শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জুন, ২০১৮ ০২:১৮

এ যেন শর্ষে খেত

ব্রাজিল ২ : ০ কোস্টারিকা; নাইজেরিয়া ২ : ০ আইসল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড ২ : ১ সার্বিয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক, সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে

ব্রাজিলের উৎসবের দিন ছিল গতকাল। নিঝনি নভগরদে আর্জেন্টিনার পরাজয়টাই তাদের জন্য উৎসবের উপলক্ষ নিয়ে এসেছিল। ব্রাজিলীয়রা উৎসব করেছে ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকদের সঙ্গে মিলেমিশে। রাস্তায় বের হলেই পাওয়া গেছে অ্যালকোহলের কড়া ঝাঁজ। প্রচুর পরিমাণে অ্যালকোহল গিলে মাতাল হয়ে ব্রাজিলীয়রা উৎসব করেছে। এই উৎসবটাই তারা নিয়ে গেছে সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে। হলুদ জার্সি গায়ে কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচে সারাটা সময় দলকে সমর্থন করে গেছে। কখনো কোরাস গেয়েছে। আবার কখনো শুধুই ব্রাজিল, ব্রাজিল রব তুলেছে। ব্রাজিলের ম্যাচে এমন সমর্থন পাবেন নেইমাররা, এটা নতুন কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তেই নেইমাররা মাঠে নামবেন, সমর্থন পাবেনই। সে ব্রাজিলেরই হোক কিংবা ভিনদেশি ভক্তেরই হোক। রাশিয়াতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। গতকাল ম্যাচ ছিল কোস্টারিকার সঙ্গে। কোনো ইউরোপীয় টিম হলে সম্ভবত এতটা সমর্থন পেতেন না নেইমাররা। উত্তর আমেরিকার একটা দলকে রাশিয়ানরা কেনইবা সমর্থন দিতে যাবে! এ কারণে রাশিয়ানরাও গতকাল ছিল ব্রাজিলের পক্ষে। গায়ে জড়িয়েছিল হলুদ জার্সি। হাতে সবুজ-হলুদ রঙের ব্রাজিলীয় পতাকা। অনেকে অবশ্য এক গালে ব্রাজিল আরেক গালে রাশিয়ার পতাকা এঁকে এসেছিলেন মাঠে। তানিয়েভা নামের মেয়েটি সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামের গেটে দেখা হতেই জানাল, রাশিয়া এবার চ্যাম্পিয়ন হবে বলেই সে বিশ্বাস করে। কিন্তু ব্রাজিল ভালো খেলুক এটাও রাশিয়ানরা চায়। এ কারণেই ব্রাজিল সমর্থকদের জটলাগুলোতে দেখা যায় প্রচুর রাশিয়ান। তারা ওলে, ওলে সুরে সুর মেলায়। ব্রাজিলীয়দের সঙ্গে নেচে বেড়ায়। স্টেডিয়ামের বাইরের ছবিটা এরকমই। আর ভিতরে! প্রায় ৬৫ হাজার দর্শক এসেছিল গতকাল সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে। এর প্রায় সত্তর শতাংশই ছিল ব্রাজিল সমর্থক। লাল জার্সি পরা কোস্টারিকার সমর্থকরা হলুদ সাগরে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ ফেললেও তা ছিল খুবই কম। ব্রাজিলের হলুদ সমুদ্র দেখে মনে হচ্ছিল, এ যেন শীতকালে বাংলাদেশের সবুজ জমিনে বেড়ে ওঠা শর্ষে খেত। ফুলে-ফুলে ছেয়ে আছে চারদিক। গ্যালারিতে এমন হলুদ সমুদ্র থাকলেও গতকাল মাঠে নেইমাররা খেলেছেন নীল জার্সি গায়ে। আর লাল জার্সির কোস্টারিকা খেলেছে সাদা রঙে।

বিশ্বকাপে কেবল মাঠেই খেলা হয় না, খেলা হয় গ্যালারিতেও। নানা রঙের খেলা। কেউ ছবি আঁকে শরীরে, কেউবা পোশাকে। কেউ মাথায় পরে উদ্ভট টুপি, কেউবা উইগ। নানা রঙের এই খেলাটাও কি কম লোভনীয়!


আপনার মন্তব্য