শিরোনাম
প্রকাশ : ১ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:২৩
প্রিন্ট করুন printer

শহীদ বীরেন্দ্রনাথ সরকার ও সুরেশ পান্ডের মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

শহীদ বীরেন্দ্রনাথ সরকার ও সুরেশ পান্ডের মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার

রাজশাহী প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শহীদ বীরেন্দ্রনাথ সরকার এবং তৎকালীন রাজশাহী পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান শহীদ সুরেশ পান্ডের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল। ১৯৭১ সালের এইদিনে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন বাংলার সাহসী এ দুই বীর পুরুষ। 

তাদের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে রাজশাহীতে সমাবেশের আয়োজন করেছে রাজশাহী প্রেসক্লাব ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ। শুক্রবার বিকাল ৪টায় নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট প্রেসক্লাব চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

বিশিষ্ট সাংবাদিক অ্যাডভোকেট বীরেন্দ্রনাথ সরকারকে ১৯৭১ সালের ২ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে পাকিস্তানি সেনারা রাজশাহী নগরীর ষষ্ঠীতলা এলাকায় তার নিজ বাসভবনের দরজা ভেঙে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ে গুলি করে হত্যা করে। এর আধাঘণ্টা পরই রাত সাড়ে ৯টার দিকে তৎকালীন রাজশাহী পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান শহীদ সুরেশ পান্ডেকে নগরীর ফুদকিপাড়ার নিজ বাসভবনে গুলি করে হত্যা করা হয়।

বীরেন্দ্রনাথ সরকার প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) এর তৎকালীন রাজশাহী সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি রাজশাহী আদালতের প্রখ্যাত আইনজীবী ছিলেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম এ অগ্রসেনানী অন্যায়ের প্রতিবাদ করে বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেন। এমনকি কারাবন্দী অবস্থাতেই তিনি আইএ (বর্তমানে এইচএসসি) এবং বিএ (বর্তমানে স্নাতক) পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে পাশ করেন। 

১৯৫৩ সালে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পরের বছর ১৯৫৪ সালে তৎকালীন যুক্তফ্রন্ট সরকারের এমএনএ আতাউর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি রাজশাহী প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন এবং সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রভাষ কুমার লাহিড়ী প্রধান অতিথি হয়ে এসে রাজশাহী প্রেসক্লাব উদ্বোধন করেন।

সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেই তিনি ১৯৬৯ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং ‘৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনে রাজশাহী অঞ্চল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যার পর অনেকেই তাকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে অনুরোধ করলে বীরেন্দ্রনাথ সরকার সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন এবং রাজশাহীর মানুষের সঙ্গেই অবস্থান করেন। ২ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে গুলিতে প্রাণ হারান সাহসী এ সাংবাদিক।

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সুরেশ পান্ডে তৎকালীন সময়ে রাজশাহী অঞ্চলের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে অন্যতম মেধাবী ছিলেন। অসাধারণ প্রতিভাবান এ জনপ্রতিনিধিকেও টার্গেট করে পাকিস্তানি সেনারা। ফলে ওই একই রাতে মাত্র আধাঘণ্টার ব্যবধানে তাকেও হত্যা করা হয়।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর