শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ জুন, ২০১৯ ১৩:০৩
আপডেট : ১১ জুন, ২০১৯ ১৩:১০
প্রিন্ট করুন printer

গত ২০ বছরে বাংলাদেশে হৃদরোগে মৃত্যুর হার বেড়েছে ৪৭গুন

বাংলাদেশে ক্রমশই বাড়ছে হৃদরোগের সংখ্যা

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশে ক্রমশই বাড়ছে হৃদরোগের সংখ্যা
ডা. আফজালুর রহমান

গত ২০ বছরে হৃদরোগে মৃত্যুর হার বাংলাদেশি পুরুষের ক্ষেত্রে ৩২ গুণ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৪৭ গুণ বেড়েছে। সবচেয়ে আতঙ্কের ব্যাপারটি হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা বাড়ছে।

গবেষণায় এমনটা দেখা গেছে বলে জানান, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান।

ডা. রহমান মনে করেন, তরুণ প্রজন্মের বসে থাকা, বসে কাজ করা, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন, খাবারে ভেজাল, মানসিক চাপ সহ নানা কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের হার খুব দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

বিশ্ব জুড়ে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কার্ডিওভাসকুলার রোগে মারা যায়, যা বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর ৩১ শতাংশ। এই মৃত্যুর মধ্যে ৮৫ শতাংশ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের কারণে হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে করোনারি হৃদরোগের কারণে তিন চতুর্থাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে হৃদরোগের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বিপজ্জনক যা প্রায় ১৪.৩১ শতাংশ। 

সারাবিশ্বে নারী ও পুরুষের মধ্যে বর্তমানে সর্বাধিক মৃত্যুর কারণ বলে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকে মনে করা হচ্ছে। ব্লক হয়ে যাওয়া ধমনী হৃদযন্ত্রের একাংশে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে হার্ট অ্যাটাক হয়। যদি ব্লক হয়ে যাওয়া ধমনীকে দ্রুত পুনরায় চালু করা না যায়, তাহলে সেই ধমনী দ্বারা চালিত হৃদযন্ত্রের অংশটি কর্ম অক্ষম হতে শুরু করে। বুকে ব্যাথা, তীব্রতা/বুকের ভিতরে চাপ অনুভব, বমি বমি ভাব, বুক জ্বালা ইত্যাদি লক্ষণগুলি ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এবং হার্ট অ্যাটাকের আগে বেশ কয়েক ঘণ্টা, দিন কিংবা সপ্তাহের জন্য চলতে থাকে। 
ডা. রহমান আরও জানান, মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না। হৃদযন্ত্রের একাংশে রক্তপ্রবাহ আটকে গেলে, সাধারণ রক্ত জমাট বেঁধে গেলে হার্ট অ্যাকাট হয়। স্ট্রোক হল ব্রেন বা মন্তিষ্কের অ্যাটাক, যেখানে অত্যাবশ্যক রক্তপ্রবাহ আর অক্সিজেন প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। মস্তিষ্কে চলাচলকারী কোন একটি ব্লাড ভেসেল বা রক্তবাহ জমাট বেঁধে গেলে বা ফেটে পড়লে স্ট্রোক হয়। অন্যদিকে, হৃদযন্ত্র অস্বাভাবিক ছন্দে চলতে শুরু করলে এবং হঠাৎ করে অচল হয়ে পড়লে আকস্মিক কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এক কথায় বলা যায় যে, হার্ট অ্যাটাক হল সংবহন-এর সমস্যা আর আকস্মিক কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হল একটি ইলেক্ট্রিক্যাল সমস্যা।

বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর ১১.৮ শতাংশ স্ট্রোকের কারণে হয়ে থাকে, যে কারণে বিশজুড়ে হৃদরোগের পরেই স্ট্রোক হয়ে উঠেছে দ্বিতীয় সর্বাধিক মৃত্যুর কারণ।

কখনও কখনও, হাত থেকে শরীরের বাম দিকে নীচের অংশ পর্যন্ত একটা উপসর্গমূলক ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে যা বিপদের লক্ষণ। বুকে ব্যাথা কিংবা চাপ অনুভূতি যদি গলা কিংবা চোয়াল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে তাহলে তা হল হার্ট অ্যাটাকের স্পষ্ট লক্ষণ।  
 
এছাড়াও, যারা নিয়মিত কাজ যেমন সিঁড়ি চড়া, দ্রুত হাটা-হাটি ইত্যাদির পর খুব আকস্মিক ক্লান্ত কিংবা জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন, তাদের অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান পরামর্শ দেন, ‘প্রধানত জীবনযাপনের সমস্যা আর মধ্য বয়সের শুরুতেই মানসিক চাপের কারণে এমনকী তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের হার খুব দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উচ্চ ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরলের মাত্রা আর অস্বাভাবিক মাত্রায় রক্তচাপের ফলে হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন ব্যধি ঘটে যা অনেকটাই একটা সক্রিয়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য সংক্রান্ত শৃঙ্খলা, দৈনিক ফিটনেস অভ্যাস, ধূমপান, মদ্য জাতীয় অথবা অন্যান্য মাদক দ্রব্য সেবন ত্যাগ করা। পরিবারে হৃদরোগের নমুনা থাকা ব্যক্তিদের আর যারা হৃদরোগ প্রবণ তাদের নিয়মিত ব্যবধানে মেডিক্যাল চেকআপ করাতে হবে’।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০৮:১৮
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:২৪
প্রিন্ট করুন printer

তারুণ্য ধরে রাখতে চিরতার গুরুত্ব অপরিসীম

অনলাইন ডেস্ক

তারুণ্য ধরে রাখতে চিরতার গুরুত্ব অপরিসীম

চিরতার রয়েছে নানান গুণ। ইউনানী চিকিৎসা অনুযায়ী চিরতা হৃৎপিণ্ড ও যকৃতের সবলকারক, চোখের জ্যোতিবর্ধক ও জ্বর রোগে বিশেষ উপকারী এই চিরতা। 
নিম্নে চিরতার উপকারিতা ও গুণাগুণ সম্পর্কে আলোচনা করা হল-

শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

নিয়মিত তিতা খাবার খেলে অসুখ হওয়ার প্রবণতা কম থাকে। চিরতা এরমধ্যে অন্যতম।
চিরতা খেলে যেকোনো কাটা, ছেঁড়া, ক্ষতস্থান দ্রুত শুকায়।

ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য চিরতা জরুরি পথ্য। চিরতার রস দ্রুত রক্তে চিনির মাত্রা কমিয়ে দেয়।

উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল, উচ্চরক্তচাপ, অতি ওজন বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্যও চিরতা দরকারি।

টাইফয়েড জ্বর হওয়ার পর আবারও অনেকের প্যারাটাইফয়েড জ্বর হয়। তাই টাইফয়েড জ্বরের পরে চিরতার রস খেলে যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়।

চিরতার রস কৃমিনাশক।

তারুণ্য ধরে রাখতেও চিরতার গুরুত্ব অপরিসীম।

শরীরের ঝিমুনিভাব, জ্বরজ্বর লাগা দূর করে চিরতার রস।

চিরতা রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে।

যাদের ডায়াবেটিস নেই কিন্তু রক্তে চিনির পরিমাণ সবসময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে, তাদের জন্য চিরতা গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:০১
প্রিন্ট করুন printer

'শূককীট' খাবারের জন্য নিরাপদ!

অনলাইন ডেস্ক

'শূককীট' খাবারের জন্য নিরাপদ!

ইউরোপ মানব খাবারের নিরাপদ উৎস হিসেবে মেলওয়ার্ম (পতঙ্গের শূককীট) খাওয়া যেতে পারে বলে সবুজ বাতি দেখিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়ে গেলে খাবারের কীটগুলো বিক্রি হতে পারে কিছু খাবারের উপাদান।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের খাদ্য সুরক্ষা সংস্থা কর্তৃক পোকামাকড় মানুষের সেবার জন্য নিরাপদ বলে প্রমাণিত হওয়ার পরে খুব শিগগিরই বিস্কুট, পাস্তা এবং বার্গার ইউরোপজুড়ে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হতে পারে। সুপার মার্কেটের তাক এবং রান্নাঘরের জন্য উপযুক্ত পণ্য হিসেবে হলুদ খাবারের পোকা কয়েক মাসের মধ্যেই ইউরোপে অনুমোদন পেতে পারে।

পোকার মূল উপাদান হলো প্রোটিন, ফ্যাট এবং ফাইবার। শুকনো হয়ে গেলে ম্যাগগোট জাতীয় পোকায় চিনাবাদামের মতো প্রচুর স্বাদ পাওয়া যায়। 

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এটি গ্রাহকদের খাদ্য তালিকায় মানিয়ে নিতে সময় নিতে পারে। সূত্র: সিএনএন

বিডি প্রতিদিন/অন্তরা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি, ২০২১ ০৮:১৫
আপডেট : ২২ জানুয়ারি, ২০২১ ০৮:১৬
প্রিন্ট করুন printer

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পাথরকুচি পাতা

অনলাইন ডেস্ক

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পাথরকুচি পাতা

চিকিৎসার ক্ষেত্রে যেসব ঔষধি গাছ প্রাচীন কাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে তার মধ্য পাথরকুচি অন্যতম। এটি দেড় থেকে দুই ফুট উঁচু হয়। পাতা মাংসল ও মসৃণ, আকৃতি অনেকটা ডিমের মতো। চারপাশে আছে ছোট ছোট গোল খাঁজ। এই খাঁজ থেকে নতুন চারার জন্ম হয়। অনেক সময় গাছের বয়স হলে ওই গাছের খাঁজ থেকে চারা গজায়। পাথরকুচি পাতা মাটিতে ফেলে রাখলেই অনায়াসে চারা পাওয়া যায়। কাঁকর মাটিতে সহজেই জন্মে। তবে ভেজা, স্যাঁতসেঁতে জায়গায় দ্রুত বাড়ে।

গ্রামীণ চিকিৎসার মধ্যে এটি অন্যতম উপকারী। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদেন মতে, পাথরকুচি পাতা কিডনি রোগসহ বিভিন্ন রোগের বিশেষ উপকারে আসে। তবে আর দেরি না করে চলুন জেনে নেই পাথরকুচি পাতার অবিশ্বাস্য ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে।

১. কিডনির পাথর অপসারণ
পাথরকুচি পাতা কিডনি এবং গলগণ্ডের পাথর অপসারণ করতে সাহায্য করে। দিনে দুবার ২ থেকে ৩টি পাতা চিবিয়ে অথবা রস করে খান।
২. পেট ফাঁপা
অনেক সময় দেখা যায় পেটটা ফুলে গেছে, প্রসাব আটকে আছে, আধোবায়ু, সরছে না, সেই ক্ষেত্রে একটু চিনির সাথে এক বা দুই চা-চামচ পাথর কুচির পাতার রস গরম করে সিকি কাপ পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। এর দ্বারা মূত্র তরল হবে, আধো বায়ুরও নিঃসরণ হবে, ফাঁপাটাও কমে যাবে।

৩. রক্তপিত্ত
পিত্তজনিত ব্যথায় রক্তক্ষরণ হলে দু’বেলা এক চা-চামচ পাথর কুচির পাতার রস দুদিন খাওয়ালে সেরে যাবে।

৪. মৃগী
মৃগী রোগাক্রান্ত সময়ে পাথর কুচির পাতার রস ২-১০ ফোঁটা করে মুখে দিতে হবে। একটু পেটে গেলেই রোগের উপশম হবে।

৫. সর্দি
সর্দি পুরান হয়ে গেছে, সেই ক্ষেত্রে এটি বিশেষ উপকারী। পাথরকুচি পাতা রস করে সেটাকে একটু গরম করতে হবে এবং গরম অবস্থায় তার সাথে একটু সোহাগার খৈ মেশাতে হবে। তিন চা-চামচের সাথে ২৫০ মিলিগ্রাম যেন হয়। তা থেকে দুই চা চামচ নিয়ে সকালে ও বিকালে দুবার খেলে পুরান সর্দি সেরে যাবে এবং সর্বদা কাশি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

৬. শিশুদের পেট ব্যথায়
শিশুর পেটব্যথা হলে, ৩০-৬০ ফোঁটা পাথর কুচির পাতার রস পেটে মালিশ করলে ব্যথার উপশম হয়। তবে পেট ব্যথা নিশ্চিত হতে হবে।

৭. ত্বকের যত্ন
পাথরকুচি পাতায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। সাথে সাথেই এর মধ্যে জ্বালাপোড়া কমানোর ক্ষমতা থাকে। যারা ত্বক সম্বন্ধে সচেতন, তারা পাথরকুচি পাতা বেটে ত্বকে লাগাতে পারেন। ব্রণ ও ফুস্কুড়ি জাতীয় সমস্যাও দূর হয়ে যাবে।

৮. কাটাছেঁড়ায়
টাটকা পাতা পরিমাণ মত হালকা তাপে গরম করে কাটা বা থেতলে যাওয়া স্থানে সেক দিলে আরাম পাওয়া যায়।

৯. পাইলস
পাথরকুচি পাতার রসের সাথে গোল মরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস ও অর্শ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

১০. জন্ডিস নিরাময়ে
লিভারের যেকোনো সমস্যা থেকে রক্ষা করতে তাজা পাথরকুচি পাতা ও এর জুস অনেক উপকারী।

১১. কলেরা, ডাইরিয়া বা রক্ত আমাশয়
তিন মিলিলিটার পাথরকুচি পাতার জুসের সাথে ৩ গ্রাম জিরা এবং ৬ গ্রাম ঘি মিশিয়ে কয়েক দিন খেলে এসব রোগ থেকে উপকার পাওয়া যায়।

১২. শরীর জ্বালাপোড়া
দু-চামচ পাথর কুচি পাতার রস, আধা কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে দুবেলা খেলে উপশম হয়।

১৩. পোকা কামড়
বিষাক্ত পোকায় কামড়ালে এই পাতার রস আগুনে সেঁকে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

১৪. উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মুত্রথলির সমস্যা থেকে পাথরকুচি পাতা মুক্তি দেয়।

বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:০০
প্রিন্ট করুন printer

শীতকালে নলেন গুড়ের পাঁচটি রসালো খাবার

অনলাইন ডেস্ক

শীতকালে নলেন গুড়ের পাঁচটি রসালো খাবার

শীতকাল মানেই যেমন কমলালেবু, সবুজ সবজি, বিট-গাজরের সমাহার, তেমনই শীতকাল মানেই কিন্তু নলেন গুড়। মিষ্টিপ্রিয় বাঙালির ঘরে ঘরে এই সময় নলেন গুড় পাওয়া যায়। কেউ গুড় দিয়ে রুটি খেতে পছন্দ করেন। কেউ চিড়ের সঙ্গে, কেউ বা পিঠার সঙ্গে।

কিন্তু এই সব ছাড়াও গুড়ের একাধিক রেসিপি হয়। তার মধ্যেই বিখ্যাত কয়েকটি বাঙালির অতি প্রিয়।

নলেন গুড়ের রসগোল্লা

রসে টইটম্বুর, লালচে গোলাকার মিষ্টি মানেই শীতকালে বাঙালির কাছে নলেন গুড়ের রসগোল্লা। সাদা রসগোল্লার থেকে এই সময়ে গুড়ের রসগোল্লাই বেশিরভাগ মানুষের ফেভারিট। এ ক্ষেত্রে রসগোল্লার রসে চিনির বদলে অল্প গুড় মেশানো হয়, রসগোল্লার মন্ডতেও গুড় মেশানো হয়ে থাকে। তাই মুখে দিলেই গলে যাওয়া আর সঙ্গে গুড়ের গন্ধ, যেকোনো মিষ্টিপ্রিয় মানুষ একসঙ্গে পাঁচ-ছ'টা খেয়ে নিতে পারে। আর যদি রসগোল্লা হয় গরম তা হলে তো কথাই নেই!

নলেন গুড়ের সন্দেশ

শীতে নলেন গুড় হল বাঙালির মাস্ট হ্যাভ। রসগোল্লা খেতে পছন্দ না করলেও অপশন রেডি। রয়েছে নলেন গুড়ের সন্দেশ। লালচে রঙের বিভিন্ন ছাঁচে তৈরি এই সন্দেশও কিন্তু হৃদয় হরণ করতে পারে যে কারও। সাধারণত, ছানা, দুধ, আর চিনি দিয়ে তৈরি হয় সন্দেশ। এ ক্ষেত্রে চিনির পরিবর্তে নলেন গুড় ব্যবহার করা হয়। সন্দেশের উপরে অনেক সময় বিভিন্ন বাদামও ব্যবহার করা হয়। কড়া পাকের সন্দেশ, নরম পাকের সন্দেশ- উভয়ই পাওয়া যায়।

নলেন গুড়ের কাঁচাগোল্লা

সন্দেশ যে উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়, কাঁচাগোল্লাও সাধারণত সেই উপকরণ দিয়েই তৈরি হয়। কিন্তু পাক কম হয় এবং খুবই নরম হয়। প্রাণহরা বা কাঁচাগোল্লা এই সময়ে চিনির পরিবর্তে খেজুর গুড়ের রস দিয়ে তৈরি হয়।

নলেন গুড়ের পাটিসাপটা

ইংরেজিতে বোঝাতে গেলে প্যানকেক রোল বলা যেতে পারে। কিন্তু বাঙালিদের কাছে জনপ্রিয় পাটিসাপটা নামেই! মাঝে ক্ষীর বা নারকেলের পুর আর বাইরে হালকা একটা লেয়ার এই খাবারের টেক্সচারই বদলে দেয়। অনেকেই পাটি সাপটার ব্যাটারে গুড়ের ব্যবহার করে থাকেন। অনেকে আবার নারকেলের পুর গুড় দিয়ে করে থাকেন। সাধারণত, পৌষ সংক্রান্তিতে এই খাবার সকলের ঘরে ঘরে হয়ে থাকে।

নলেন গুড়ের পায়েস

শীতে পায়েস মানেই বেশিরভাগ বাড়িতে নলেন গুড়ের পায়েস তৈরি করা হয়। গোবিন্দভোগ চালের গন্ধ সঙ্গে গুড়ের গন্ধ একদম স্পেশ্যাল একটা আমেজ তৈরি করে। সূত্র: নিউজএইটিন।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি, ২০২১ ০৮:১৩
প্রিন্ট করুন printer

আমলকির যত গুণ

অনলাইন ডেস্ক

আমলকির যত গুণ

আমলকি। ভেষজ গুণে অনন্য একটি ফল। এর ফল ও পাতা দু'টিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন অসুখ সারানো ছাড়াও আমলকি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে দারুণ সাহায্য করে। আমলকির গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও এখন আমলকির নির্যাস ব্যবহার করা হয়।

আমলকিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, আমলকিতে পেয়ারা ও কাগজি লেবুর চেয়ে তিন গুণ ও ১০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। আমলকিতে কমলালেবুর চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে।
 
চলুন জেনে নিই আমলকি খাওয়ার কিছু উপকারিতা সম্পর্কে :

আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে।

আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।

এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকি গুঁড়ো ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারেন। এ্যাসিডেটের সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করবে।

আধা চূর্ণ শুষ্ক ফল এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেলে হজম সমস্যা কেটে যাবে। খাবারের সঙ্গে আমলকির আচার হজমে সাহায্য করে।

প্রতিদিন সকালে আমলকির রসের সঙ্গে মধু মিশে খাওয়া যেতে পারে। এতে ত্বকের কালো দাগ দূর হবে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

আমলকির রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছড়াও চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ। চোখ চুলকানি বা পানি পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই দেয়। আমলকি চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। 

প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে। আমলকির টক ও তেতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়। রুচি বৃদ্ধি ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকী গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে পারেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়। কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকি অনেক উপকারী। ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকির জুস উপকারী।

শরীর ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে। এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকির আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে। শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।

ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।

বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর