শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৫:৪৫
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৫:৫১

সুরক্ষিত রাখুন ডিজিটাল আর্থিক অ্যাকাউন্ট

নওসিকা নোরা

সুরক্ষিত রাখুন ডিজিটাল আর্থিক অ্যাকাউন্ট

প্রযুক্তির কল্যাণে নগদ টাকার ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রেই কমতে শুরু করেছে। নানাবিধ সুবিধার কারণে এখন ডিজিটাল অর্থ ব্যবহারকারী জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাধ্যম মোবাইল। একটি মোবাইলকে এখন একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে তুলনা করলে খুব বেশি ভুল হবে না। একস্থান থেকে অন্য স্থানে মুহূর্তেই টাকা পাঠানো, অনলাইনে বা কোন দোকান থেকে পণ্য কিনে দাম পরিশোধ করা, স্কুল-কলেজের ফিসহ যে কোন ধরনের ফি দেয়া, ইউটিলিটি বিল দেয়া, মোবাইল রিচার্জ করা, রাইড শেয়ারিং এর ভাড়া দেয়া, বাস ট্রেনের টিকেট কেনা সহ দৈনন্দিন নানান প্রয়োজনে মোবাইল অ্যাকাউন্ট থেকেই আর্থিক লেনদেনের চিত্র হরহামেশায় দেখা যায়। 

যেহেতু আর্থিক লেনদেন সেহেতু সুরক্ষিত রাখতে সর্তক থাকতেই হবে। কারণ যুগে যুগে অসাধু চক্র টাকা হাতিয়ে নিতে তৎপর। ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেও তাদের চেষ্টার কমতি নেই। গ্রাহক সচেতন হলেই এই চক্রকে প্রতিরোধ করে ওয়ালেট রাখতে পারবে সুরক্ষিত। ডিজিটাল ওয়ালেট সুরক্ষিত রাখতে কিছু পরামর্শ দেয়া হল: 

১.পিন নম্বর বা পাসওয়ার্ড মনে রাখা কিছুটা কষ্টসাধ্য। অনেকেই পিন মনে রাখার কষ্ট এড়াতে মোবাইলে বিভিন্ন পিন, পাসওর্য়াড সেভ করে রাখেন। মোবাইল হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে বিষয়টি বিপদজনক হতে পারে। কারণ পিন বা পাসওয়ার্ড দিয়ে আর্থিক লেনদেনের অ্যাপ থেকে যেকেউ টাকা সরিয়ে নিতে পারে। যদি পিন বা পাসওয়ার্ড না থাকে তবে মোবাইল হারিয়ে গেলে বা চুরি গেলেও আপনার আর্থিক লেনদেনের অ্যাপ থেকে কেউ লেনদেন করতে পারবে না। ফলে মোবাইলে পিননম্বর বা পাসওর্য়াড সেভ করা থেকে বিরত থাকুন। যেকোন ধরনের মোবাইল আর্থিক অ্যাপ ব্যবহার করার পর লগআউট করতে ভুলবেন না।
২.গ্রাহকের মোবাইল আর্থিক একাউন্টের পিন অসাধু চক্রের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই তারা নানান কৌশলে পিন নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা করতে থাকে। বিভিন্ন সময় ফোন করে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিয়ে পিন নম্বর চায়। কখনও মোবাইল একাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়। খুব কাছের কেউ হলে আপনি যখন লেনদেন করছেন তখন পিন নম্বরটি জেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। কখনও বা চাকরি দেয়া হবে, লটারি জিতেছেন এমন প্রলোভনেও পিন নম্বর আপনার কাছ থেকে সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন। মনে রাখতে হবে কেউ আপনার পিন জানতে চাইছেন মানে আপনার প্রতারিত হওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি যা ই হোক পিন নম্বর গোপন রাখুন। পিন গোপন মানে একাউন্ট সুরক্ষিত।
৩.অনেক ক্ষেত্রে আপনাকে দিয়ে আপনার একাউন্ট থেকে নানান অপকৌশলে টাকা লেনদেন করিয়ে নেয় অসাধু চক্র। ভুল করে টাকা পাঠানো হয়েছে, চাকরি পেয়েছেন, লটারি জিতেছেন, বিপদে পড়েছি সাহায্য করুন এমন অনেক কথা বলে আপনাকে দিয়ে লেনদেন করিয়ে নেন। যেকোন লেনদেনের আগে খুব ভালো করে জেনে নিন কোথায় লেনদেন করছেন। যাকে টাকা পাঠাবেন তার পরিচয় নিশ্চিত হতে হবে। লোভে পড়ে কোন ধরনের লেনদেন করা যাবে না। 
৪.প্রযুক্তি অপব্যবহার করে অনেক ক্ষেত্রে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের হেল্পলাইন নম্বরের মত কাছাকাছি দেখতে নম্বর থেকে ফোন করে আপনাকে প্রতারিত করে। আবার পরিচিত ব্যক্তির নম্বর মাস্কিং করেও টাকা হাতিয়ে নিতে চেষ্টা করে। যে নম্বর থেকেই ফোন আসুক নিশ্চিত না হয়ে লেনদেন করবেন না বা তথ্য শেয়ার করবেন না। নিশ্চিত হতে নিজেই হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে নিতে পারেন। 
৫.অনেক ক্ষেত্রে প্রতারক নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে গ্রাহককে বলেন মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হয়েছে। এসএমএস কোন নম্বর থেকে এসেছে তা যাচাই করে নেয়া গ্রাহকের দায়িত্ব। এসএমএস আসলেও নিজে ব্যালেন্স চেক না করে ভুল করে দেয়া টাকা ফেরত পাঠাবেন না। 
৬.যেসব গ্রাহকরা প্রতারণার শিকার হন তাদেরকে ফোনে  কথা বলতে বলতেই  নির্দেশনা দেয়া হয়। বলা হয় এখন ১ চাপুন, এখন টাকার পরিমাণ দিন, পিন নম্বর দিন। কখনোই ফোনের নির্দেশনা অনুসারে বাটনে প্রেস করবেন না। ফোনের নির্দেশনা অনুসরণ করিয়ে আপনাকে দিয়েই আপনার অ্যাকাউন্টের টাকা প্রতারকের একাউন্টে সরিয়ে নিতে পারেন। ফোনে কারো নির্দেশনা অনুসারে ফোনের বাটন প্রেস করবেন না।
৭.ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ইমো বা অন্যকোন মাধ্যমে খুব কাছের পরিচিত কেউ টাকা ধার চাইলে বা বিপদে পড়েছে বলে টাকা পাঠাতে বললে সাথে সাথে তা করবেন না। টাকা পাঠানোর আগে আসলেই তিনি টাকা ধার চেয়েছেন কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন। 
৮.আর্থিক লেনদেনের সেবা হওয়ার কারণে ওয়ান টাইম পাসওর্য়াড (ওটিপি) নির্ভর অ্যাপ ইন্সটলমেন্ট এর ব্যবস্থা করে একাউন্ট সুরক্ষিত করা হয়েছে। কোন অবস্থাতেই কাউকেই ওটিপি নম্বর শেয়ার করবেন না বা ওটিপি’র ম্যাসেজ শেয়ার করবেন না। 
  
বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য