শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১০:৩৩
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১০:৫৪

করোনায় ভারাক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র

করোনায় ভারাক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন
নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দিয়েছেন ট্রাম্প সমর্থকরা

করোনাভাইরাসে দু’ লাখের বেশি আমেরিকানের মৃত্যু সংবাদে সর্বত্র এক ধরনের ভীতি আর সংশয় দেখা দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর কৌশল নিয়ে নিজের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ সারা আমেরিকায় ভোট-প্রচারণা ছাড়াও চলতি পথে কিংবা বাণিজ্যিক কেন্দ্রে অথবা গণমাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সাথে আলোচনা-পর্যালোচনা হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের দোষারোপ করেছেন জাতিসংঘে ভাষণের সময়েও।

ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হোয়াইট হাউজের করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত টাস্কফোর্সের প্রধান মাইক পেন্স দাবি করেছেন যে, এই ভয়ঙ্কর ভাইরাস প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব না হলে আরও বেশি মানুষের প্রাণ যেত।

উল্লেখ্য, জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী মধ্য মার্চ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা পর্যন্ত ৬ মাসে মোট দুই লাখ এক হাজার আমেরিকানের মৃত্যু হয়েছে। 

ট্রাম্পের চরম ব্যর্থতার বিশ্লেষণ করা হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে। ডেমক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন বলেছেন, ট্রাম্প গত ৬ মাসে দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারায় এবং লাগাতার মিথ্যা বলায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি দেখতে হয়েছে।

৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ব্যালট যুদ্ধে ট্রাম্পের এমন মিথ্যাচারের উপযুক্ত জবাব দিয়ে আমেরিকাকে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে হবে বলেও আহবান রেখেছেন  বাইডেন।

গত ৬ মাসে যুক্তরাস্ট্রে করোনায় দৈনিক গড়ে ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে আরও দু’লাখ মারা যাবে বলে স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করেছেন। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি স্টেটে করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ৫টি এলাকাতেও সংক্রমণের হার বেড়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ পাবলিক স্কুল খুললেই সংক্রমণের হার বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতেও ট্রাম্প এবং তার দলের লোকজন স্বাস্থ্যবিধি মানতে চাচ্ছেন না। মাস্ক ব্যবহার করছেন না রিপাবলিকানরা। সামাজিক দূরত্বকে মানছেন না বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থতার জন্যে বরাবরই ট্রাম্পের সমালোচনা হচ্ছে সর্বত্র।  মারাত্মক সংক্রামক এ রোগকে প্রথমে পাত্তা না দেয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের নির্বাচন পূর্ববর্তী পরিস্থিতিতে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছেন-তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মহামারি মোকাবেলায় ট্রাম্পের ভূমিকা এবং পরবর্তীতে অর্থনৈতিক মন্দার জন্যে অনেক ভোটারের কাছেই তার ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘে ৭৫তম সাধারণ অধিবেশনে ভিডিওতে প্রদত্ত ভাষণে ট্রাম্প করোনার জন্যে চীনকে দায়ী করেছেন। চীনকে জবাবদিহি করতে গোটাবিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহবানও জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, ভাইরাসের শুরুর দিকের দিনগুলোতে চীন দেশের মধ্যে ভ্রমণ বন্ধ করে দিয়েছে। অপরদিকে চীন ত্যাগ এবং বিশ্বকে সংক্রমিত করতে ফ্লাইট চালু রেখেছে। এমনকি চীন যখন অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল এবং নাগরিকদের ঘরে আটকে দিয়েছে তখনও তারা তাদের দেশে আমার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছে।

৬ সপ্তাহ বাকি নির্বাচনের। তবে করোনার তাণ্ডবে সবকিছু চলছে সীমিত আকারে। বিভিন্ন স্টেটের আগাম ভোটের ব্যালট বিতরণ করা হচ্ছে। কয়েকটি স্টেটে আগাম ভোট গ্রহণের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। সামগ্রিক অবস্থায় অনেকের ধারণা, এবার আগের চেয়েও বেশি ভোট গৃহিত হবে। তবে ডাকযোগে আসা ভোট নিয়ে নানা অভিযোগ ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে উঠেছে। 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর