শিরোনাম
প্রকাশ : ২ জুলাই, ২০২০ ১১:৪২

পানি ও জলবায়ু সঙ্কট দূরীকরণে যৌথভাবে কাজ করবে ওয়াটারএইড ও আইসিসিসিএডি

অনলাইন ডেস্ক

পানি ও জলবায়ু সঙ্কট দূরীকরণে যৌথভাবে কাজ করবে ওয়াটারএইড ও আইসিসিসিএডি

পানি ও জলবায়ু নিয়ে ওয়াটারএইডের বৈশ্বিক প্রচারণার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে জলবায়ু ও পানি সঙ্কট দূরীকরণে কৌশলগত বিষয়গুলো জোরদার করতে অনলাইনে সংস্থা দু’টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিযোজনের সাথে সাথে দরিদ্র ও বিপন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ওয়াশ (পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি) কার্যক্রম ত্বরাণ্বিত করতে ওয়াটারএইড এবং আইসিসিসিএডি এ সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় সাইক্লোন আম্পানের তাণ্ডবে দরিদ্র ও বিপন্ন জনগোষ্ঠীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এর সাম্প্রতিক উদাহরণ, যার ভয়াবহতা আজও আমাদের স্মৃতিতে ভেসে ওঠে। জলবায়ু পরিবর্তন দরিদ্র মানুষের জীবনকে আরো কঠিন করে তুলছে; বিশেষ করে এ পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যেই নারীদের জীবনকে আরও কঠিন অবস্থার সম্মুখীন করেছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আইসিসিসিএডি’র সাথে এ অংশীদারিত্বের ফলে বাংলাদেশে পানি ও জলবায়ু অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দেয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সকল খাতের সমর্থনকে বেগবান করবে।’

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের (আইসিসিসিএডি) পরিচালক ড. সালিমুল হক বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিটি খাতকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে, পানি খাত সামনে আরো বেশি ঝুঁকিতে থাকবে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে এ ক্ষতির প্রভাব হ্রাসে অনেক প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছে। সরকার থেকে শুরু করে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ ও গবেষক; আমরা সবাই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। বাংলাদেশের মানুষ সাধারণত খুব তাড়াতাড়ি কোন কঠিন পরিস্থিতিতে থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এ সমস্যাগুলো উত্তরণে বাংলাদেশের মানুষের প্রাণশক্তির বিষয়ে আমার আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। ওয়াটারএইডের সাথে আইসিসিসিএডি’র অংশীদারিত্ব বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিযোজন সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়গুলোর জোরদারের পথকে সুগম করবে।’

ক্লাইমেট চেঞ্জ, ডিআরআর অ্যান্ড জেন্ডারের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা শায়লা শহীদ বলেন, ‘ওয়াশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিটি স্তরে নারীর ক্ষমতায়নের ওপর আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা পানি সঙ্কটজনিত সমস্যায় নারীরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়। নীতি সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় পানি সঙ্কটে ক্ষতিগ্রস্তদের এ সব সমস্যার কথা তুলে ধরাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিৎ।’  

ডেপুটি ডিরেক্টর ড. মিজান আর. খান বলেন, 'এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণার আগ্রহ বাড়িয়ে তুলবে এবং গবেষকদেরও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে পানি খাত বেশ ঝুঁকিতে রয়েছে; তাই এ নিয়ে সামনের দিনগুলোতে সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ওয়াশ খাত সম্পর্কে যথাযথভাবে জানা খুবই গুরুত্বপ‚র্ণ।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে পানি ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানো এবং এ খাতগুলোতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা আলোচনা করেন হেড অব পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি ড. আব্দুল্লাহ আল-ম‚য়ীদ। 

ওয়াটারএইড যুক্তরাজ্যের গ্লোবাল ক্যাম্পেইনস ডিরেক্টর ক্লেয়ার সিউড বলেন, ‘বৈশ্বিকভাবে ১০ জন মানুষের ভেতর একজন তাদের বাড়ির নিকটে সাধারণ পানির পাম্প কিংবা ঢাকনাযুক্ত কূপ সুবিধা নেই, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার বিষয়টিকে আরও কঠিন করে তুলছে। বেঁচে থাকার জন্য প্রত্যকেরই পানির প্রয়োজন। 

আর এ কারণেই আমরা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলার ক্ষেত্রে বিশ্বের সকল সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের কর্ম পরিকল্পনায় সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানাই।’ 

জলবায়ু ও পানি বিষয়ক প্রচারণা নিয়ে ৩ বছরের এ সমন্বিত উদ্যোগটি পরিচালনার লক্ষ্যে আজ অনলাইনে প্রতিষ্ঠান দু’টির মাঝে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় দু’টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর