শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:১৫

অনুপ্রেরণীয়

পায়ে হেঁটে সারা দেশ

পায়ে হেঁটে সারা দেশ

তাম্মাত বিন খয়ের। দেশের অন্যতম অ্যাথলেট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মাত্র ১৮ বছর বয়সী এ কিশোর। সম্প্রতি সাইকেল চেপে ৬৪ জেলা ভ্রমণ কিংবা পাঁয়ে হেটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভ্রমণের রের্কডসহ ঝুলিতে যোগ হওয়া নানা অর্জন নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাচ্ছেন- জুনায়েদ হাবীব

 

তাম্মাতের বয়স তখন ১২ বছর। বিটিভির পর্দায় ইত্যাদির এক আয়োজনে দেখলেন এক বৃদ্ধ সাইকেলে চেপে ৬৪ জেলা ভ্রমণ করেছেন। সেই থেকে এমন রেকর্ড গড়ার নেশা তাম্মাতের মাথায় এসে চাপল। এক দিন তিনি তার বাবার কাছে বায়না ধরলেন তারও একটি সাইকেল চাই। পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবা নেয়ামত আলী পড়াশোনার দিকে  খেয়াল রেখে সাইকেল কিনে দেননি। যার কারণে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া তাম্মাতের সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যায়। অবশেষে ২০১৬ সালে নিজ টিউশনির রোজগারের টাকা জমিয়ে কিনে নিলেন একটি সাইকেল। সাইকেলটি নিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে রাইড দেওয়া শুরু করেন বন্দরনগরীর এক সাইক্লিং কমিউনিটি   গ্রুপের মাধ্যমে, এভাবেই সাইক্লিং জগতে প্রবেশ করেন তাম্মাত বিল খয়ের। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের গণিত বিষয়ে স্নাতক পড়ছেন। ২০১৭ সালের ৯ এপ্রিল থেকে মে মাসের ৩ তারিখ চট্টগ্রামের এ কিশোর মাত্র ২৪ দিনের স্বল্প সময়ে দেশের সর্বপ্রথম ৬৪টি জেলা সাইকেল চালিয়ে ভ্রমণের রেকর্ড গড়েন। এতেই থেমে থাকেননি তিনি। দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ছিনিয়ে এনেছেন সর্বোচ্চ জয়। আর সেসব জয়ের অর্ধশতাধিক সম্মাননা তাম্মাতের বাসার হলদে রঙের দেয়ালটিতে তার সব সাফল্যের সাক্ষী হিসেবে ঝুলছে। তাম্মাত জানান, প্রথমবারের ৬৪টি  জেলা ভ্রমণের সময় বাসার কাউকেই না জানিয়ে মধ্যরাতে সাইকেল এবং ভ্রমণের উপকরণগুলো নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। কারণ তাম্মাতের পরিবার এসব ক্রীড়াকে সম্মতি দিতেন না। এরপর একের পর এক আকাশছোঁয়া সাফল্যের কারণে তাদের পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তানের স্বপ্ন যাত্রায় পুরো পরিবার স্বারথি হয়। আসলে সবচেয়ে প্রাপ্তির বিষয়, বর্তমানে আমি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার আগে ও পরে আমার বাসায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে। এবারের ৬৪টি জেলা ভ্রমণ নিয়ে আমার পরিবার গর্বিত ও আনন্দিত। পুরো বিষয়টি শিক্ষণীয় বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত ৬৪টি জেলা মাত্র ১৫ দিনে ভ্রমণ করে নিজ রেকর্ড নিজেই ভাঙেন। তাম্মাতের সার্বিক সহযোগিতার জন্য ৬৪টি জেলায় রাইড চলাকালীন একটি বাইকে করে তার পেছনে সাপোর্ট টিম ছিলেন। এবং সেই সাইক্লিং রাইডগুলো তাম্মাত বিল খয়ের নামের নিজ পেইজটিতে রাইডিংয়ের পুরো চিত্রটি লাইভে সম্প্রচার করেন বলেও জানান। ৬৪টি জেলা রাইড সম্পর্কে নিজ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তাম্মাত বলেন, অ্যাথলেটিক ব্যাপরাটিতে আমি অনেকের অনুপ্রেরণা পেয়েই এটুকু আসতে পেরেছি। আর সবচেয়ে অসাধারণ বিষয় হচ্ছে যখন আমি ৬৪ জেলা রাইডে ছিলাম, সেখানকার বিভিন্ন জেলার মানুষ আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। করেছেন আতিথিয়েতাও। অনেক সময় আমার থাকা-খাওয়ার জোগান দিতেন নিজেদের বাসায়। সবমিলিয়ে পুরো দেশবাসী বিষয়টিকে অত্যন্ত উপভোগ করেন।

দেশের দক্ষিণের সর্বশেষ ভূখ- টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে প্রায় ১০০০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে উত্তরের সর্বশেষ ভূখ-  তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট (টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া) গিয়ে মাত্র ২৪ দিনে পায়ে হেঁটে সফল হন। এমন সাফল্যে পুরো দেশের মাঝে নিজেকে অনন্য মাত্রায় উপস্থাপন করেন তিনি। সাইক্লিং কিংবা নানা রেকর্ড গড়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখেননি তাম্মাত। তিনি প্রতিটি ভ্রমণ  কোনো না কোনো সচেতনতার বার্তা নিয়ে পৌঁছেছেন প্রতিটি জেলায়। ২০১৮ সালে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া হেঁটে ভ্রমণের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষকে নিয়মিত ২ কিমি হাঁটায় উদ্বুদ্ধ করাসহ বাল্যবিয়ে রোধে সাইকেলে চেপে ক্যাম্পেইন ও ২০১৯ সালে ৬৪ জেলায় ভ্রমণের মধ্য দিয়ে দেশের প্রতিটি স্কুলে ইমার্জেন্সি স্যানিটারি ন্যাপকিন বক্স স্থাপনে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছেন তিনি। তার লক্ষ্য এবার আয়রনম্যান!  রেকর্ডবয় তাম্মাতের অসংখ্য অর্জন আর সাফল্যের পর এবার ২০২০ সালের মালেশিয়ায় আয়রনম্যান নামক ইন্টারন্যাশনাল এ কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ করবেন বলে লক্ষ্য স্থির করেছেন।


আপনার মন্তব্য