Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ জুন, ২০১৯ ১৫:৩১
আপডেট : ১৮ জুন, ২০১৯ ১৯:০৪

সাকিবই কি সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার, আনন্দবাজারের প্রতিবেদন

অনলাইন ডেস্ক

সাকিবই কি সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার, আনন্দবাজারের প্রতিবেদন

ফের প্রশ্নটা উঠতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানই কি সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার? এভাবেই সাকিবকে শিরোনামে রেখে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার।   

বিশ্বকাপে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জয় এনে দিয়েছেন সাকিব। সাকিব দলের হয়ে ম্যাচজয়ী সর্বোচ্চ ১২৪ রানের ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে, ৫৪ রান দিয়ে দুই উইকেট তুলে নিয়েছেন সাকিব। অসাধারণ জয়ে ম্যাচ সেরা হন সাকিব।

চলতি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৫ এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৪ রান করেন সাকিব। এছাড়াও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরিও (১২১) করেন তিনি। এদিকে তিনি আবারও বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় প্রথম স্থানে উঠে এসেছেন।

তবে কি হ্যাডলি-বোথাম-কপিল-ইমরান বা গ্যারি সোবার্সকে পেছনে ফেলে সেরার সেরা অলরাউন্ডারের তকমা কেড়ে নিলেন সাকিব? 

এদিকে পিচ যেমনই হোক না কেন, নিউজিল্যান্ডের স্যার রিচার্ড হ্যাডলির ফাস্ট বোলিং খেলা সত্যিই মুশকিল ছিল। বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললেও বল করতেন ডান হাতে। ৮৬ টেস্টে ৪৩১ উইকেট নিয়েছেন। সঙ্গে যোগ করেন ৩১২৪ রান। সেরা স্কোর অপরাজিত ১৫১ রান। ওডিআই-তে ১১৫ ম্যাচে রয়েছে ১৭৫১ রান এবং ১৫৮ উইকেট।

এদিকে ১০২ টেস্টে ইংল্যান্ডের স্যার ইয়ান বোথাম করেছেন ৫২০০ রান এবং ৩৮৩ উইকেট। ১১৬টি ওডিআই-তে রয়েছে ২১১৩ রানের সঙ্গে ১৪৫ উইকেট। তার ফাস্ট মিডিয়াম বোলিংয়ে ধরাশায়ী হননি এমন ব্যাটসম্যান কমই আছেন। আর লোয়ার অর্ডারে বোথামের ব্যাটিং দলকে বহু বার স্মরণীয় জয় এনে দিয়েছে।

১৯৮৩-তে ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতকে প্রথম বার বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন অধিনায়ক কপিল দেব। অলরাউন্ডার হিসেবে বোথাম-ইমরান-হ্যাডলির সঙ্গে একসারিতে নাম উঠে তার। ১৩১ টেস্টে ৫২৪৮ রান ছাড়াও নিয়েছেন ৪৩৪ উইকেট। ২২৫টি ওডিআই-তে ৩৭৮৩ রান ছাড়াও তুলে নিয়েছেন ২৫৩ উইকেট। ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সঙ্গে আউটসুইংয়ের জন্য নাম কুড়িয়েছিলেন কপিল।

অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তান ক্রিকেটকে অন্য মাত্রা দিয়েছিলেন ইমরান আহমেদ খান নিয়াজি। ১৯৯২-তে তার নেতৃত্বেই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। ফাস্ট বোলার হিসেবে এই অক্সফোর্ড স্নাতকের ঝুলিতে রয়েছে ১৮২ ওডিআই উইকেট (১৭৫ ম্যাচে)। ব্যাটে অবদান ৩৭০৯ রান। আর ৮৮ টেস্টে করেছেন ৩৮০৭ রান। সঙ্গে নিয়েছেন ৩৬২ উইকেট।

এছাড়া ব্যাটে-বলে সমান বিধ্বংসী ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার জাক কালিস। ১৬৬ টেস্টে ১৩২৮৯ রানের পাহাড়ের সঙ্গে তার ঝুলিতে রয়েছে ২৯২ উইকেট। ৩২৮ ওডিআই খেলে তার ফাস্ট মিডিয়াম বোলিংয়ে তুলে নিয়েছেন ২৭৩ উইকেট। সঙ্গে করেছেন ১১৫৭৯ রান। ২৫টি টি-২০তে ৬৬৬ রান ছাড়াও রয়েছে ১২ উইকেট।

অনেকের মতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্যার সোবার্সই সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার। ফাস্ট মিডিয়াম-অফস্পিন-লেগব্রেক, বোলিংয়ের সব নমুনাই দেখিয়েছেন এই বাঁ-হাতি। ৯৩ টেস্টে ২৩৫ উইকেট ছাড়া রয়েছে ৮০৩২ রান। ১৯৫৮-এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্টে করেছিলেন অপরাজিত ৩৬৫ রান। ’৯৪-এ ৩৭৫ রান করে সে রেকর্ড় ভেঙেছিলেন ব্রায়ান লারা।

এদিকে আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে ওডিআই অলরাউন্ডার হিসেবে সাকিব আল হাসান রয়েছেন এক নম্বরে। ২০২ ওডিআইতে করেছেন ৬১০১ রান। বাঁ-হাতি অর্থডক্স বোলিংয়ে তুলে নিয়েছেন ২৫৪ উইকেট। ৫৫ টেস্টে ৩৮০৭ রানের সঙ্গে রয়েছে ২০৫ উইকেট। টি-২০তে করেছেন ১৪৭১ রান (৭২ ম্যাচে) এবং রয়েছে ৮৮ উইকেট।


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য