শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ১৮:৩০
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ২১:৩৪

আড়ংয়ের পোশাক চেঞ্জরুমে গোপনে ধারণ করা ৩৭ ভিডিও উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক

আড়ংয়ের পোশাক চেঞ্জরুমে গোপনে ধারণ করা ৩৭ ভিডিও উদ্ধার

নারী সহকর্মীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আড়ংয়ের চাকরিচ্যুত কর্মী সিরাজুল ইসলাম সজীবের কাছ থেকে ৩৭টি পোশাক পরিবর্তনের ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। গোপনে ধারণ করা সবগুলো ভিডিও আড়ংয়ের কর্মচারী চেঞ্জরুমে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত তরুণীদের।

এর আগে, আড়ংয়ের বনানী আউটলেটের একজন বিক্রয় প্রতিনিধি গত ১৬ জানুয়ারি সিরাজুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। 

এরপর গত শনিবার মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়া থেকে সজীবকে গ্রেফতার করা হয়। পরে একদিনের রিমান্ডে নেয় ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি ও ক্রাইম বিভাগ। তদন্তের সময় সজীবের কাছ থেকে ৩৭টি ভিডিও উদ্ধার করা হয়। এগুলো আড়ংয়ের বনানী শাখার তরুণী স্টাফদের পোশাক পরিবর্তনের সময় ধারণ করা হয়।

তদন্ত সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত ৩৭টি ভিডিও ৮-১০ জন স্টাফ তরুণীর। তারা ডিউটির শুরুতে স্টাফ চেঞ্জরুমে নিজেদের সাধারণ পোশাক পরিবর্তন করে আড়ংয়ের নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরেন। আবার ডিউটি শেষে ইউনিফর্ম বদলে নিজেদের কাপড় পরে বের হয়ে যান। সেসময়ই গোপনে সেলফি স্টিক দিয়ে ওই রুমে স্থাপিত ক্যামেরায় ভিডিও করতেন সজীব।

এক সহকর্মীর ভিডিও ধারণ ও সামাজিক মাধ্যমে আপলোডের অভিযোগে গত বছরের ডিসেম্বরে তাকে চাকরিচ্যুত করে আড়ং। তবে এর পরপরই জানুয়ারিতে সজীব ২২ বছর বয়সী এক তরুণী স্টাফের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে তার কাপড় পরিবর্তনের ভিডিও পাঠিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করেন।  সজীব ওই তরুণীর ম্যাসেঞ্জারে ছবি পাঠিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন এবং চাঁদা দাবি করেন।

এ বিষয়ে ডিএমপির সাইবার ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আসামি রিমান্ডে রয়েছেন। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।

তদন্ত সূত্র জানায়, সজীবের গ্রামের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন থানার আমিনাবাদে। তার কাছ থেকে একটি রেডমি ৫ প্লাস ফোনসেট জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে আড়ংয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার আশরাফুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, আড়ং যৌন হয়রানিমূলক যে কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নীতিগতভাবে সর্বদা কঠোর অবস্থানে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় সজীবের বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বরে যৌন হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে তাকে তৎক্ষণাৎ চাকরিচ্যুত করা হয়। এছাড়া সজীবের বিরুদ্ধে মামলা করা বিক্রয় প্রতিনিধিকে মামলার শুরু থেকেই সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব

 

 


আপনার মন্তব্য