শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ মে, ২০১৮ ২৩:০১

শান্তিনিকেতনে হচ্ছে বাংলাদেশ ভবন

অনিতা চৌধুরী, কলকাতা

শান্তিনিকেতনে হচ্ছে বাংলাদেশ ভবন

পরিকল্পনার খুব বড়সড় রদবদল না হলে এ মাসেই উদ্বোধন হতে চলেছে শান্তিনিকেতনের মাটিতে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব ঠিকানা— বাংলাদেশ ভবন।

বিগত মাসে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কিছু প্রতিনিধি দল কলকাতা  ও শান্তিনিকেতনে বারকয়েক ভ্রমণ করেছেন উদ্বোধনসংক্রান্ত কাজকর্মের তদারকির জন্য। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির আলোচনার ফসল এই বাংলাদেশ ভবন। আমরা আশা করছি, দুই দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী— নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে থাকবেন, জানিয়েছেন বিশ্বভারতীর এক কর্মকর্তা। তার মতে, চলতি মাসে বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে নরেন্দ্র মোদি আসছেন এবং ওই সময়ই উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে। ‘বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন শুধুই সময়ের অপেক্ষা,’ জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। সম্প্রতি বাংলাদেশ ভবনের শেষ পর্যায়ের কাজ খতিয়ে দেখতে বিশ্বভারতীতে বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি দল সফরে আসেন। বিশ্বভারতীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তারা ভবনের সৌন্দর্যায়নের জন্য বেশকিছু প্রস্তাব দেন এবং সে অনুযায়ী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেজে উঠছে বাংলাদেশ ভবন। ‘দুই দেশের গবেষক, যারা রবীন্দ্রনাথ ও বাংলাদেশ নিয়ে গবেষণা করবেন, তাদের জন্য এক উন্নতমানের প্রতিষ্ঠান হবে এই বাংলাদেশ ভবন,’ জানিয়েছেন আসাদুজ্জামান নূর।

বিশ্বভারতীর শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রী মহলে বাংলাদেশ ভবন নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট উত্তেজনা। ‘এখানে চীনা ভবন রয়েছে, রয়েছে জাপান ভবন, আর এবার আমরা পাব বাংলাদেশ ভবন। একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি গর্বিত,’ জানিয়েছেন ফ্লোরিডা রোজারিও, বিশ্বভারতীতে সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার ২৫ কোটি টাকা অনুদান দেয় বাংলাদেশ ভবনের জন্য। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনের যে সেতু রয়েছে, তাকে আরও মজবুত করে তোলা। প্রায় ৪ হাজার বর্গফুটের ওপর গড়ে ওঠা বাংলাদেশ ভবনে থাকছে একটি সংগ্রহশালা, যার বিষয় হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও দর্শন এবং বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের স্মৃতিবিজড়িত সামগ্রী। এ ছাড়া আছে একটি গ্রন্থাগার ও অত্যাধুনিক সাংস্কৃতিক মঞ্চ। ‘বাংলাদেশ ভবন হতে চলেছে শান্তিনিকেতনের নবতম আকর্ষণ,’ জানালেন এক বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা। তিনি জানান, ‘বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।’


আপনার মন্তব্য