শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:৫৬

দর্শনীয় মণ্ডপে থাকছে চমক

বসুন্ধরায় দুর্গোৎসব

জিন্নাতুন নূর

দর্শনীয় মণ্ডপে থাকছে চমক

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব আয়োজনের সময় প্রায় ঘনিয়ে এলো। বিগত বছরগুলোতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বসুন্ধরা সার্বজনীন পূজা কমিটির পূজা মণ্ডপটি বিপুলসংখ্যক মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে। এবারও বৃহৎ আয়োজনে এই এলাকায় মণ্ডপ তৈরির প্রস্তুতি চলছে। অযোধ্যার সূর্য মন্দিরের আদলে এবার তৈরি করা হচ্ছে এই পূজা কমিটির মণ্ডপ। দর্শনীয় এই মণ্ডপে প্রাচীন নকশার সঙ্গে থাকছে আধুনিকতার ছোঁয়াও। দু-ডি ও থ্রি-ডি প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রদর্শন করা হবে। দর্শনার্থী আকর্ষণে মণ্ডপের বাইরে আলাদা চমক হিসেবে পাঁচ ফুট উচ্চতার গণেশের থ্রি-ডি মূর্তি গড়ে তোলা হবে। সব মিলিয়ে এবার বসুন্ধরা সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজন দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজক কমিটি। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডি-ব্লকের ৫ নম্বর রোডে মেহেদি মার্টের সামনে এবার দুর্গা পূজার আয়োজন করা হয়েছে। আগের বছরগুলোতে পূর্বাঞ্চল লিঙ্ক রোডের তিনশ ফুট সড়কের পাশে পূজামণ্ডপ তৈরি করা হলেও এবার স্থান বদলে আকর্ষণীয় ও বিশাল পূজামণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক তত্ত্বাবধানে বসুন্ধরা গ্রুপের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীদের পাশাপাশি থাকছে পুলিশ সদস্যরাও। এ ছাড়া পূজামণ্ডপ এলাকার চারপাশ সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায় থাকছে। মণ্ডপে প্রবেশের সময় প্রত্যেককে আর্চওয়ে দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে হবে। সরেজমিন ঘুরে গতকাল দেখা যায়, মণ্ডপ তৈরির কাজে কারিগররা এখন বেশ ব্যস্ত। কারিগরদের পাশাপাশি প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক এই নির্মাণ কাজের সঙ্গে জড়িত। এবার দর্শনার্থীদের জন্য মূল আকর্ষণ হিসেবে প্রবেশমুখে বসানো হবে কৃত্রিম পদ্মফুল, যা পানিতে ভাসবে। এর ওপর বসানো হবে পাঁচ ফুট উচ্চতার গণেশের থ্রি-ডি মূর্তি। এর থেকে একটু সামনে বসানো হবে তিনটি ঝরনা। আর ঝলমলে আলোকসজ্জা তো থাকছেই। এ ছাড়া পূজামণ্ডপের পাশে দিগন্ত বিস্তৃত স্থানে শরতের শুভ্র কাশফুলও এই পূজামণ্ডপের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পূজামণ্ডপের সাজসজ্জায় ব্যস্ত থাকা ডেকোর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কর্মকর্তা স্বপন পাল আয়োজনস্থল ঘুরিয়ে দেখানোর সময় এই প্রতিবেদককে জানান, অযোধ্যার সূর্য মন্দিরের কনসেপ্টকে কিছুটা আধুনিক নকশা দিয়ে আমরা মণ্ডপের নকশা তৈরি করেছি। প্রতিমা মঞ্চের উচ্চতা হবে ৪৫ ফুট। মঞ্চের উপরে কর্কসিট দিয়ে তৈরি করা হবে সূর্যের কিরণ। আর ভিতরে থাকছে আর্ট গ্যালারি। সেখানে কর্কসিট দিয়ে তৈরি করা টু-ডি ও থ্রি-ডি মূর্তির প্রদর্শন করা হবে। এ ছাড়া মণ্ডপের মাঝ বরাবর সিলিংয়ে এবার আলাদা আকর্ষণ হিসেবে বসুন্ধরা মার্কেটের ছাদের মতো ডিম্বাকৃতির দর্শনীয় বস্তু তৈরি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মণ্ডপ তৈরির ৫০ শতাংশ কাজ হয়েছে। সাজসজ্জার উপকরণগুলো রং করা শেষে মঞ্চ তৈরির কাজ পুরোদমে শুরু হবে। আর পুরো মণ্ডপে ৪০টির অধিক দেব-দেবীর প্রদর্শন করা হবে।

গতবারের মতো এবারও নারায়ণগঞ্জের প্রতিমাশিল্পী সুমন পাল প্রতিমা তৈরি করছেন। তিনি বলেন, এবারও মাটি দিয়ে দেবীর প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে, যার মধ্যে টেরাকোটার ভাব থাকবে। ক্যানভাস কাপড়ে দেবীকে এবার অফ হোয়াইট রঙের শাড়ি পরানো হবে। যেহেতু দেবী এবার ঘোড়ায় চড়ে পৃথিবীতে আসছেন সে কারণে প্রতিমার পেছনে কর্কসিটে ঘটক তথা ঘোড়ার পাল তৈরি করা হবে।

পূজামণ্ডপের আয়োজন সম্পর্কে বসুন্ধরা গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (আইন) ও বসুন্ধরা সার্বজনীন পূজা কমিটির সহ-সভাপতি পবিত্র সরকার বলেন, গতবারের পূজায় মণ্ডপের সাজসজ্জায় আমরা দ্বিতীয় ও প্রতিমা তৈরির দিক দিয়ে তৃতীয় হয়েছিলাম। এবার প্রতিযোগিতায় উভয় শাখাতেই আমরা প্রথম হতে চাই। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার কারণে এবার আমরা স্থান পরিবর্তন করেছি। দুর্গোৎসব আয়োজনে এবার আমাদের বাজেট ৪০ লাখ টাকা। থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং পূজার সময় দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন তিন বেলা খাওয়ার আয়োজনও করা হয়েছে। আমরা ষষ্ঠী পূজার দিন সকাল থেকেই পূজামণ্ডপ সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেব।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর