শিরোনাম
মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা
অষ্টম কলাম

আওয়ামী লীগের সভায় ব্যারিস্টার সুমন যোগ দেওয়ায় হট্টগোল

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভায় নবনির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের যোগ দেওয়া নিয়ে হট্টগোল হয়েছে। এ ঘটনায় লাঞ্ছিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সাথী মুক্তাদির চৌধুরী কৃষাণ। পরে ব্যারিস্টার সুমন ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের আগমন উপলক্ষে রবিবার বিকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন জিতুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কে এম আনোয়ার আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সভায় ব্যারিস্টার সুমনের বক্তব্যের আগ মুহূর্তে বিরূপ মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ নেতা সাথী মুক্তাদির চৌধুরী কৃষাণ। এ নিয়ে ব্যারিস্টার সুমনের সমর্থক ও কর্মীরা প্রতিবাদ করলে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সভার এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাথী মুক্তাদির চৌধুরী কৃষাণ চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আকবর হোসেন জিতুর কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন আওয়ামী লীগের কেউ নন। তাঁকে দল এখনো গ্রহণ করেনি। এমন পরিস্থিতিতে দলের বর্ধিত সভায় তাঁকে ডাকা হলো কেন?। বর্ধিত সভায় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের যে মতবিনিময় সভার আহ্বান করা হয়েছে, সেটি দলীয় কোনো সভার সিদ্ধান্ত ছিল কি না? ব্যারিস্টার সুমনকে দল (আওয়ামী লীগ) গ্রহণ করেছে কি না? না হয়ে থাকলে তাঁর সঙ্গে মতবিনিময় কেন?’ সাংস্কৃতিক সম্পাদকের ওই প্রশ্নের পরপরই নেতা-কর্মীরা হট্টগোল শুরু করেন। সূত্র জানায়, হট্টগোল শুরুর পর সভাপতি আকবর হোসেন নেতা-কর্মীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। জেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তে আজকের সভা আহ্বান করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এ ছাড়া সংসদ সদস্য নিজেও সবার সঙ্গে মতবিনিময় করতে চেয়েছিলেন। এরপর নেতা-কর্মীরা হট্টগোল করেন। একপর্যায়ে সুমন নিজেই মাইক নিয়ে নেতা-কর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই আমার অভিভাবক। এখানে অনেক নেতা আছেন, যাঁদের রাজনীতির অভিজ্ঞতা আমার বয়সের চেয়ে বেশি। আমি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হলেও আওয়ামী লীগের কর্মী। নেত্রীর কথা অনুযায়ী প্রার্থী হয়েছি। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আপনাদের সঙ্গে আজ মতবিনিময় করতে এসেছি।’ তাঁর বক্তব্যের সময় নেতা-কর্মীরা একে-অপরের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে থাকেন। পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আবদুল  কাদির লস্কর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তাহের, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক সরকার, উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি আবেদা খাতুন প্রমুখ। মুক্তাদির চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের সভায় ব্যারিস্টার সুমন এমপি উপস্থিত হন। সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রজব আলীর নেতৃত্বে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। রজব আলী সংসদ নির্বাচনে সায়েদুল হকের পক্ষে কাজ করেছেন। এ ব্যাপারে চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী বলেন, ‘সভায় মুক্তাদির চৌধুরী এমপি সুমনকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় উপস্থিত অনেকেই তার দিকে তেড়ে যান। তবে যারা হট্টগোল করেছেন, তার দিকে তেড়ে গেছেন- তারা কেউই আওয়ামী লীগের পদধারী নন। অনেকেই ব্যারিস্টার সুমনের সমর্থক ও কর্মী।’

 

 

সর্বশেষ খবর