শিরোনাম
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৫১

চট্টগ্রাম বন্দরে দুদকের গণশুনানি, ৯ দিনে দেড় শতাধিক অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম বন্দরে দুদকের গণশুনানি, ৯ দিনে দেড় শতাধিক অভিযোগ

দেশের যে যে সেক্টরে অনিয়ম, দুর্নীতি জেঁকে বসেছে সেখানেই প্রতিরোধ করতে হবে। গণশুনানি দুর্নীতির পথ টিহ্নিত করে দেয়। দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে হবে। অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের কোথায় অনিয়ম হচ্ছে, তা প্রতিষ্ঠান প্রধানও জানেন না

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরের শহীদ মুন্সী ফজলুর রহমান হলে দুদকের গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুদক কমিশনার (তদন্ত) এএফএম আমিনুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নাগরিকরা এ দেশের মালিক। ২০০৭ সালে দুদক কার্যকর হয়েছে। দুইটি বিষয় দেখে দুদক। একটি প্রতিরোধ, অন্যটি প্রতিকারমূলক। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৫ হাজার স্কুলে সততা স্টোর করেছি, মূল্যবোধ শিক্ষা দিতে। আমাদের সন্তানদের ভালো মানুষ করতে হবে। মানুষকে অত্যাচার করে টাকা বানানোর লক্ষ্য থাকলে হবে না।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নুরুল আলম নিজামী সভাপতিত্বে গণশুনানিতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং প্রবৃদ্ধি ১২-১৪ শতাংশ। যা জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি। প্রধানমন্ত্রী বন্দরের কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বন্দর অটোমেশন পদ্ধতি বাস্তবায়নে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণশুনানির বিকল্প নেই। সেবাগ্রহীতারা অনেক সময় বঞ্চিত হচ্ছেন। আমরা পরামর্শ পেলে ব্যবস্থা নেব। দেশের বহিঃবাণিজ্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে চেষ্টা করছে বন্দর। সরকারের ভিশন ও ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বন্দর কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত দুদক অভিযোগ সংগ্রহে নামলে হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের প্রায় দেড় শতাধিক অভিযোগ পায় চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। সোমবার গণশুনানির শেষ দিনে অভিযোগ সংগ্রহের পর এসব তথ্য জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা।

দুদকের কর্মকর্তারা জানান, এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ইক্যুইপমেন্ট অপারেশন সেক্টরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নানা অনিয়ম, বন্দরে ১-৪টি গেটে পণ্য বহনের ট্রাক থেকে ঘুষ নেওয়া, মেরিন সাইডের অনিয়ম ও দুর্নীতি, কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সময় হয়রানি, জেটিতে ডিসি ও এডিসির ঘুষ বাণিজ্যের নানা অভিযোগ। গত ৯ দিন ধরে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক ও সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে এসব অভিযোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক চট্টগ্রামের পরিচালক মাহবুব হাসান, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির চট্টগ্রাম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম কমু প্রমুখ।

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার

 

 


আপনার মন্তব্য