ডিন এলগারের দুর্দান্ত ব্যাটে ভর করে ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজে প্রত্যাবর্তন করলো দক্ষিণ আফ্রিকা। একাই একদিকে দাঁড়িয়ে ওয়ান্ডারার্সে দলকে জেতালেন এলগার। যে পিচে ব্যাট করা যথেষ্ট কঠিন ছিল, সেই পিচেই ৯৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেন এলগার।
এই পিচে প্রথম ইনিংসে ভারত যেমন বড় রান তুলতে পারেনি, দক্ষিণ আফ্রিকাও প্রথম ইনিংসে টিম ইন্ডিয়ার থেকে খুব বেশি রান তুলতে পারেনি। জোহানেসবার্গের কঠিন পিচে কখনও মাথায়, কখনও গলায় আবার কখনও বা চোয়ালে এলগার একের পর এক বাউন্সার পেয়েও ক্রিজ কামড়ে পড়ে রইলেন। এবং তার ফলও পেলেন। ভারতীয় বোলারদের যত আগ্রাসন সব শেষ হয়ে গেল এই এলগারের সামনে।
প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে ভারতকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন শার্দূল ঠাকুর। টিম ইন্ডিয়াকে মাথায় রাখতে হবে, শার্দূল সব ইনিংসেই ৭ উইকেট নেবেন না। বুমরাহ-সামির মতো প্রথম সারির বোলাররা জোহানেসবার্গের মতো বাউন্সি পিচে সুবিধা তুলতে কেন পারলেন না?
বিশেষ করে যে পরিস্থিতিতে বৃষ্টি হওয়ার পর সুইংয়ের ভালো ব্যবহার করা যাবে, সেখানে সাদামাদা দেখা গেল ভারতীয় বোলিং। এই পিচে ২৪০ রানের টার্গেটটা খুব একটা সহজ ছিল না। কিন্তু সেই কাজটা সহজ করে দিলেন ডিন এলগার। তার চমৎকার ব্যাটিংয়ে ভর করে ৭ উইকেটে জোহানেসবার্গের ম্যাচ জিতল প্রোটিয়ারা।
পরিণতবোধ না থাকা ক্যাপ্টেন কেএল রাহুল নেতৃত্ব দিলেন ভারতকে। তবে কি তার জন্য সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ভারতকে এভাবে হারতে হল? উঠছে এই প্রশ্নও। বিরাট কোহলির আচমকা চোটের কারণে জোহানেসবার্গ টেস্ট থেকে সরে যাওয়া, কিছুটা হলেও ধাক্কা দিয়েছিল টিম ইন্ডিয়াকে। ফলে সিরিজ মুঠোয় ভরার ক্ষেত্রে বিরাটের আগ্রাসী ভাবটাও মাঠে পেল না ভারত। ওয়ান্ডারার্সে সিরিজে প্রত্যাবর্তন করলেন ডিন এলগাররা। মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার দূর্গে তাদের হারানোর একপ্রকার বদলা জোহানেসবার্গে নিল প্রোটিয়ারা। আর ভারতীয় দলের জন্য ২৯ বছরের টেস্ট সিরিজ জয়ের খরা কাটানোর জন্য আরও বাড়ল অপেক্ষা। কেপটাউন টেস্টের ওপর এখন নির্ভর করছে সিরিজের ফল।
চতুর্থদিন বৃষ্টির কারণে দুই সেশনের খেলা পুরোপুরি ভেস্তে যায়। বৃষ্টি থামার পর মাঠ শুকনো হলে শুরু হয় তৃতীয় সেশন। তৃতীয় দিন যেখানে শেষ করেছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক, চতুর্থ দিন সেখান থেকেই শুরু করলেন তিনি। বাউন্সারকে তোয়াক্কা না করে ক্রিজ কামড়ে পড়েছিলেন এলগার। ফলও পেলেন তিনি। ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা ফেরাতে দক্ষিণ আফ্রিকার চতুর্থ দিন প্রয়োজন ছিল ১২২ রান। আর ভারতের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। প্রথম এক ঘণ্টা এলগার-ডুসেন জুটিকে ভাঙতে পারেনি ভারত। অবশেষে সামি ফেরান ডুসেনকে। এরপর আর কোনও উইকেট না হারিয়ে এলগার-বাভুমা জুটিতে জয় এনে দেয় প্রোটিয়াদের। বৃষ্টি হওয়ার পরও উইকেট থেকে খুব সাহায্য পেলেন না ভারতীয় বোলাররা।
বিরাট কোহলিহীন ভারতকে হারিয়ে সিরিজ ১-১ করলেন রাবাডা-অলিভিয়েররা। বছরের প্রথম টেস্টে জেতা হল না টিম ইন্ডিয়ার। এখনও পর্যন্ত ওয়ান্ডারার্সে ৬টি টেস্ট খেলল দুই দল। যার মধ্যে ২টি ম্যাচে জিতেছে ভারত, ১টি ম্যাচে জয় দক্ষিণ আফ্রিকার এবং ৩টি ম্যাচ ড্র হয়েছিল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত ১ম ইনিংস: ২০২
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ২২৯
ভারত ২য় ইনিংস: ২৬৬
দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৪০) (আগের দিন ১১৮/২) ৬৭.৪ ওভারে ২৪৩/৩ (এলগার ৯৬*, ফন ডার ডাসেন ৪০, বাভুমা ২৩*; বুমরাহ ১৭-২-৭০-০, শামি ১৭-৩-৫৫-১, শার্দুল ১৬-২-৪৭-১, সিরাজ ৬-০-৩৭-০, অশ্বিন ১১.৪-২-২৬-১)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: প্রথম দুই টেস্ট শেষে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা
ম্যান অব দা ম্যাচ: ডিন এলগার।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ