শিরোনাম
প্রকাশ : ২৯ জুলাই, ২০২১ ১৬:০৬
আপডেট : ২৯ জুলাই, ২০২১ ২১:২৫
প্রিন্ট করুন printer

শীঘ্রই সকল শিল্প কারখানা সচল চায় এফবিসিসিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক

শীঘ্রই সকল শিল্প কারখানা সচল চায় এফবিসিসিআই
শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার অনুরোধ ব্যবসায়ীদের
Google News

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, যত শীঘ্রই সম্ভব দেশের রপ্তানিখাতের সকল প্রকার উৎপাদনমুখি শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলে দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় রপ্তানিখাতের অর্ডার সমূহ বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সকল প্রকার রপ্তানি বাণিজ্য। পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নিয়োজিত সকল শ্রমিক-কর্মচারীদের টিকা প্রদানের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, সকালে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সব কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান এমপি, এক্সপোর্টার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী এমপি, বিজিএমইএ সভাপতি মো. ফারুক হাসান, ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রহমান, এফবিসিসিআই’র সাবেক সহ-সভাপতি ও বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিটিএমএ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হক সহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতারা। এছাড়াও ওই বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোভিডজনিত বিধি-নিষেধের আওতায় সকল প্রকার শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রাণশক্তি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ ব্যবস্থা) সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হওয়ার উপক্রম। এতে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আগামীতে পণ্য-সামগ্রী সঠিকভাবে সরবরাহ ও বাজারজাত না হলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এতে স্বল্প আয়ের ক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হবেন। পাশাপাশি রপ্তানি খাতের উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ থাকলে সময়মত পরবর্তী রপ্তানি অর্ডার অনুযায়ী সাপ্লাই দেয়া সম্ভব হবে না। এতে রপ্তানি অর্ডার বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সর্বোপরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্ব ও দিক-নির্দেশনায় বিদ্যমান বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রয়েছে এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৬.১% অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। যদি উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়, তাহলে অর্থনীতির চলমান গতিধারা ব্যাহত হবে। জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকেও সচল রাখতে উৎপাদন ব্যবস্থাকে সচল রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষাকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে শিল্প-কারখানাকে বিধি-নিষেধের আওতার বাহিরে রেখে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে হবে।

মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ক্ষুদ্র ও ছোট কারখানাসমূহ বন্ধ রাখায় উদ্যোক্তাগণ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারখানাসমূহ পুনরায় চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থায় রপ্তানি ও উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট এসোসিয়েশনসমূহ ও চেম্বারসমূহ শিল্প-কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য এফবিসিসিআই এর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন

এই বিভাগের আরও খবর