১৭ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৯:৩৬

জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে বিজয়ের ৫০ বছর

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে বিজয়ের ৫০ বছর

বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ মিশনের আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতর সংলগ্ন বাংলাদেশ মিশনে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর শুভক্ষণে এবারের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান দুটি পর্বে ভাগ করে উদযাপন করা হয়। প্রথম পর্ব শুরু হয় সকাল সাড়ে নয়টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী পাঠকৃত শপথ বাক্য অনুসরণ করে স্থায়ী প্রতিনিধির নেতৃত্বে মিশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারি শপথ বাক্য পাঠ করেন।

দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা অনুষ্ঠান হয় সন্ধ্যে ছয়টায়। কোভিড-১৯ এর নতুন ধরণ ‘ওমিক্রণ’ এর প্রেক্ষিতে দূতাবাস ভবনস্থ বিল্ডিং কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ভার্চুয়ালে আলোচনা পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় সম্পৃক্ত তরুন বাংলাদেশী-আমেরিকানসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বাংলাদেশী নেতৃবৃন্দ।

মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্ম-উৎসর্গকারী বীর শহীদগণের স্মরণে একমিনিট নিরবতা পালন ও তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় আলোচনার প্রারম্ভে। দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। 

এরপর স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। শুরুতেই তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতাসহ ১৫ আগস্টের শাহাদৎবরণকারী জাতির পিতার পরিবারের সকল সদস্য, জাতীয় চার নেতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুইলাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনসহ সকল মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। রাষ্ট্রদূত রাবাব বলেন, “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে রুপকল্প ২০২১, রুপকল্প ২০৪১ ও ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এবছর নভেম্বর মাসে স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য আমরা জাতিসংঘের চুড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছি যা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের মর্যাদা ও সক্ষমতার স্বাক্ষর”।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, আমরা এখন শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, বিশ্বশান্তি রক্ষা, শান্তি-বিনির্মাণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ বিষয়ক আলোচনা ও নারীর ক্ষমতায়নসহ অসংখ্য বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ নেতৃত্বশীল ভূমিকা রেখে চলেছে মর্মে উল্লেখ করেন তিনি। স্থায়ী প্রতিনিধি আরও বলেন, “আমরা আজ বিশ্বের ৪১তম অর্থনীতির দেশ। আশা করা যায়, ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। কোভিড ব্যবস্থাপনা ও অব্যাহত অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্বের কাছে আজ  রোল মডেল বাংলাদেশ।

 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর