২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০৮:৫১

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে ভাল ওষুধ খাবার: সমীক্ষা

অনলাইন ডেস্ক

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে ভাল ওষুধ খাবার: সমীক্ষা

প্রতীকী ছবি

করোনাকালে লকডাউনের ফলে দীর্ঘ ২ বছর ধরে গৃহবন্দি থাকার ফলে সকলেই নানা রকম সমস্যার শিকার। কোভিডের সংক্রমণ, ভয়ভীতি এসব তো ছিলই। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সুগার, প্রেসার, কোলেস্টেরল, থাইরয়েড, ফ্যাটি লিভারের মত একাধিক সমস্যা। এবং যে কোনও বয়সের মানুষই কিন্তু এখন আক্রান্ত হচ্ছেন এই ধরনের সমস্যায়। এর জন্য কিন্তু দায়ী আমাদের জীবনযাত্রা। সেই সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসও। বিশেষজ্ঞরা বার বার বলছেন সেই কথা। 

কোলেস্টেরলের সমস্যায় ওষুধের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন খাবারের দিকে জোর দিতে। সম্প্রতি জার্নাল অফ নিউট্রিশনে প্রকাশিত হয়েছে একটি গবেষণা। সেখানেই বলা হয়েছে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধের থেকেও ভাল কাজ করে খাবার।

সংস্থাটির তরফে জানানো হয়েছে,  যাদের কোলেস্টেরল খুব বেশি অর্থাৎ যারা হাইপারলিপিডেমিয়ার শিকার তারা অনেক সময় ওষুধ নিতে চান না। আবার এমন অনেকে আছেন, যাদের শরীর কোলেস্টেরলের ওষুধ নিতে অক্ষম। তাই তাদের জন্য একমাত্র উপায় হল খাবার। আর সমীক্ষায় দেখা গেছে এই খাবারই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে ভাল।

হাইপারলিপিডেমিক রোগীরা  সপ্তাহে দুইদিন ওষুধ আর অন্যান্য দিন খাবার নিয়ন্ত্রণ করে দেখেছেন। সেখানে দেখা যায় ৩০ দিনে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে ৯ শতাংশ। অনেকের ক্ষেত্রে কিন্তু ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কোলেস্টেরলও কমেছে।

রচেস্টার, মিনেসোটার মায়ো ক্লিনিকে এবং উইনিপেগ, ম্যানিটোবার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিচার্ডসন সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। এই স্টেপ ওয়ান ডায়েট অর্থাৎ কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে এমন রোগীদের জন্য তৈরি। এতে ফাইবার আর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ছিল সবচেয়ে বেশি পরিমাণে। আর এই সব খাবারই কিন্তু নিয়ম মেনে খেতে হত। এর মধ্যে প্রোটিন চকোলেট বার, স্ট্রবেরি-কলা স্মুদি থেকে শুরু করে অন্যান্য কিছু স্ন্যাকসও ছিল। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যে সব খাবারে বেশি সেই সব খাবারই বেশি করে রাখতে বলা হয়েছিল তালিকায়। 

এছাড়াও সব খাবারেই মধ্যেই আখরোট রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কারণ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবচেয়ে ভাল কাজ করে আখরোট। এই সব খাবার খাওয়ার পাশাপাশি সকলেই কিন্তু বাড়ির তৈরি খাবার বেশি করে খেয়েছেন। বাইরের কোনও খাবারই খাননি। আর যে কারণে কাজ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। 

একমাস পর দেখা গেছে- প্রত্যেকেরই ৩০ শতাংশ করে কোলেস্টেরল হ্রাস পেয়েছে। কয়েকজন ছিলেন যারা বাইরের খাবার অর্থাৎ প্যাকেটজাত ফাইবার, প্রোটিন এসব খেয়েছিলেন। সেই সঙ্গে অন্যান্য খাবারও ছিল। তবে তাদের ক্ষেত্রে কিন্তু তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি। এছাড়াও যারা উদ্ভিজ প্রোটিন বেশি করে খেয়েছেন তারাও ভাল ফল পেয়েছেন।

সেখান থেকেই তাদের মতামত যারা হার্টের রোগী বা যারা কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন তারা যদি নিজেদের ডায়েটের কড়া শাসনে বেঁধে ফেলতে পারেন তাহলে কিন্তু ভাল ফল পাবেন। সেই সঙ্গে শরীরও ভাল থাকবে।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর