শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:২৯

‘আমি সবাইকে ঝাড়ি মারি’

মেজবাহ্-উল-হক

‘আমি সবাইকে ঝাড়ি মারি’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে জয়ের পর ট্রফি হাতে উল্লসিত বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ছবি : রোহেত রাজীব
জয়ের পর অধিনায়ক নিজেই জানালেন, ক্রিকেটার সবাই তার মনের মতো পারফর্ম করেছেন। এমনকি সিনিয়রদের কাছ থেকেও তিনি শতভাগ সহযোগিতা  পেয়েছেন। ভারত ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগের তিন ম্যাচে যে তিনি সবার কাছে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি  সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন ইঙ্গিতে

ভদ্র, নম্র এবং খুবই বিনয়ী স্বভাবের মানুষ মুমিনুল হক সৌরভ। কথা বলেন হেসে হেসে। এক কথায় বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক যেন ‘মাটির মানুষ’! কিন্তু নরম চরিত্রের অধিকারী মুমিনুল কি অধিনায়ক হিসেবেও এমন? দলপতি কী সব সময় এমন বিনয়ী চরিত্রের হয়? একজন ক্যাপ্টেন সব সময় অতটা বিনয়ী থাকলে সতীর্থরা কি তার কথা সব সময় ঠিকঠাক শুনবেন? মুমিনুল হককে ঘিরে হয়তো এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল সবার মাথায়!

মুমিনুল বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টানা তিন টেস্টে বাংলাদেশ  হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে। কিন্তু সেই ক্যাপ্টেনের  নেতৃত্বেই গতকাল টাইগাররা ইনিংস ও ১০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারাল জিম্বাবুয়েকে।

জয়ের পর অধিনায়ক নিজেই জানালেন, ক্রিকেটার সবাই তার মনের মতো পারফর্ম করেছেন। এমনকি সিনিয়রদের কাছ থেকেও তিনি শতভাগ সহযোগিতা  পেয়েছেন।

ভারত ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগের তিন ম্যাচে যে তিনি সবার কাছে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি  সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন ইঙ্গিতে। তাহলে মুমিনুল জিম্বাবুয়ে টেস্টের আগে কী এমন জাদু মন্ত্র করলেন  যে কারণে বদলে গেল পুরো দল?

ম্যাচ শেষে নিজেই রহস্য ফাঁস করে দিলেন। মুমিনুল বললেন, ‘মাঠে মাঝে মধ্যে প্রয়োজনে রূঢ় আচরণও করতে হয়!’ তাহলে কি আপনি এখন ঝাড়ি মেরে কথা বলেন? এক মিডিয়াকর্মীর এমন প্রশ্নে টাইগার দলপতি রসিকতা করে হাসতে হাসতে বললেন, ‘আমি সবাইকে ঝাড়ি মারি!’

টানা ছয় ম্যাচে বাজেভাবে হারার পর অবশেষে সাদা  পোশাকে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। এই ছয় হারের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটিতে ইনিংস হার। ভারতের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচেও ফল একই। এমন কি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টেও ইনিংসেই হেরেছে টাইগাররা। বাংলাদেশ সবচেয়ে লজ্জাজনক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিল ঘরের মাঠে ‘নবাগত’ দল আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ২২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের পর। তাই জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে এই জয়টি যেন টেস্টে ‘কোমায়’ চলে যাওয়া বাংলাদেশকে এনে দিল নতুন করে বাঁচার ‘উজ্জীবনী শক্তি’!

এই টেস্ট যেন দুহাত উজাড় করে সব কিছু ঢেলে দিয়েছে টাইগারদের। আগের ১০ ইনিংসে যেখানে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি নেই,  সেখানে ক্যাপ্টেন মুমিনুল ঘোষণা দিয়ে বড় ইনিংস  খেললেন! নিজে সেঞ্চুরি করলেন, ডাবল সেঞ্চুরি  পেলেন মুশফিকুর রহিম। হাফ সেঞ্চুরি করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস।

আসল ক্যারিশমা দেখিয়েছেন তো বোলাররা। কী  পেসার কী স্পিনার, সবাই দাপট দেখালেন। দুই ইনিংস মিলে ৯ উইকেট নিয়েছেন স্পিনার নাঈম হাসান। প্রথম ইনিংসে ৪, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট। আরেক স্পিনার তাইজুল দুই ইনিংস মিলে নিয়েছেন ৬ উইকেট। দারুণ বোলিং করেছেন পেসার আবু জায়েদ রাহী। তিনিও প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নিয়েছেন।

সাড়ে তিন দিনেই জিম্বাবুয়েকে হারানোর পর অধিনায়ক মুমিনুলের মুখে চওড়া হাসি। এই ম্যাচে অধিনায়ক এবং পারফরমার হিসেবে যেন ১০০তে ১০০ নম্বরই পেয়েছেন তিনি। একদিন আগে প্রেস কনফারেন্সে মুমিনুলকে প্রশংসায় ভাসিয়েছিলেন ডাবল সেঞ্চুরিয়ন মুশফিকুর রহিম, ‘মুমিনুল বাংলাদেশের সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান। আমি মনে করি  টেস্টে নেতৃত্বের জন্য সে-ই উপযুক্ত ব্যক্তি। ওর ব্যক্তিত্ব বলেন ও যতই ছোট হোক সে বিশ্বমানের।’ এই ম্যাচে মুমিনুলের বদলে যাওয়ার পেছনে ‘লাকি চ্যাম্প’ হিসেবে কাজ করেছে তার নতুন জার্সি ০৭। আগে খেলতেন ৬৮ নম্বর জার্সি পরে। টানা ব্যর্থতার পর হয়তো মুমিনুল যেন ‘লাকি-সেভেন’ বেছে নিয়েছিলেন। এর আগে জার্সি নম্বর পরিবর্তন করেছিলেন ড্যাসিং ওপেনার তামিম ইকবাল। তার পরিচিত ২৯ নম্বর জার্সি ছেড়ে বেছে নিয়েছিলেন ২৮ নম্বর। সে পথেই হেঁটে সফল হলেন মুমিনুল।

কিন্তু কাল জার্সি নম্বর পরিবর্তন করার কারণটা প্রেস কনফারেন্সে জানালেন না! প্রশ্ন করা হলে, এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বললেন, ‘জার্সি নম্বর পরিবর্তন করার  পেছনে কোনো কারণ নেই। এমনি পরিবর্তন করেছি।’ কিন্তু প্রেস কনফারেন্স রুম থেকে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে হাঁটতে হাঁটতে টাইগার দলপতি জানালেন আসল কারণ, ‘আমার বউ বলেছিল, ৭ নম্বরটা তার ভালো লাগে।

 

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৫৬০/৬, ১৫৪ ওভার, (ডি.)

জিম্বাবুয়ে : প্রথম ইনিংস ২৬৫ ও দ্বিতীয় ইনিংস ১৮৯

(৫৭.৩ ওভার) (আরভিন ৪৩, মারুমা ৪১, সিকান্দার রাজা ৪১; নাঈম ৫/৮২, তাইজুল ইসলাম ৪/৭৮)।

বাংলাদেশ : ইনিংস ও ১০৬ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা : মুশফিকুর রহিম।


আপনার মন্তব্য