শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:২০

বাদল রায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে

-মেয়র তাপস

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফুটবলে অভিষেক হয় বাদল রায়ের তৎকালীন ঢাকা স্টেডিয়ামে ১৯৭৭ সালে নভেম্বরে। ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডানের জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠে নেমেছিলেন বাদল রায়। প্রতিপক্ষ ছিল ইন্দোনেশিয়া। ৪৩ বছর পর একই স্টেডিয়াম থেকে সেই নভেম্বরেই চিরবিদায় নিলেন কিংবদন্তি এ ফুটবলার। রবিবার বিকালে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন তিনি। গতকাল শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বাদল রায়ের মরদেহ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আনা হয়। প্রিয় খেলোয়াড়কে শেষবারের মতো দেখতে এসে অশ্রু ঝরছিল অনেকেরই। সাবেক তারকা ফুটবলার মোসাব্বের জানালেন, তারিখটা ঠিক মনে করতে পারছি না। এটা নিশ্চিত ১৯৭৭ সালে নভেম্বর মাসেই মোহামেডানে বাদল ও আমার অভিষেক হয়। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে সেদিন ম্যাচটি হেরে যাই। তবে দুজনার পারফরম্যান্স দেখে কর্মকর্তারা বাহবা দিয়েছিলেন।

মোসাব্বের জানান সেই ম্যাচে সম্ভবত রকিব ও মোকসেদ ভাই ছাড়া কোনো নামজাদা ফুটবলার মাঠে ছিলেন না। বাদল আর আমি একেবারে নতুন মুখ। আমি ২০ ও বাদল ৭ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলাম। শুরু থেকেই আমাদের সেরা একাদশে রাখা হয়। তবে ভয়ে ছিলাম কখন না বদলি করা হয়। দুজন পুরো ম্যাচই খেললাম। আগাখান গোল্ডকাপের পারফরম্যান্সই পরবর্তীতে মোহামেডানে নিয়মিত হয়ে যাই। মাঠে আমাদের চমৎকার বোঝাপড়া ছিল। ১৯৮২ সালে ফেডারেশন কাপে ইনজুরি হয়ে আর খেলতে পারিনি। বাদল ঠিকই এগিয়ে গেছে। ফুটবল ছিল তার সব। কিন্তু তার মূল্যায়ন কি ঠিকমতো করা হয়েছে? মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়ে। মৃত্যু হয়েছে নানামুখী যন্ত্রণায়। ভিতরে যে কত কষ্ট ছিল যার জন্য গাফফারকে বলে গিয়েছিল তার মরদেহ যেন বাফুফে ভবনে না নেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কিংবদন্তি ফুটবলারকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে আসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাদল রায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সফল মানুষ। তার মৃত্যুতে বিশেষ করে ফুটবলে বড় ক্ষতি হয়ে গেল। আমাদের উচিত হবে বাদল রায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। ক্রীড়াঙ্গনে হাজারও পরিচিত মুখ স্টেডিয়ামে ছুটে আসেন।

অনেকে বাদলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। বাদলের মরদেহ তার প্রিয় ক্লাব মোহামেডানে নেওয়া হয়। বাদলকে শেষবারের মতো দেখতে এখানে মানুষের ঢল নামে। সম্মিলিত ক্রীড়া পরিবারের সদস্য সচিব অভিজ্ঞ সংগঠক ফজলুর রহমান বাবুল বলেন, বাদল রায় চলে গেছেন। এ মৃত্যুর পেছনে বড় কারণ মানসিক যন্ত্রণা। ক্রীড়াঙ্গনে এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। বিকালে সবুজবাগ কালীমন্দিরে বাদল রায়কে দাহ করা হয়।


আপনার মন্তব্য