শিরোনাম
প্রকাশ : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:৪৯
প্রিন্ট করুন printer

কেরানীগঞ্জ

গৃহবধূকে কুপিয়ে ও হাতের রগ কেটে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক

গৃহবধূকে কুপিয়ে ও হাতের রগ কেটে হত্যা
জোসনা আক্তার

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে এক নারীকে কুপিয়ে ও হাতের রগ কেটে হত্যা করেছে তার স্বামী সুমন (২৮)। নিহত নারীর নাম জোসনা আক্তার (২৫)। তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি কারখানায় কাজ করতেন।মঙ্গলবার রাতে তেঘরিয়া এলাকার পশ্চিমদি গ্রামের মোল্লাবাড়িতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত জোসনার ৬ বছরের লামিয়া ও সাড়ে ৩ বছরের সামিয়া নামের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

খবর পেয়ে বুধবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে লাশ উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।

ঘটনাস্থলে গেলে নিহত জোসনার বাবা জাফর হাওলাদার জানান, ১৩ বছর পূর্বে জোসনা আক্তারের সাথে ঝালকাঠির নলসিটি রায়পুরের বাসিন্দা জহুর আলীর ছেলে সুমনের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর জানতে পারি সে নেশা করে। বিয়ের পর থেকে সে সুমন জোসনাকে মারধর করে। মারধরের ব্যাপারে এলাকায় একাধিকবার পঞ্চায়েত সালিশ করেছে, ঠিকভাবে সংসারের খরচ দেয়নি। তাই আমার ভাড়া বাসার পাশের বাড়িতে ওদের বাসা ভাড়া করে দেই। সুমন বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে নানানভাবে যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিলো। আমি রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। তারপরও যখন যেভাবে পারছি সাহায্য করছি। সকালে (বুধবার) খবর পাই গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে আমার মেয়েকে সুমন মারধোর করছে। সকালে মেয়ের বাসায় যাবার পথে আমাকে সুমন কাঠের (রুয়া) শক্ত লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। সাথে সাথে আমি মাটিতে পড়ে যাই। এই সুযোগে সুমন মেয়ে দুটিকে নিয়ে আমার অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে জানতে পারি সে আমার মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।

নিহত জোসনার ছোট বোন হোসনা বেগম জানান, সকালে ঘরে ঢুকে দেখি আমার বোনকে সুমন নির্মমভাবে হত্যা করেছে। সে আমার বোনের পেট কেটে ফেলেছে। হাতের রগ কেটেছে। পিঠে চাকু মেরেছে। আমার বোনের হত্যাকারীর কঠিন বিচার চাই। 

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া পশ্চিমদি এলাকায় খুনের ঘটনা ঘটেছে। এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি সুমন তার স্ত্রী জোসনাকে হত্যা হয়েছে। লাশের হাতে ও নিম্নাঙ্গে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। লাশ মর্গে প্রেরণ করেছি। তবে এ ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর