Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৫৫
রংপুরের সেই দাপুটে নেতারা এখন
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেছেন রংপুরের অনেক নেতা। অনেকেই একাধিকবার এমপিও হয়েছেন। এরাই দাপটের সঙ্গে রংপুরের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন। এখন সেই নেতাদের দাপট নেই। চলে গেছেন আলোচনার বাইরে। সভা-সেমিনারে খুব একটা দেখা যায় না তাদের। নিজ দলেও গুরুত্ব নেই। হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে একান্ত নিভৃতেই দিন কাটছে তাদের। ওই নেতাদের বর্তমান দিনকালের খোঁজখবর নিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন শাহ আবদুর রাজ্জাক। তিনি রংপুর-৪ আসন থেকে দুবার এমপি নির্বাচিত হন। টানা ১১ বছর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। বর্তমানে জেলা কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে স্থান দিলেও কেউ উপদেশ নেন না। দলীয় কর্মসূচিতেও ডাক পড়ে না তার। দুই বছর আগে সহধর্মিণী জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজিনা রাজ্জাক মারা যাওয়ার পর একা হয়ে গেছেন এই নেতা। নিভৃতে দিন কাটছে তার। রংপুরে আফজালের নাম শোনেননি এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। ছাত্রাবস্থায়ই রাজনীতিতে জড়ানো এ মানুষটি ভাষার জন্য আন্দোলন করেছেন, ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। ছাত্র ইউনিয়ন করার মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে প্রগতিশীল যুবসংগঠন যুবলীগসহ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। পরে গণতন্ত্রী পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম আফজাল দলটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছের দীর্ঘদিন। তিনি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। তিনবার রংপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। নিজের ব্যক্তিগত ভাগ্য পরিবর্তনে কিছুই করেননি। এখনো বাবার গড়া বাড়িতেই দিন কাটে তার। শারীরিকভাবে অসুস্থ তিনি। জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে বই ও সংবাদপত্র পড়ে অবসর কাটছে অকৃতদার আফজালের। মুসলিম লীগ নেতা আলহাজ রহিম উদ্দিন ভরসা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বিএনপিতে যোগ দিয়ে রংপুর-৪ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। টানা ১৫ বছর জেলা বিএনপির সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। নেতৃত্বের কোন্দলের শিকার হয়ে ছয় বছর আগে রাজনীতি থেকে মাইনাস হয়ে গেছেন। বিছানাই এখন ভরসা অসুখে জর্জড়িত শিল্পপতি ভরসার। দলের নেতারাই তার খবর রাখেন না। বড় অসহায় দিন কাটছে তার। করিম উদ্দিন ভরসা শিল্পপতি হিসেবে যতটা না পরিচিতি পেয়েছেন, তার চেয়ে বেশি পরিচিতি পান জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে তিনবার এমপি হওয়ার মাধ্যমে। দীর্ঘদিন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য। এরশাদ মুক্তি আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।

 জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে করিম ভরসাকে ২৯ মার্চ দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এজন্য অনেক আঘাত পেয়েছেন তিনি। বললেন, জাতীয় পার্টির পেছনে অনেক পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করেছি। দলকে অনেক কিছুই দিয়েছি। শেষ বয়সে এসে ‘আমার প্রয়োজন নেই বলে’ দল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দুঃখ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভুলব না।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow