শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৯:৩১

সোমবার ঢাবির সমাবর্তন, ক্যাম্পাসে উচ্ছ্বাস

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

সোমবার ঢাবির সমাবর্তন, ক্যাম্পাসে উচ্ছ্বাস
ফাইল ছবি

আগামী ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের উচ্চ শিক্ষার শীর্ষ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন। সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে স্নাতক আর স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হতে শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। কার্জন হল, কলা ভবন, রাজু ভাষ্কর্য আর অপরাজেয় বাংলায় তাদের কোলাহল আর হৈ চৈ-এ বসছে প্রাণ-প্রাচুর্যের মেলা। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৮ বছরের ইতিহাসে এ বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৫২তম সমাবর্তন।  এতে অংশ নিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ হাজার ৩৮৭ জন শিক্ষার্থী। এর বাহিরে উপাদানকল্প ও অধিভুক্ত কলেজসমূহের আরও ১৫ হাজার ৩৮৯ জন শিক্ষার্থী এ সমাবর্তন থেকে তাদের স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেবেন। 

আজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে সমাবর্তনের মূল অনুষঙ্গ কস্টিউম বিতরণ। এদিন, কলা অনুষদ, কার্জন হল, বিজনেস স্টাডিজ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ এবং টিএসসি থেকে নির্ধারিত কস্টিউম সংগ্রহ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটবৃন্দ। কালো কোর্তা, স্কার্ফ আর রঙ্গিন ঝুটি সংবলিত টুপির বিশেষ এই পোষাক তাদের মনে খেইয়ে দিচ্ছে আনন্দের দোল। কস্টিউমের সাথে উপহার হিসেবে পাটের ব্যাগে পুরে প্রত্যেক গ্রাজুয়েটকে দেওয়া হয়েছে অপরাজেয় বাংলার একটি ফটোফ্রেম ও টাই। 

তবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে সরবরাহ করা সাধের কস্টিউমটি নিয়ে অভিযোগ করেছেন কোনো কোনো গ্রাজুয়েট। এসবের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কর্তৃপক্ষকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। 

হাল আমলে বন্ধু-বান্ধব আর পবিরার পরিজনদের নিয়ে ছবি না তুললে যেন সমাবর্তনের আনন্দ অপূর্ণই থেকে যায়। সাথে নানা ভঙ্গিমায় সেলফি তো আছেই। আজ কস্টিউম পেয়ে স্নাতকগণ বন্ধু-বান্ধব দিয়ে ছবি তোলার প্রথম দিন উৎযাপন করেছেন। আড্ডা-গল্পের ফাঁকে ফাকেঁ পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে ঘুরে ছবি উঠাতে তাদের ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। 

অপরাজেয় বাংলার সামনে ছবি উঠাচ্ছিলেন টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের সদ্য গ্রাজুয়েট খন্দকার রুবাইয়াত মুরসালিন। তিনি উচ্ছ্বাস ভরা গলায় জানালেন, “অনেক স্বপ্ন নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসছিলাম। ‘সম্মানে’র পাঠ চুকিয়ে সেই স্বপ্নগুলোকে এই সত্যি করার পালা। সামনের দিনগুলো আনন্দে কাটাবো এখন এই প্রত্যাশা”। 

তবে উচ্ছ্বাসের সাথে কিছুটা বিষাদও ঝড়ে পড়লে তার কণ্ঠে, ‘দীর্ঘ এই চারটি বছর স্নেহময় অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা, বন্ধু-বান্ধব, বড় ভাই, ছোট ভাইদের সাথে কেটেছে। কিছুদিন পরেই তাদের ছেড়ে যেতে হবে। এটা ভাবতেই অনেক কষ্ট লাগছে।’ 

তবে ভালোবাসার বাধঁন ছিন্ন করার এই বাস্তবতা রুবাইয়াতের মত প্রত্যেক গ্রাজুয়েটকে তাড়া করলেও সমাবর্তনের এই কয়টা দিন তা ভুলে থাকাই ভালো। তাইতো অনেককেই দেখা গেলো নিজেদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। কেউ কেউ নিজের টুপি খুলে হবু গ্রাজুয়েটদের পড়িয়ে তাদেরও ছবি তুলেছেন। 

উল্লেখ্য, ৯ তারিখের সমাবর্তনের সভাপতিত্ব করবেন দেশের রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য  অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে থাকবেন পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজেতা ও জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কসমিক রে রিসার্চে’র পরিচালক ড. তাকাকি কাজিতা। সমাবর্তনের দিন দুপুর ১২টার দিকে শোভাযাত্রা নিয়ে জাতীয় সংগীতের সাথে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও অন্যান্য শিক্ষকবর্গ। 
আচার্যের উদ্বোধন ঘোষণার পর ধর্মীয়গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হবে। পরে স্বাগত সংগীত ও নৃত্য পরিবেশিত হবে। শুরুতেই সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব সায়েন্স’ ডিগ্রি প্রদান করা হবে সমাবর্তন বক্তা ড. তাকাকিকে। রাষ্ট্রপতির ক্রেস্ট গ্রহণের পর গ্রাজুয়েটদের ডিগ্রি প্রদান করবেন স্ব স্ব অনুষদ বা ইনস্টিটিউটের ডিন ও পরিচালকবৃন্দ। এরপর কৃতি গ্রাজুয়েটদের স্বর্ণপদক প্রদান করা হবে। 

সমাবর্তনের এ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তার পরেই ভাষণ দেবেন সমাবর্তন বক্তা ড. তাকাকি কাজিতা। এরপরে গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন রাষ্ট্রপতি ও আচার্য আব্দুল হামিদ। তার সমাপ্তি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

বিডি-প্রতিদিন/ সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য