বরিশালের ইছাগুড়া এলাকায় ধর্ষণ ও গর্ভের ভ্রুন হত্যা চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া এক শিশু কন্যার বয়স ২১বছর হওয়া পর্যন্ত তার যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের জন্য সরকারের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ আবু তাহের বুধবার বিকেলে আসামীর অনুপস্থিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত বজলুর রহমান একই এলাকার এছাহাক আলীর ছেলে।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান জানান, মামলার বাদির সাথে প্রতিবেশী বজলুর রহমানের প্রেমের সম্পর্ক হয়। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাদিকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ণি করে আসামী। এতে বাদী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। তখন বাদি বজলুকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। বিয়ের জন্য পোশাক কেনার কথা বলে বাদীকে বরিশাল নগরীতে এনে হাসপাতালে ভর্তি করে তার গর্ভের ভ্রুন হত্যার চেষ্টা করে আসামী। এ সময় তখন বাদি পালিয়ে যায়। ভ্রুন হত্যায় ব্যর্থ হয়ে বজলু বাদিকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়।
এ ঘটনায় ২০১১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। একই থানার এসআই আনোয়ার হোসেন একই বছরের ৩ এপ্রিল বজলুর রহমানকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে সংশ্লিস্ট ট্রাইব্যুনালে ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় উপরোক্ত রায় ঘোষণা করেন বিচারক।
বিডি প্রতিদিন/০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/ সালাহ উদ্দীন