মোটরসাইকেল চালকের সাথে আরোহীর হেলমেট না থাকায় মামলা দেন ট্রাফিক সার্জেন্ট সোহেল রানা। কিন্তু কোনো এক বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কির জের ধরে ওই মোটরসাইকেল চালকের উপর হঠাৎ চড়াও হন সার্জেন্ট। এসময় তিনি উপর্যপুরি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। আর এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এদিকে মারধরের অভিযোগে ওই ট্রাফিক সার্জেন্ট সোহেল রানা চৌধুরীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা পূর্ব ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান।
জানা যায়, সোমবার (১ এপ্রিল) সকালে রামপুরা থেকে হাতিরঝিলে ঢোকার মুখে রাস্তায় এক পাঠাও রাইডারকে ট্রাফিক সার্জেন্ট সোহেল রানা মারধর করেন। ভুক্তভোগীর দাবি, তার সহযাত্রীর মাথায় হেলমেট না থাকায় মামলা দেওয়ার পরও চড়াও হন রামপুরা ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট সোহেল রানা চৌধুরী।
তবে ট্রাফিক সার্জেন্টের পাল্টা অভিযোগ, শাহীন আহমেদই প্রথমে তাকে গালাগাল ও ধাক্কা দিয়েছিলেন। তাই তিনিও ধাক্কা দেন। ভিডিওতে যা দেখা যাচ্ছে তা পুরো ঘটনার খণ্ডিত অংশ। প্রথমে পুলিশের ওপরই হাত তোলা হয়েছিল। কিন্তু ভিডিওতে তা দেখা যাচ্ছে না।
পাঠাও রাইডার শাহীন আহমেদ জানান, তিনি মাঝে মাঝে পাঠাওয়ের রাইড দেন। গতকালও সোমবারও সেই উদ্দেশ্যেই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু যাত্রীর জন্য রাখা হেলমেটটি গতরাতে বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ায় তিনি ওই যাত্রীকে বলেছিলেন, ট্রাফিক সার্জেন্ট দেখলে তিনি যেন ভেজা হেলমেটটি মাথায় দেন। হাতিরঝিলে রাস্তায় ঢোকার মুখেই পুলিশ বক্সে তাকে থামিয়ে সব কাগজপত্র যাচাই করে শুধুমাত্র যাত্রীর মাথায় হেলমেট না থাকার জন্য মামলা দেওয়া হয়।
তার অভিযোগ, 'ওই এলাকা দিয়ে যাওয়া অন্যান্য মোটরসাইকেল চালকদেরও গণহারে মামলা দেওয়া হচ্ছিল। তুচ্ছ কারণে মামলা দেওয়ার প্রতিবাদ করায় ওই ট্রাফিক সার্জেন্ট গালাগালি করে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশ বক্সের ভেতরে ঢুকিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়।'
এদিকে ঢাকা পূর্ব ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান অভিযুক্ত সার্জেন্টকে ক্লোজড করার কথা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, 'মারধরের ভিডিওটি আমি দেখেছি। অসদাচরণের জন্য সার্জেন্ট সোহেল রানা চৌধুরীকে ডিসি অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অধিকতর তদন্ত করা হবে।'
তিনি আরো জানান, মারধরের শিকার মোটরসাইকেল চালক শাহীন আহমেদের সঙ্গে তার নিজেরও ফোনে কথা হয়েছে। অভিযোগের কথা তাকে তিনি লিখিতভাবে জানাতে বলেছেন।
উল্লেখ্য, সোহেল রানা চৌধুরী ২০১১ সালে ট্রাফিক সার্জেন্ট হিসেবে যোগদান করেছিলেন। ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে যেসব সার্জেন্ট সবচেয়ে বেশি মামলা দিয়েছিলেন তিনি তাদের মধ্যে ছিলেন। এই কাজের কৃতিত্বস্বরূপ পুরস্কৃত হয়েছেন বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল