১১ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৪:৫১

যমুনা চরে চলছে গাইঞ্জা ধান কাটা-মাড়াই

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

যমুনা চরে চলছে গাইঞ্জা ধান কাটা-মাড়াই

আদিকাল থেকে বগুড়ার যমুনা চরের কৃষকরা স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা ধান চাষ করে আসছেন। খেতে সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এ ধান বাঙালির প্রিয় খাবার। আদিকালের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে চরাঞ্জলের কৃষকরা চাষ করছেন এ ধান। চলতি মৌসুমে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চরের কৃষকরা এখন গাইঞ্জা ধান কাটা-আড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেরিতে বন্যা হওয়ায় গত বছরের চেয়ে এ বছর আবাদ কম হয়েছে। 

কৃষি অফিস বলছে, গত বছর সারিয়াকান্দির যমুনা চরে গাইঞ্জা ধানের আবাদ হয়েছিল ২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। আর ফলন হয়েছিল প্রতি হেক্টরে ১.৬ টন। চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭০০ হেক্টর। অর্জন হয়েছে ১ হাজার ৮১০ হেক্টর।

জানা যায়, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় আদিকাল থেকে যমুনা চরের কৃষকরা স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা ধান চাষ করে আসছেন। সরু জাতের এ ধানের ভাত সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও প্রচুর। তাছাড়া এই ধান উৎপাদনে কোনো প্রকার রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। তাই বাজারে এ ধান উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। চর এলাকার কৃষকরা এ জাতের ধান সারাবছর খেয়ে থাকেন। আর অতিরিক্ত ধান তারা বাজারে বিক্রি করেন। এ বছর বন্যা দেরিতে হওয়ায় গত বছরগুলোর তুলনায় স্বল্প জমিতে গাইঞ্জা ধানের আবাদ হয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, সময়মত বন্যা হলে জমিতে পলিমাটি পড়ে। আর সেই পলিমাটিতেই কোন প্রকার চাষ ছাড়াই এ ধানের চারা রোপণ করতে হয়। কিন্তু এ বছর বন্যা দেরিতে হওয়ায় তারা সময়মত জমিতে ধান রোপণ করতে পারেননি। তাছাড়া এবার অসময়ের বন্যায় কৃষকের বেশকিছু গাইঞ্জা ধান পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে। সাধারণত ভাদ্র-আশ্বিন মাসে জমিতে এ ধান রোপণ করতে হয়। আর কর্তন শুরু হয় অগ্রহায়ন মাসের মাঝামাঝি থেকে। 

বর্তমানে উপজেলাগুলোতে গাইঞ্জা ধান কাটা-মাড়াই করে গোলায় তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। গত বছরের তুলনায় এ সময় ধানের দাম ভাল থাকায় কৃষকেরা লাভবান হবেন। যমুনা নদীপাড়ের চরে এখন চলছে কৃষকদের ধান কাটা, নৌকা দিয়ে ফসল নদীপার করা এবং কৃষাণীদের ধান মাড়াইয়ের কাজ। দম ফেলানরে সময় তাদের নেই। 

সারিয়াকান্দি কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চালুয়াবাড়ী, ফাজিলপুর, তেলীগাড়ী, গওলাডাঙ্গা, মানিকদাইড়, আউচারপাড়া, কাকালিহাটা, সুজনের পাড়া, চকরথিনাথ, দিঘাপাড়া, করনজাপাড়া, বনরপাড়া, জামথল, পাকুরিয়া, উত্তর টেংরাকুরা, চর ঘাগুয়া, নব্বইয়ের চর, কটাপুর, বেড়া পাঁচবাড়িয়া, কুড়িপাড়া, বাওইটোনা, উত্তর বেনিপুর, দক্ষিণ বেনিপুর, সারিয়াকান্দি সদরের চরবাটিয়া, চরশালুকা, কর্নিবাড়ী ইউনিয়নের চিলাপাড়া, চরপাড়া, মথুরাপাড়া, ইন্দুরমারা, মুলবাড়ী, এবং ডাকাতমারা, বোহাইল ইউনিয়নের ধারাবর্ষা, শংকরপুর, কমরপুর, মাঝবাড়ী, মাঝিয়া, পৌতিবাড়ী, হাতিয়াবাড়ী চরে গাইঞ্জা ধান ভালো হয়েছে। 

উপজেলার চরবাটিয়া চরের কৃষক আসমত আলী জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে গাইঞ্জা ধানের আবাদ করেছেন। এ বছর বন্যা না হওয়ায় অনেক কৃষক অল্প জমিতে গাইঞ্জা ধানের চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে। দামও ভালো পাবো আশা করছি। বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১৫ মণ করে ধান পাওয়া যায়। এই ধানের আবাদে খরচও কম। এখন পুরোদমে চর এলাকায় ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ চলছে। বাজারে অন্য ধানের চেয়ে মণ প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা মূল্য বেশি গাইঞ্জা ধানের। 

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, চলতি বছরে গাইঞ্জা ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত অর্জন হয়েছে ১ হাজার ৮১০ হেক্টর। আশা করা হচ্ছে এক সপ্তাহের মধ্যে কর্তন শেষ হবে। তবে এ বছর বন্যা কম হওয়ায় চরাঞ্চলের জমিতে পলিমাটি কম পড়েছে। ফলে কৃষকরা অল্প পরিমাণ জমিতে গাইঞ্জা ধানের আবাদ করেছেন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে কৃষকরা দামও ভাল পাচ্ছেন।  

বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

সর্বশেষ খবর