব তথ্য যাচাই করে জার্মানির টিকা কমিশন যত দ্রুত সম্ভব রায় দেবে বলে জানিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ দফতর ইসিডিসি বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এখনই করোনা টিকার বুস্টার ডোজের কোনো জরুরি প্রয়োজন নেই। একমাত্র দুর্বল ইমিউন সিস্টেমের কারণেই এমন ডোজ প্রয়োজন বলে এই দফতর মনে করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নীতিগতভাবে তৃতীয় ডোজের বিরোধিতা করছে। উন্নয়নশীল দেশগুলিতে করোনা টিকার অভাবের পরিপ্রেক্ষিতে এমন পদক্ষেপ কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। উল্লেখ্য, ফ্রান্সও বুধবার থেকে বয়স্ক ও দুর্বল মানুষের জন্য বুস্টার ডোজ দিতে শুরু করেছে।

করোনা টিকার বুস্টার ডোজের পাশাপাশি ১২ বছরের কম বয়সি শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা নিয়েও জার্মানিতে জোরালো আলোচনা চলছে। বিশ্বের কোথাও এখনো এই বয়সের মানুষের জন্য টিকার আবেদন করা হয়নি। বায়োনটেক-ফাইজার ও মডার্না কোম্পানি সম্ভবত অক্টোবর মাসেই সেই লক্ষ্যে ছাড়পত্রের আবেদন করতে পারে। কোনো নতুন টিকা নয়, বরং প্রচলিত টিকার ডোজে হেরফের করে ১২ বছরের কম বয়সি শিশু-কিশোরদের টিকা কর্মসূচির আওতায় আনতে চায় এই দুই কোম্পানি। তবে এখনো পর্যন্ত যথেষ্ট সংখ্যক শিশু কিশোরের উপর ক্লিনিকাল ট্রায়াল না হওয়ায় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা ঝুঁকি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

ফলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, যথেষ্ট সংখ্যক শিশু-কিশোর টিকা নেবার পরই সে বিষয়ে সার্বিক ধারণা পাওয়া যাবে। ২০২২ সালে শিশু-কিশোরদের করোনা টিকা দেওয়া শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব বয়সের মানুষ টিকার আওতায় এলে করোনা সংকটের চূড়ান্ত অবসানের আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন 

এই বিভাগের আরও খবর