রংপুর নগরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সুরভি উদ্যান। এই উদ্যানের পশ্চিম প্রান্তে নির্মিত শিশু কর্নার এখন আর শিশুদের কাছে টানতে পারছে না। শিশু কর্নারের বেশ কয়েকটি রাইড, খেলার সামগ্রী অকেজো হয়ে পড়েছে। কর্নারের বেঞ্চ ভঙ্গদশা। শিশু কর্নারের পাশাপাশি পুরো সুরভি উদ্যান মশা উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। এই উদ্যানটি একসময় কালেক্টরেট খেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত ছিল। এই মাঠে এক সময় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ক্লাবের নামি দামি ফুটবলাররা খেলতে আসতেন। বড় জনসভা হতো এখানে। সুরভি উদ্যানের আড়ালে হারিয়ে গেছে কালেক্টরেট মাঠ। এই মাঠকে দুই ভাগ করে প্রধান সড়ক-সংলগ্ন এলাকাকে করা হয়েছে উদ্যান। এর পেছনের অংশে করা হয়েছে ক্রিকেট গার্ডেন। সুরভি উদ্যানে ১২ বছরের সন্তানসহ ঘুরতে আসা ইমরোজ বলেন, সুরভি উদ্যান ঐতিহ্য হারিয়েছে। উদ্যানের পশ্চিম পাশে শিশু কর্নার থাকলেও এর বেশ কয়েকটি রাইডার ভাঙ্গা। এখানে বসার মতো পরিবেশ নেই। উদ্যানে বখাটের আড্ডা থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে কেউ আসতে চায় না এখানে।
জানা গেছে, রংপুর শহরে রাধাবল্লভ মৌজায় ৫ একর জমির ওপর অবস্থিত রংপুর কালেক্টরেট মাঠ। এর উত্তরে ক্রিকেট গার্ডেন অবস্থিত। উদ্যানের অপর পাশে সুরভি উদ্যান অবস্থিত। বর্তমানে উদ্যানে আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। এর মধ্যে আকাশমণি, দেবদারু, নিম, নাগেশ্বর, পাম, রাবার, জাম অন্যতম। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ রয়েছে। কালেক্টরেট সুরভি উদ্যানটি সর্বস্তরের মানুষের ভ্রমণ ও অবসর বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হলেও সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। উদ্যানের ভিতরে বসার জন্য ৩০টি বেঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। ইয়োগা জোন নামে একটি সংস্থা প্রতিদিন উদ্যানে ইয়োগা করে যা স্বাস্থ্যকর নাগরিক জীবনযাপনের জন্য উৎসাহজনক। সুরভি উদ্যানের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দুটি গোলঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পূর্ব পাশের গোলঘরে সিড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। গোলঘরে বসে বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উদ্যানে রয়েছে স্বাধীনতার চেতনার নিদর্শন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে রংপুর শহরের শহীদদের নাম সংবলিত স্বাধীনতার ম্যুরাল রয়েছে। প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালেক্টরেট মাঠে একসময় জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল খেলা হতো। খেলা দেখতে হাজার হাজার মানুষ এই মাঠে ভিড় করতেন। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ এখানে হতো। প্রায় প্রতিবছর এই মাঠে বিভিন্ন ধরনের মেলা হতো। সেসব এখন শুধুই স্মৃতি।