শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:২১

আমি সুব্রত বাইন বলছি

মির্জা মেহেদী তমাল

আমি সুব্রত বাইন বলছি

প্রকৌশলী আহমেদের মোবাইল ফোন বেজে ওঠে। ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে বলে উঠল, হ্যালো, আমি সুব্রত বলছি। আহমেদ চিনতে না পেরে বললেন, কোন সুব্রত? আরে কয়জন সুব্রতরে চিনেন? সুব্রত বাইন। এবার চিনছেন? প্রকৌশলী আহমেদের কাছে সুব্রত বাইন নামটা পরিচিত। পত্রপত্রিকায় দেখেছেন। শীর্ষ সন্ত্রাসী শুধু নয়, ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী। সেই সন্ত্রাসী তাকে ফোন দিয়েছে। ভয়ে তার বুক কাঁপতে শুরু করে। সুব্রত বাইনের এবার সোজা-সাপটা কথা- ‘ওই ইঞ্জিনিয়ার, মাল তো কম কামাও না। এবার একটু ছাড়ো। আমার পোলাপান সমস্যায় আছে। এরই মধ্যে আমার কিছু ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় হাসপাতালে। ১৫ লাখ টাকা দরকার। ১০ লাখ সংগ্রহ হয়েছে। বাকিটা আপনি দিবেন। টাকা না দিলে বিপদে পড়বেন।’ সেই সুব্রত বাইনের সঙ্গে হাজার পাঁচেক টাকায় দফারফা করেছেন প্রকৌশলী আহমেদ। একটি বিকাশ নম্বরে টাকা দিয়ে হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন।

কখনো সুব্রত বাইন, কখনো কালা, কখনো বা আরমান। দেশের বাইরে থাকা এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে রাজধানীতে চলছে চাঁদা-দাবি। সুব্রত-শাহাদত কারও সঙ্গেই এদের কখনো দেখা না হলেও কথিত এসব সন্ত্রাসী ফোনে নিজেরাই শীর্ষ সন্ত্রাসী পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করছে। তাদের টার্গেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, এমনকি রাজনীতিবিদরাও। এমন এক প্রতারক চক্রকে আটক করেছে পুলিশ। এরকম ঘটনার শিকার একজন রাজনীতিবিদ জানান, তারা প্রথমে ফোন করেই পরিচয় নিশ্চিত হয়। তারপর আমাকে বলে আমি শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন বলছি। আমার লোকজন আপনার কাছে যাবে, যা চাইবে তা দিয়ে দিবেন। তা না হলে আপনাকে ছাড়ব না। আন্ডারওয়ার্ল্ড কাঁপানো শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের নামে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবির ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, আমি যখন জিডি করি তখনো শুনেছি যে তারা এমনভাবে প্রতারণা করে তাদের ধরা সম্ভব হয় না। আমি অনেক হুমকি পেয়েছি, তাই এটি আমার কাছে নতুন কিছু নয়। তারা শুধু চাঁদাবাজির জন্য নয়, ভয়ভীতি এবং আতঙ্কের জন্যও এসব করে থাকে। এরকম নানা অভিযোগ বা জিডি হওয়ার পর তদন্তে নামে ডিবির সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। ধরা পড়ে তিন কথিত সন্ত্রাসী। নিজেদের সুব্রত বাইন, আরমান কিংবা শাহাদাৎ দাবি করলেও কেউই আসল নন। তাদের সঙ্গে পুলিশের তালিকায় থাকা এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীর কখনো দেখাও হয়নি। সীমান্তবর্তী বেনাপোল ও দিনাজপুর থেকে ভারতীয় মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ফোন দিয়ে থাকেন তারা। পুলিশ বলছে, এই চক্রটি ৪-৫ বছর ধরে এভাবেই চাঁদাবাজি করে আসছিল। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দেশে শীর্ষ সন্ত্রাসী বলে এখন আর কেউ নেই। এ ছাড়া যেসব সন্ত্রাসী দেশের বাইরে অবস্থান করছে তাদের বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। অনেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের নাম নিয়ে চাঁদাবাজি করে থাকে। অতএব এমন ফোন পাওয়ার পর কোনো ভয় না পেয়ে পুলিশকে জানাতে হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর