শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:১৭

বাহারি টুপি যাচ্ছে বিদেশে

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

বাহারি টুপি যাচ্ছে বিদেশে
টুপি বানানোয় ব্যস্ত গ্রামের নারীরা -বাংলাদেশ প্রতিদিন

করোনাকালে সময়ে বন্ধ রয়েছে স্কুল-কলেজ। তাই এই অবসরে টুপি তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার চালাপাড়া গ্রামের স্নাতক পড়ুয়া শিক্ষার্থী শাম্মি আকতার ও ছাবিনা খাতুনের। শুধু তারাই নন, তাদের মতো শিক্ষার্থী জনি খাতুন, গোলাপী খাতুন, আয়েশা আকতারও এখন ঘরে বসে টুপি তৈরি করে আয় করছেন। তাদের পাশাপাশি গৃহবধূরাও সংসারের কাজকর্ম সেরে টুপি তৈরি করে সাংসারে বাড়তি আয় করছেন। তবে টুপি তৈরি করতে কোনো প্রশিক্ষণের প্রয়োজন না পড়ায় গ্রামাঞ্চলের নারীদের কাছে এটা একটা পেশায় পরিণত হয়েছে। টুপির কাজ করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়েছে এখানকার সহস্রাধিক পরিবার।

টুপি তৈরি করতে ব্যবহৃত হয় সুতা ও কুরুশকাঁটা। সুতা ও কুরুশকাঁটা পাইকাররা সরবরাহ করে থাকেন। আবার পাইকাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রামীণ নারীদের হাতের তৈরি এসব টুপি ক্রয় করে রাজধানীর চকবাজার, বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন। সেখান থেকে বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে রপ্তানি করা হয় বগুড়ার টুপি। যদিও বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় টুপির চাহিদা বেশি থাকে, তবে সারা বছরই ক্রেতাদের কাছে সমাদৃত এই টুপি। তাই সারা বছরই টুপি তৈরির কাজ করেন ধুনট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক নারী ও শিক্ষার্থী।

ধুনট উপজেলার চালাপাড়া গ্রামের স্নাতক পড়ুয়া শিক্ষার্থী শাম্মি আকতার ও সুবর্ণা খাতুন জানান, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় টুপি তৈরিতে বেশি ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের। আর টুপি তৈরি করে ঘরে বসেই আয় করছেন তারা। টুপির টাকা দিয়ে অনেক দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ার খরচও চালাচ্ছে।

তারা জানান, ৬০ টাকা দামের ১ ডলার সুতা দিয়ে বিভিন্ন ডিজাইন অনুযায়ী ২০ থেকে ২২টি টুপি তৈরি করা যায়। প্রতিটি টুপি প্রকারভেদে বিভিন্ন নামের বিভিন্ন দামের হয়ে থাকে। যেমন ছত্রিশ ফুল টুপি ৯০ টাকা, তারা টুপি ১০০ টাকা, ফ্যান টুপি ৮৫ টাকা, পানির পোকা টুপি ৭০ টাকা, গুটি ফুল টুপি ৩৫ টাকা, দশ ফুল টুপি ৮০ টাকা, স্টার ফুল টুপি ৮০ টাকা ও লাউ ফুল টুপি ৭০ টাকায় পাইকাররা ক্রয় করে থাকেন। গোপালনগর গ্রামের গৃহবধূ রোজিনা আকতার ও চম্পা বেগম জানান, এই উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামেই টুপি তৈরির কাজ হয়। গ্রামের নারীরা সংসারের কাজকর্ম সেরে অবসর সময়ে আশপাশের বাড়ির সবাই একত্র হয়ে বসে খোশগল্প করেন আর টুপি তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন। আবার অনেকে সুযোগ পেলেই ঘরে বসে টুপি তৈরি করেন। টুপি তৈরি করে প্রতি মাসে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় করেন তারা।

 এতে তাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে বলে তারা জানান। চৌকিবাড়ী গ্রামের পাইকারি টুপি ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান, প্রতি সপ্তাহে গ্রামে গ্রামে সুতা ও কুরুশকাঁটা সরবরাহ করতে হয়। পরের সপ্তাহে টুপি কিনে আনেন। প্রতিটি টুপির দাম ডিজাইন ও প্রকারভেদে ৩৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত হয়। তবে আগে শুধু এক ডিজাইনের টুপি তৈরি হতো। এখন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টুপিরও বাহারি নাম ও ডিজাইন দেওয়া হয়েছে। নতুন এসব ডিজাইন দেখলেই গ্রামের নারীরা টুপি তৈরি করে দিতে পারেন। তবে এ জন্য তাদের কোনো প্রশিক্ষণ নিতে হয় না। তাই ঘরে বসেই গ্রামীণ নারীরা বাড়তি আয় করতে পারছেন। তাদের হাতের তৈরি টুপি সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর