শিরোনাম
প্রকাশ : ৮ জানুয়ারি, ২০২১ ২২:১৪
প্রিন্ট করুন printer

১৪ জানুয়ারি সাকরাইন উৎসব

অনলাইন ডেস্ক

১৪ জানুয়ারি সাকরাইন উৎসব
ফাইল ছবি

প্রথমবারের মতো সাকরাইন (ঘুড়ি) উৎসবের আয়োজন করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ‘এসো ওড়াই ঘুড়ি, ঐতিহ্য লালন করি’ স্লোগানে আগামী ১৪ জানুয়ারি এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ডিএসসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর দুইটা থেকে শুরু হয়ে উৎসব চলবে রাত আটটা পর্যন্ত।

সাকরাইন উৎসব প্রসঙ্গে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ঐতিহ্যের সুন্দর, সচল, সুশাসিত ও উন্নত ঢাকা গড়ে তোলার যে রূপরেখা মেয়র ঘোষণা করেছেন, তারই আলোকে এবার পৌষ সংক্রান্তিতে প্রথমবারের মতো করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে সমন্বিতভাবে পৌষ সাকরাইন তথা ঘুড়ি উৎসব আয়োজন করতে যাচ্ছে।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৭:৫২
প্রিন্ট করুন printer

ডিএমপির এডিসি ও এসি পদমর্যাদার ৪ কর্মকর্তার পদায়ন

অনলাইন ডেস্ক

ডিএমপির এডিসি ও এসি পদমর্যাদার ৪ কর্মকর্তার পদায়ন

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) পদমর্যাদার তিন জন ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার এক জন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে।

বুধবার ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ পদায়ন করা হয়।

ডিএমপির পিওএম-পশ্চিম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়াকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ক্রাইম কমান্ড এন্ড কন্ট্রোল সেন্টার, অপারেশনস বিভাগ, পিওএম-পশ্চিম বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুন নূরকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার পিওএম-পশ্চিম বিভাগ, ক্রাইম কমান্ড এন্ড কন্ট্রোল সেন্টারের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আছমা আরা জাহানকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোয়েন্দা-উত্তরা বিভাগ ও লজিস্টিকস বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ইকুইপমেন্ট) নাজিয়া ইসলামকে সহকারী পুলিশ কমিশনার গোয়েন্দা রমনা বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৭:২১
প্রিন্ট করুন printer

খুলনায় হেরোইন পাচার মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

খুলনায় হেরোইন পাচার মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

খুলনায় হেরোইন পাচার মামলায় রিপন শেখ নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। 

একই মামলায় অপর দুই আসামি শাহিন মোড়ল ও মহিউদ্দিনকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এনামুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। রায় ঘোষণাকালে আসামি রিপন শেখ ও মহিউদ্দিন মোল্লা পলাতক ছিলেন। 

জানা যায়, ২০১৮ সালের ৬ এপ্রিল ডুমুরিয়ার চুকনগর বাজার থেকে ৪৫ গ্রাম হেরোইনসহ রিপন শেখসহ ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। 

এ ঘটনায় র‌্যাবের ডিএডি মো. অহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ডুমুরিয়া থানায় মামলা করেন। ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ডুমুরিয়া থানার এসআই মো. আশিকুল আলম তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:৪৪
প্রিন্ট করুন printer

রাজধানীর ওয়ারীতে কিশোরের গলা কাটা লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ওয়ারীতে কিশোরের গলা কাটা লাশ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর ওয়ারীর একটি বাসা থেকে গলা কাটা অবস্থায় হাসান (১২) নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় বাসা থেকে আনুমানিক ৯০ হাজার টাকা ও কিছু স্বর্ণ খোয়া গেছে বলে দাবি করেছেন হাসানের খালা আয়শা।  

বুধবার দিবাগত ১২টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

ওয়ারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান জানান, ওয়ারীর পদ্মনিধি লেনের ৮/১/এ বাড়ির ছয় তলায় খালা আয়শা ও খালু জামাল ভূঁইয়ার সঙ্গে থাকতো হাসান। গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে খবর পেয়ে ওই বাসায় গিয়ে হাসানের গলা কাটা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়।  

হাসানের খালার বরাত দিয়ে তিনি জানান, ঘটনার সময় হাসান বাসায় একা ছিল। তার খালা আয়শা মার্কেটে গিয়েছিলেন। মার্কেট থেকে বাসায় ফিরে দেখতে পান বাইরে থেকে দরজায় তালা দেওয়া। এক পর্যায়ে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে হাসানকে গলা কাটা অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এটা নিজস্ব লোক করেছে না বাইরের লোক এসে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বিস্তারিত বের করার জন্য পুলিশ কাজ করছে। নিহত হাসানের বাবা-মার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর থেকে সে তার খালার কাছেই থাকতো বলে জানান তিনি।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:২৬
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:২৮
প্রিন্ট করুন printer

সোনা চোরাচালানে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস

৯ দফায় সোনা উদ্ধার, জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার কেবিন ক্রুসহ অন্য কর্মীদের

রুহুল আমিন রাসেল

সোনা চোরাচালানে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস
প্রতীকী ছবি

সোনা চোরাচালানে জড়িয়ে পড়ছে বেসরকারি উড়োজাহাজ প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস লিমিটেড। সংস্থাটির উড়োজাহাজ থেকে দফায় দফায় চোরাচালানের সোনা উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। চোরাচালানে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকারও করেছেন এয়ারলাইনসটির কর্মীরা। তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের। কাস্টমস সূত্র জানান, সবশেষ মাসকাট থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট থেকে ৭ কেজি ২৯০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউস। এর বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। এর আগে গত বছর ১১ জানুয়ারি শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস থেকে ৪ কেজি ৬৪০ গ্রাম সোনা উদ্ধার হয়। একই বছরের ৩১ জুলাই একই বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার যাত্রী বহনকারী গাড়ির চালকের কাছ থেকে ৩ কেজি ৭১২ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে কাস্টমস, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।

২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর ১৭ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি সোনার বারসহ আটক হন ইউএস-বাংলার কর্মী। তার আগে ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে সোনা চোরাচালানে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু রোকেয়া শেখ মৌসুমী। একই বছরের ২০ এপ্রিল প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের ১৪ কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা। ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর ফ্লাইট থেকে ৪ কেজি ৬৪ গ্রাম সমান সোনার বার উদ্ধার হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ৪ কেজি ৬৬৫ গ্রাম সমান সোনার বার উদ্ধার করে কাস্টমস, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা হওয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 

ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সোনা চোরাচালানের বিষয়ে গভীর মনোযোগ রয়েছে কাস্টমসের। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে রয়েছে কাস্টমস। এয়ারলাইনসের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।’

বাংলাদেশ জুয়েলারি প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এয়ারলাইনসগুলো জড়িত না থাকলে কোনোভাবেই আকাশপথে সোনা চোরাচালান সম্ভব নয়। তাদের সঙ্গে অন্যরাও জড়িত। বিমানবন্দরে ১৭টি সংস্থা কাজ করে, তাদের আড়াল করে সোনা চোরাচালান অনেক কঠিন।’

বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি-বাজুস সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, ‘এত দিন আমরা জেনেছি সোনা চোরাচালানের সঙ্গে এয়ারলাইনসগুলোর ক্রুরা জড়িত থাকেন।’ তবে সরাসরি এয়ারলাইনসগুলো জড়িত না থাকলে বিপুল পরিমাণ সোনা চোরাচালান কেবিন ক্রুরা করতে পারেন কিনা খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর  এই সহসভাপতি। কাস্টমস সূত্র জানান, ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকার ৪ কেজি ৬৪০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ টিম। সোনার বারগুলো কালো স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালান প্রতিরোধে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নম্বর বিএস৩১৬-এর যাত্রী অবতরণের সিঁড়ির নিচে ৪০টি সোনার বার পাওয়া যায়। এ বিষয়ে কাস্টমস আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর শাহজালালে তিনটি সোনার বারসহ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কাস্টমার সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ওমর ফারুককে আটক করে ঢাকা কাস্টম হাউস। বিদেশ থেকে সোনার বারগুলো নিয়ে আসা মামুন মিয়া নামে এক যাত্রীকেও আটক করা হয়। এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ টিম বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে ট্রানজিট ও বোর্ডিং এলাকায় নজরদারি এবং তল্লাশি করে। আটক যাত্রী ও ইউএস-বাংলার কর্মীকে পুলিশে দেওয়া হয়।

একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে সোনা চোরাচালানে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১০ কেজি সোনার বারসহ গ্রেফতার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু রোকেয়া শেখ মৌসুমী। পুলিশ দুই দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে। এ সময় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক তোফাজ্জল হোসেন।

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর সকালে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) মৌসুমীকে প্রায় ১০ কেজি সোনাসহ গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় এপিবিএনের এসআই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে মৌসুমীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সোনা চোরাচালান আইনে মামলা করেন। মামলায় ইউএস-বাংলা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে যোগ দেওয়া কেবিন ক্রু নেছার উদ্দিন, তার স্ত্রী, যাত্রী সুহেল খাঁ, লাকী ও বাপ্পীকে আসামি করা হয়।

২০১৯ সালের ২০ এপ্রিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের ১৪ কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা। ওই দিন বিকালে ব্যাংকক থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে আসা ফ্লাইটের টয়লেটে ওই সোনা পাওয়ার কথা জানায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। তারা জানায়, প্রতিটি ১০ তোলা ওজনের মোট ১২০টি সোনার বার উদ্ধার হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা দল গোপন সংবাদ পায়, ব্যাংকক থেকে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের (বিএস ২১৪) ফ্লাইটের মাধ্যমে সোনা চোরাচালান হবে। উড়োজাহাজটি অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে বিমানের টয়লেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় ওই বারগুলো পাওয়া যায়।

২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে ৪ কেজি ৬৪ গ্রাম সমান সোনার বার উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ টিম। এয়ারলাইনসের (ফ্লাইট নম্বর বিএস৩২২) ১১ এ ও ১১ বি সিটের ভিতর থেকে ওই সোনা উদ্ধার করা হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তখন জানায় ঢাকা কাস্টম হাউস।

একই বছর ২৪ সেপ্টেম্বর শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট থেকে ৪ কেজি ৬৬৫ গ্রাম সমান সোনার বার উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দা। এয়ারলাইনসের (ফ্লাইট নম্বর বিএস২০২) থেকে ওই সোনা উদ্ধার করা হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:১৩
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:১৫
প্রিন্ট করুন printer

ভ্যাট ফাঁকিতে বেপরোয়া ইউএস বাংলা গ্রুপের ১২ প্রতিষ্ঠান

খতিয়ে দেখছে সরকার

রুহুল আমিন রাসেল

ভ্যাট ফাঁকিতে বেপরোয়া ইউএস বাংলা গ্রুপের ১২ প্রতিষ্ঠান

কালোবাজারি আর চোরাচালানের পাশাপাশি ভ্যাট ফাঁকিতেও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইউএস-বাংলা গ্রুপের ১২ অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। এ তথ্য দিয়ে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগ সূত্র জানায়, সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আত্মসাৎ করে মাত্র কয়েক বছরে ‘আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ’ হয়েছে ইউএস-বাংলা গ্রুপ। এ গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠানের একটির বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালান ও আরেকটির বিরুদ্ধে বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধার অপব্যবহার এবং অর্থ পাচারের তথ্য রয়েছে। এ অবস্থায় ইউএস-বাংলা গ্রুপের ১২ অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ফাঁকি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভ্যাট বিভাগ সূত্র। এ প্রসঙ্গে জাতাীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর সদস্য (ভ্যাট বাস্তবায়ন ও আইটি) ড. আবদুল মান্নান শিকদার গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন চলমান প্রক্রিয়া। এ জন্য অডিট করা হয়। মাঠ পর্যায়ে ভ্যাট গোয়েন্দাও কাজ করছে।

জানা গেছে, মাত্র এক দশক আগে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএস-বাংলা গ্রুপের এখন ১২টির বেশি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো-

ইউএস-বাংলা অ্যঅসেটস্, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ইউএসবি এক্সপ্রেস, ইউএস-বাংলা লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউএস-বাংলা ফুটওয়্যার, ইউএস-বাংলা হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউএস-বাংলা অটোমোবাইলস্, ইউএস-বাংলা ফুডস্, ইউএস-বাংলা ফ্যাশনসসহ আরও নানাবিধ প্রতিষ্ঠান। সময়ের হিসাবে ইউএস-বাংলা গ্রুপের ব্যবসার পরিধি রহস্যজনকভাবে বেড়েছে, যা বাংলাদেশে অনেকটাই বিরল।

ভ্যাট প্রশাসন সূত্র জানান, ইউএস-বাংলা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেড ঢাকার অতিসন্নিকটে পূর্বাচলে যে ‘পূর্বাচল আমেরিকান সিটি’ প্রকল্প রয়েছে, তাতে ভ্যাট ফাঁকি চলছে ফ্রিস্টাইলে। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের অন্য দুই আবাসন প্রকল্প হলো- ইস্ট আমেরিকান সিটি ও হলিডে হোমস কুয়াকাটা। এ তিন আবাসন প্রকল্পের ভ্যাট ফাঁকি দীর্ঘদিন যাবৎ ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ইউএস-বাংলা গ্রুপের কুরিয়ার সেবা প্রতিষ্ঠান ইউএসবি এক্সপ্রেস লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই ভ্যাট প্রশাসনে। প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট চালান ছাড়া পণ্য পরিবহন করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যাট চালান ছাড়া পণ্য পরিবহন করায় ইউএসবি এক্সপ্রেসকে জরিমানা করা হয় বলে তখন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ঢাকা পশ্চিম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের তৎকালীন কমিশনার ড. মইনুল খান। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রাপ্য ভ্যাটও আদায় করা হয় বলে তথ্য দিয়েছেন।

ইউএস-বাংলা গ্রুপের জুতা ও চামড়াজাত তিন প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকিও ধরাছোঁয়ার বাইরে। ইউএস-বাংলা লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের নামে থাকা বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধার অপব্যবহার করে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা আমদানি পণ্য কালোবাজারিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। ইউএস-বাংলা ফুটওয়্যার লিমিটেড ও ভাইব্রেন্ট ফুটওয়্যার লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান দুটির উৎপাদন ও বিক্রির বিপরীতে সরকার প্রাপ্য ভ্যাট থেকে বঞ্চিত। শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে তালিকাভুক্ত ইউএস-বাংলা লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানির বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধার আড়ালে কালোবাজারিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট সূত্র জানান, মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহ অনিয়মে জড়িত ইউএস-বাংলা লেদার। প্রতিষ্ঠানটির বছরের পর বছর রপ্তানি নেই। তবু বন্ড সুবিধায় পণ্য আমদানি করছে। কালোবাজারিতে জড়িত থাকার অপরাধে ইউএস-বাংলা লেদারকে ইতিমধ্যে জরিমানা করা হয়েছে। ইউএস-বাংলা লেদারের শুল্ক ফাঁকি উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইউএস-বাংলা গ্রুপের দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়ছেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে প্রাপ্য ভ্যাট থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। ২০০৩ সালে যাত্রা করা গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে বর্তমানে ৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়ছেন।

ইউএস-বাংলা গ্রুপের আরেক বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি উড়োজাহাজ সেবাদানকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস লিমিটেড। ১৭ জুলাই ২০১৪, সালে যাত্রার পর প্রতি বছর বিক্রি হওয়া লাখ লাখ টিকিটের বিপরীতে আদায় হওয়া প্রাপ্য ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি বলে মনে করেন ভ্যাট প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, প্রভাবশালী এ প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকির নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সরকার কয়েক শ কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস লিমিটেড সোনা চোরাচালানেও জড়িত। আকাশপথে যাত্রী পরিবহন ব্যবসায় নিয়োজিত সংস্থাটির উড়োজাহাজ থেকে দফায় দফায় চোরাচালানের সোনা উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। এমনকি চোরাচালানে জড়িত থাকার কথা আদালতেও স্বীকার করেছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কর্মীরা।

জানা গেছে, ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনে জড়িত ইউএস-বাংলা হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ সঠিক প্রক্রিয়ায় ভ্যাটের রিটার্ন দাখিল না করে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি। এ ছাড়া কোটি কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে ফ্রিস্টাইলে ব্যবসা পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন, ইউএস-বাংলা ফুড, ইউএস-বাংলা ভেভারেজ অ্যান্ড এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ইউএস-বাংলা রিসোর্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম ও ইউএস-বাংলা এগ্রো লিমিটেড।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর