Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ অক্টোবর, ২০১৭ ২৩:২৯

চোখ এবার ওয়ানডে সিরিজে

মাশরাফি বলেই আশা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মাশরাফি বলেই আশা

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সব শেষ ওয়ানডে সিরিজের ফল কি? টেস্টে বিধ্বস্ত হওয়ার পর সে কথা কেউ মনেও করতে চাইবে না। বাংলাদেশ যে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল সে কথা খোদ ক্রিকেটারই হয়তো ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করবেন!

টর্নেডো কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের পর ঘরবাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যায়, জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়, সহায় সম্বল হারিয়ে পথে বসে মাথায় হাত দিয়ে হা-হুতাশ করে গৃহস্থ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অবস্থাও এখন তাই। কিংবা আরও ভয়াবহ। কেননা টাইগারদের সামনে ঝুলছে এখনো মহাবিপদসংকেত! ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজ। তবে বিপদে মনোবল হারালে ক্ষতির মাত্রা বেড়ে যাবে। তাই এমন অবস্থা থেকে উত্তরণের একটাই উপায় সব কিছু ভুলে নব উদ্যোমে এগিয়ে যাওয়া। টেস্টে অধিনায়ক ছিলেন মুশফিক, কিন্তু ওয়ানডেতে মাশরাফি। আত্মবিশ্বাসের মূর্ত প্রতীক এই ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। সতীর্থ ক্রিকেটারদের কাছে যিনি ‘সোর্স অব কনফিডেন্স’। মনোবল ভেঙে যাওয়া হতাশাগ্রস্ত ক্রিকেটারদের কীভাবে চাঙ্গা করা যায় তা মাশরাফির চেয়ে ভালো আর কে পারেন! হারতে হারতে দল যখন খুবই বাজে পরিস্থিতি ঠিক তখনই তো নেতৃত্বের গুরু দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মাশরাফি। তারপর যেন এক অদৃশ্য জাদুর কাঠির স্পর্শে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ দলকে তুলে দিলেন সাফল্যের ট্রেনে।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বাউন্সি উইকেটে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় বাংলাদেশ। তারপর ঘরের মাঠে একে একে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ জয়। মাশরাফির নেতৃত্ব ওয়ানডে সাফল্যের ট্রেনটা কিন্তু এখনো দুর্বার গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছে। তবে চিন্তার বিষয় একটাই, টেস্টের ঝড়টা ওয়ানডে আঙ্গিনাতেও আছড়ে পড়ে! সাফল্যের ওয়ানডে-ট্রেনকে লাইনচ্যুত করে দেয় কিনা!  তবে চালকের আসনে মাশরাফি আছেন বলেই ভরসা। স্কিলে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা যে দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে খুব বেশি পিছিয়ে আছে-এমন নয়। তবে এটা ঠিক যে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে তারাই এগিয়ে থাকবে। কিন্তু ওয়ানডেতে এই বাংলাদেশ অন্য দল। কাউকে এতটুকু ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না! তবে শুধু আবেগ দিয়ে তো আর ক্রিকেট চলে না। আবেগের সঙ্গে বুদ্ধিমত্তার সেতুবন্ধন হতে হবে। এই কাজে আবার ভীষণ পটু মাশরাফি। এটা খুবই সত্যি কথা যে, ক্রিকেটে বাজে সময় আসে। প্রতিটি দলই এই বাজে সময় পার করে। তবে এই কঠিন সময়ে হালটা ধরতে হয় শক্ত হাতে। সে দায়িত্ব নিতে হবে মাশরাফিকেই। নড়াইল এক্সপ্রেস এর আগেও দলের মুমূর্ষু অবস্থায় অনেকবারই ‘অক্সিজেন’ সরবরাহ করেছেন। এবারও তার দিকেই তাকিয়ে বাংলাদেশ।  টেস্টে দেখা গেছে আমাদের বোলাররা লাইন খুঁজে পাচ্ছেন না। কিন্তু ওয়ানডেতে দেখা যেতে পারে এই বোলাররাই এক একজন ত্রাস হয়ে গেছেন। যে ব্যাটসম্যানরা উইকেটে গিয়ে থিতু হতেই রীতিমতো হিমশিম খেয়েছেন হয়তো তারাই সেঞ্চুরি করে ফেলবেন। কেন না ওয়ানডে ক্রিকেটের মেজাজটাই আলাদা। যে মেজাজটা খুব দারুণভাবে ধাতস্থ করেছেন টাইগাররা। ওয়ানডে পরীক্ষাটা শুরু হচ্ছে ১৫ অক্টোবর। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। পরের দুটি ম্যাচ ১৮ ও ২২ অক্টোবর। টেস্টের তুলনায় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলের শক্তিমত্তাও বেড়ে গেছে। প্রথমত, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের উপস্থিতি। দ্বিতীয়ত, ইনজুরি থেকে ফিরছেন ড্যাসিং ওপেনার তামিম ইকবাল। তৃতীয়ত, সব বড় উপলক্ষ হচ্ছে এই দলটাকে নেতৃত্ব দেবেন মাশরাফি। ওয়ানডে পরীক্ষাটা শুরু হচ্ছে ১৫ অক্টোবর। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। পরের দুটি ম্যাচ ১৮ ও ২২ অক্টোবর।

টানা ক্রিকেট খেলার ক্লান্তি দূর করতে দুই টেস্টের সিরিজে বিশ্রাম চেয়ে নিয়েছিলেন সাকিব। দুই ম্যাচেই তার অভাবটা পরতে পরতে অনুভব করেছে বাংলাদেশ। কেন না সাকিব দলে থাকা মানেই একজন বোলার কিংবা ব্যাটসম্যান বাড়তি খেলানো। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার একাই যে দুই ক্রিকেটারের ভূমিকা পালন করেন দলে। ব্যাটিংয়ের সময় সেরা ব্যাটসম্যান, বোলিংয়ের সময় সেরা বোলার। ব্যাটিংয়ের সময় বড় স্কোর করতে হলে শুরুটা ভালো হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ড্যাসিং ওপেনার তামিম ইকবালের ধারাবাহিকতা অসাধারণ। তাই তামিম দলে থাকা মানে বড় স্কোরের নিশ্চয়তা বেড়ে যায়। আর তামিম বড় স্কোর করলে নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যায়। অধিনায়ক মাশরাফিকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। নড়াইল এক্সপ্রেস প্রতিটি সিরিজেই তার অস্তিত্বের জানান দিয়েছেন। হয়তো এবারও দেবেন। তাই তো টেস্ট সিরিজে বিধ্বস্ত হওয়ার পরও ক্রিকেট ভক্তরা ওয়ানডে সিরিজে সাফল্য প্রত্যাশা করছেন। কারণ একটাই তা ‘মাশরাফি’ -দ্য ক্যাপ্টেন!


আপনার মন্তব্য