শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ মার্চ, ২০১৯ ২২:৩৪

লেংগুরা ও গণেশ্বরী

মো. মনির হোসেন

লেংগুরা ও গণেশ্বরী

লেংগুরা। নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার একটি পাহাড়ি-সীমান্ত অঞ্চল। বিচিত্র এক জনপদের নাম। এ যেন এক অপরূপ, শান্ত, সুনিবিড় ও বৈচিত্র্যময় জনপদ। পথে চলতে চলতে দেখা মিলবে গারো, হাজং, হদি, কোচ প্রভৃতি আদিবাসী স¤প্রদায়ের সঙ্গে। যারা জীব-জানোয়ারের সঙ্গে মিতালি করে পাহাড়ের গহিন অরণ্যে নিত্যদিনের কাজ করতে যান। পুরো এলাকাটিই সবুজে সবুজময়। শুধু নৈসর্গিক সৌন্দর্যই নয়, মুক্তিযুদ্ধ, টঙ্ক ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নানা ইতিহাস-নিদর্শনও ছড়িয়ে আছে এখানে। আরও আছে চপলা চঞ্চলা এক নদী, যার নাম গণেশ্বরী। যেটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেংমাং নামক গারো পাহাড় থেকে নেমে এসেছে। নদীর একপাশে ভারত সীমান্তে সারি সারি উঁচু পাহাড়। ঘন সবুজ অরণ্য। আরেক পাশে ছোট ছোট টিলা। টিলার পাশ ঘেঁষে বিভিন্ন আদিবাসী  সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় বসতি। গণেশ্বরীর বুকজুড়ে চিকচিক করে স্বচ্ছ সিলিকা বালি। আর বালির স্তরের নিচ দিয়ে ছুটে চলে জলের ধারা। বলা যায়, ঝরনাধারা। মাথার ওপর ভেসে বেড়ায় নীল-সাদা মেঘ। নদীতে জলচুম্বন করতে আসে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। আর দিন দিন এ জনপদ হয়ে ওঠেছে পর্যটক-ভ্রমণপিপাসুদের এক আকর্ষণীয় স্থান। বড় পাহাড়গুলো ভারত সীমানায় অবস্থিত হওয়ার কারণে সেগুলোতে ওঠা যায় না। লেংগুরায় বাংলাদেশের সীমানায়ও আছে কয়েকটি ছোট পাহাড়। এগুলো টিলা নামে পরিচিত। যেমন-মমিনের টিলা, চেয়ারম্যানের টিলা, গাজীর টিলা প্রভৃতি। নানা প্রজাতির গাছ-গাছালি, পাখ-পাখালিতে পরিপূর্ণ টিলাগুলোতে ওঠলে মন হারিয়ে যায় প্রকৃতির রাজ্যে। মমিনের টিলাটি ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। বেশ বড় এবং বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তূত। সমতল থেকে অনেক উঁচু টিলাটিতে ওঠার জন্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে পাকা সিঁড়ি। সিঁড়ি ছাড়াও গাছের পাতা-লতা আঁকড়ে ধরে পাথর-মাটির বিকল্প পথ দিয়েও ওঠা যায় ওপরে। ভ্রমণপিপাসুদের সুবিধার্থে টিলার ওপর নির্মাণ করা আছে বেশকিছু পাকা বেঞ্চ ও ছাতা। টিলায় দাঁড়ালে উত্তর-পূর্ব দিকের বড় বড় পাহাড়গুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে আয়নার মতো। আর টিলার নিচের এক পাশ দিয়ে দেখা যায় গণেশ্বরী নদীর বিচিত্র রূপ। ছবির মতো এক নদী। বাংলাদেশের সীমান্ত ছুঁয়ে সারি সারি পাহাড়, টিলা, নদী, আদিবাসী জীবনধারা ও ইতিহাস- সবকিছু মিলিয়ে লেংগুরা মানেই এক নয়নাভিরাম দৃশ্য।

ভ্রমণ টিপস : ভ্রমণের সর্বক্ষত্রে পরিবেশ ও প্রকৃতি সচেতনতার কথা মাথায় রাখবেন। স্থানীয় আচার ও সংস্কৃতিকে সম্মান করবেন। অনুমতি ছাড়া কারও ছবি তোলার চেষ্টা করবেন না। ক্যাপ, সানগ্রাস, গামছা, মশা থেকে রক্ষার জন্য অডোমস, প্রয়োজনীয় সব ওষুধ সঙ্গে রাখবেন।

কীভাবে যাবেন : ঢাকার মহাখালী বাসস্টেশন থেকে সরাসরি দুর্গাপুর যাওয়াার বাস আছে। এ পথে চলাচলকারী দুই-একটি বাস সার্ভিস হলো সরকার পরিবহন, জিন্নাত পরিবহন ও বিআরটিসি ইত্যাদি। ভাড়া ৩৫০-৫৫০ টাকা। এ ছাড়া বাস কিংবা রেলে ময়মনসিংহ গিয়েও সেখান থেকে বাসে বিরিশিরি আসতে পারেন।

কোথায় থাকবেন : দুর্গাপুরে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা হলো ইয়ুথ মেন খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়াইএমসিএ) রেস্ট হাউস। এ ছাড়া আছে ইয়ুথ ওমেন খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন (ওয়াইডবি উসিএ) পরিচালিত আরেকটি রেস্ট হাউস। এ ছাড়া দুর্গাপুরে সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। স্বর্ণা গেস্ট হাউস, হোটেল সুসং, হোটেল গুলশান, হোটেল নদী বাংলা ইত্যাদি।


আপনার মন্তব্য