Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ মে, ২০১৯ ২৩:৪১

জাহালমের মামলা চলতে বাধা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাহালমের মামলা চলতে বাধা নেই

বিনা অপরাধে জাহালমের তিন বছর জেল খাটা ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে রুল শুনানির ক্ষেত্রে হাই কোর্টের একটি বেঞ্চের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে দুদকের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গতকাল প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। এ আদেশের ফলে বিচারপতি নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি  কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চেই এ সংক্রান্ত রুলের শুনানিসহ যাবতীয় কার্যক্রম চলতে বাধা থাকল না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী। আপিল বিভাগে সোমবার জাহালমের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এম আমিনউদ্দিন। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশিদ আলম খান। হাই কোর্টে বিষয়টি নজরে আনা আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্তও এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে অমিত বলেন, ভুক্তভোগী জাহালম আগে এ মামলায় পক্ষভুক্ত ছিলেন না। তিনিও এখন পক্ষভুক্ত হয়েছেন। শুনানিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাজ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী খুরশিদ আলম খানকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন। আপনারা কোর্টের বিরুদ্ধেও মামলা করেন। যা ইচ্ছা তা করেন। কোর্টের বিরুদ্ধে মামলা করতে আসেন। আপনারা কি হস্তক্ষেপ করছেন?’ শুনানিতে জাহালমের আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন আদালতকে বলেন, ‘একজন মিলের শ্রমিক আঠারো কোটি টাকা লোন নিয়েছে। তাকে (জাহালম) সাড়ে তিন বছর জেলে রাখা হয়েছে। এর ক্ষতিপূরণ কে দেবে?’

 সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তাদের ভুলে সালেকের বদলে তিন বছর ধরে কারাগারে কাটাতে হয় টাঙ্গাইলের জাহালমকে। এ বিষয়ে জানুয়ারির শেষ দিকে একটি জাতীয় দৈনিক ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেটি সেদিন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত। এরপর ২৮ জানুয়ারি হাই কোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে দুদকের ব্যাখ্যা জানতে কমিশনের চেয়ারম্যানের মনোনীত প্রতিনিধিসহ চারজনকে তলব করে। কারাগারে থাকা ‘ভুল’ আসামি জাহালমকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হবে না এবং তাকে মুক্তি দিতে কেন ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত একটি রুলও জারি করা হয়। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দুঃখ প্রকাশ করে ভুলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আদালতের আদেশে ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম। পাটকল শ্রমিক জাহালমের তিন বছর কারাগারে থাকার ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতি ছিল কি না- তা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি করে দুদক। তবে হাই কোর্টে দুদকের পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের ওপর দায় চাপিয়ে বলা হয়, ব্যাংকগুলোর অনুসন্ধান প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করেই দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা অভিযোগপত্র দিয়েছিলেন। কিন্তু দুদকের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে ৩৩টি মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর), অভিযোগপত্রসহ (সিএস) যাবতীয় নথি তলব করে হাই কোর্ট। এরপর দুদক গত ২১ এপ্রিল হাই কোর্টের ওই বেঞ্চের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে চেম্বার আদালতে যায়। দুদকের যুক্তি ছিল, হাই কোর্টে দুদকের মামলা শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ রয়েছে। যে বেঞ্চ রুল দিয়েছে, দুদকের মামলা শোনার এখতিয়ার সেই বেঞ্চের নেই। ওই আবেদনের শুনানি করে চেম্বার আদালত রুল শুনানিসহ এ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম ১৩ মে পর্যন্ত স্থগিত করে দেয়। পাশাপাশি বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল দুদকের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দিল।


আপনার মন্তব্য