Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
প্রকাশ : শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৯

পাথর খেকোদের ভয়ঙ্কর থাবা

ঘটছে প্রাণহানি

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

পাথর খেকোদের ভয়ঙ্কর থাবা
সিলেটে এভাবে গর্ত করে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে —বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রভাবশালী পাথর খেকোদের থাবায় ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে সিলেটের পর্যটন সমৃদ্ধ পাথর কোয়ারি এলাকাগুলোতে। গর্তকরে মাটির নিচ থেকে পাথর উত্তোলনের ফলে একদিকে যেমন ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ, অন্যদিকে হারাচ্ছে পর্যটন সম্ভাবনা। এছাড়া গর্ত করে পাথর উত্তোলনের সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। এক মাসের কম সময়ে গর্তের ভিতর মাটি চাপা পড়ে মারা গেছেন ৯ শ্রমিক। শ্রমিক নিহতের পর তাদের লাশ গুমেরও চেষ্টা চালাচ্ছেন পাথর খেকোরা। মামলা, অভিযান কোনোটাই যেন রুখতে পারছে না তাদের ভয়ঙ্কর থাবা।

সিলেটের পাথর কোয়ারিতে সর্বশেষ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে। সীমান্তবর্তী পর্যটন কেন্দ্র বিছানাকান্দি কোয়ারির বাদেপাশা খেয়াঘাট সংলগ্ন বাছিত মিয়ার মালিকানাধীন গর্ত থেকে পাথর উত্তোলনের সময় মাটি ধসে ৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ভোরের আলো ফোটার আগেই লাশগুলো গায়েবের চেষ্টা করেন পাথর খেকোরা। গতকাল সকাল ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর থেকে জাকির ও তোলা মিয়া নামের দুই শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। অন্য শ্রমিকের লাশ নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান গোয়াইনঘাট থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন। এ ঘটনায় মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে, ২৩ জানুয়ারি আরেক পর্যটন কেন্দ্র শাহ আরপিন টিলা কেটে পাথর উত্তোলনের সময় মাটি চাপায় ৫ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর শ্রমিকদের লাশ গুম করে ফেলেন পাথর খেকোরা। পরে নেত্রকোনা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। জেলা প্রশাসনের কমিটির প্রতিবেদনে শাহ আরপিন টিলার পরিবেশ ধ্বংসের জন্য ৪৭ জন পাথর খেকোকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কেউই গ্রেফতার হননি। এছাড়া উভয় প্রতিবেদনে পরিবেশ ধ্বংস করে পাথর উত্তোলনের জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকেও দায়ী করা হয়। শাহ্ আরপিন টিলা ট্রাজেডির দিন আরেক পর্যটন কেন্দ  লোভাছড়ায়ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ওই পাথর কোয়ারিতেও মাটি চাপায় এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। জানা গেছে, সিলেটের সবকটি পাথর কোয়ারি পর্যটন কেন্দ  হিসেবে পরিচিত। প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্য অবলোকনে প্রতিদিন এসব কোয়ারি এলাকায় হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করেন। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে মাটি খুঁড়ে গর্ত করে এবং বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের ফলে দিন দিন এসব পর্যটন কেন্দ্র সৌন্দর্য হারিয়ে মৃত্যুকূপে পরিণত হচ্ছে। বিভিন্ন সময় পাথর খেকোদের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্স অভিযান চালালেও স্থায়ীভাবে পরিবেশ বিপর্যয় করে পাথর উত্তোলন বন্ধ সম্ভব হচ্ছে না।এ ব্যাপারে সিলেটের পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হাই আল হাদী বলেন, পাথর কোয়ারিগুলো পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সারা দেশে পরিচিত। সরকার পর্যটন দিয়ে সিলেটকে ব্র্যান্ডিং করার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় পাথর উত্তোলনের নামে পরিবেশ নষ্ট করে পর্যটন সম্ভাবনাকে ধ্বংস করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর বিরুদ্ধে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও পরিবেশ অধিদফতরকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা জানান, যেখানেই পরিবেশ ধ্বংস করে পাথর উত্তোলনের খবর পাওয়া যায় সেখানেই অভিযান চালানো হয়। কিন্তু রাতের আঁধারে যখন গর্ত করে পাথর উত্তোলন করা হয় তখন অভিযান চালানো পুলিশের পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। এরপরও পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর