শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৫৬

দুদকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

সফলতা আছে, ব্যর্থতা আছে : ইকবাল মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সফলতা আছে, ব্যর্থতা আছে : ইকবাল মাহমুদ

দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে দুদক নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেছেন, সফলতা যেমন আছে, তেমনি ব্যর্থতাও আছে। সীমাবদ্ধতার কারণে হয়তো কাক্সিক্ষত মাত্রায় সফলতা আসেনি। এর পরও প্রাপ্তি একেবারে কম নয়। আজ ২১ নভেম্বর দুদকের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে গতকাল গণমাধ্যমের সঙ্গে সেগুনবাগিচায় নিজ কার্যালয়ে কথা বলেন     দুদক চেয়ারম্যান। ইকবাল মাহমুদ বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে অনুসন্ধান হয়। প্রমাণ পাওয়া না গেলে সেই অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয় বা পরিসমাপ্তি হয়। কিন্তু নথিভুক্ত করার মানে দায়মুক্তি হতে পারে না। নতুন করে অভিযোগ উঠলে আবারও অনুসন্ধান হবে, সেটাই স্বাভাবিক। আর অভিযোগের প্রমাণ মিললে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুদক সেভাবেই কাজ করে। তিনি বলেন, দুর্নীতিবিরোধী যে কোনো অভিযানকেই স্বাগত জানায় দুদক।

তবে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদক তার নিজস্ব পন্থাতেই কাজ করছে।

 যারাই দুর্নীতি করবে, তাদেরই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। দুর্নীতিবাজদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে কিনা এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, স্বাভাবিকভাবেই দুর্নীতিবাজদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৫৯ জনের তালিকা হয়েছে। এই তালিকা আরও দীর্ঘ হবে, হচ্ছে। তবে তালিকায় যাদের নাম এসেছে তাদের সবাই দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত হবে কিনা, তা এখনই বলা যাবে না। অনুসন্ধান, তদন্ত শেষেই শুধু এ বিষয়ে বলা সম্ভব।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক চার শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। সংখ্যাটা কম নয়। আর ব্যাংক হিসাব জব্দ করার ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তাদের বিষয়ে জানতে চাই। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যানসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে আমরা তথ্য চেয়েছি। তথ্য পাওয়ার পর এ নিয়ে পর্যালোচনা হবে। যাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে আমাদের তৈরি করা তালিকাও মিলিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, ব্যক্তির রাজনৈতিক, সামাজিক বা পেশাগত পরিচয় দুদকের কাছে বিবেচ্য বিষয় না। কেউ যদি সংবিধান লঙ্ঘন করে কালো টাকা বা অবৈধ সম্পদ অর্জন বা পেশিশক্তি ব্যবহার করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে, তাহলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। দুদকের কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলেই তাকে নোটিস পাঠায় না দুদক। খতিয়ে দেখা হয়। অনেক অভিযোগ ভিত্তিহীনও প্রমাণ হয়। আমরা যথেষ্ট খোঁজ নিয়ে কাজ করছি। আমাদের কর্মকর্তারা প্রয়োজনে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তার কাছেও যাচ্ছেন। সব কিছু ত্রুটিমুক্তভাবে করার চেষ্টা হচ্ছে। এটি একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত করতে আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মামলা হলে চার্জশিট পর্যন্ত যেতে হবে। যার বিরুদ্ধে মামলা, তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

এর আগে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাস একই সূত্রে গাঁথা। মাদকের গডফাদারদের তালিকা আমাদের হাতে আছে। তালিকায় যাদের নাম আছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গডফাদাররা ছাড় পাবে না। তিনি বলেন, মাদকের বিস্তৃৃতি নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে উদ্বিগ্ন। কারণ মাদক সমাজকে ধ্বংস করে। এটি রাষ্ট্রের মানবসম্পদ উন্নয়নে অন্যতম বাধা। মাদকাসক্ত মানুষ দিয়ে দেশ এগোবে না। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, মাদকদ্রব্য অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবস্থাপনায়ও কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটির কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সমাজে অনেক আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি-নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতারও অভিযোগ রয়েছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। নিজেদের মাইন্ডসেট পরিবর্তন না করতে পারলে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক সঞ্জয় কুমার চক্রবর্তী প্রমুখ।

আজ দুদকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালে দুদক প্রতিষ্ঠিত হয়। ২১ নভেম্বর একজন চেয়ারম্যান ও দুজন কমিশনারের যোগদানের মাধ্যমে দুদক যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আজ বিকাল ২টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে কমিশনের জনসংযোগ কার্যালয় জানিয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ অনুসারে এই কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের দুর্নীতি দমন, নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ এবং সমাজে সততা ও নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টির দায়িত্ব এই আইনের মাধ্যমে দুদকের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। কমিশন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।


আপনার মন্তব্য