শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১৫

একই সঙ্গে চলছে মাটি ভরাট ও ভূমি অধিগ্রহণ

কর্ণফুলী-কালুরঘাট রিং রোড

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

একই সঙ্গে চলছে মাটি ভরাট ও ভূমি অধিগ্রহণ

চট্টগ্রাম নগরের শাহ আমানত সেতু থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত রিং রোড নির্মাণে একসঙ্গে চলছে ভূমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাট কাজ। ইতিমধ্যে শাহ আমানত সেতুর পূর্ব পাড় থেকে বাকলিয়া চেয়ারম্যানঘাটা পর্যন্ত সড়কে মাটি ভরাট কাজ প্রায় শেষ। অন্যদিকে চলছে ভূমিমালিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান। চলতি শুষ্ক মৌসুমেই মাটি ভরাটের অর্ধেক কাজ শেষ করতে চান প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা। এটি বাস্তবায়িত হলে নগরের বৃহত্তর অংশে নিরসন হবে জলাবদ্ধতা, কমবে যানজট, নগর রক্ষা পাবে ভাঙন থেকে। নগরের সার্বিক উন্নয়নে প্রকল্পটি মাইলফলক হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

১৯৬১ ও ১৯৯৫ সালে প্রণীত মহাপরিকল্পনার অন্যতম সুপারিশ ছিল কালুরঘাট-চাক্তাই-পতেঙ্গা পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ-কাম-রোড নির্মাণ। দুটি মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নকাল শেষ হলেও প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়নি।

জানা যায়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) ‘চট্টগ্রাম কালুরঘাট-শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে ‘উপকূলীয় বেড়িবাঁধ-কাম-রোড নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ৮ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ২ হাজার ২৭৫ কোটি ৫২ লাখ ৫৫ হাজার টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হয় গত অক্টোবরে। প্রকল্পের সড়কের জন্য অধিগ্রহণ করা হবে ৬৯ দশমিক ৫০ হেক্টর এবং জলাধারের জন্য অধিগ্রহণ করা হবে ১২ হেক্টর জায়গা। চউকের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে মাটি ভরাট এবং ভূমি অধিগ্রহণ কাজ একসঙ্গে চলছে। কারণ বর্ষা মৌসুমে এ দুটি কাজ করা যায় না। একই সঙ্গে আমরা ভূমির প্রকৃত মালিকদের ক্ষতিপূরণও দিয়ে দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘পতেঙ্গা রিং রোড বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাচ্ছে। তাই জলাবদ্ধপ্রবণ বাকলিয়া এলাকা রক্ষায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নগরের বৃহত্তর অংশ যেমন জলাবদ্ধতা মুক্ত হবে, কমবে যানজট, তেমনি ভাঙন থেকেও রক্ষা পাবে। নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও বৃহত্তর বাকলিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি মাইলফলক।’

প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব দাশ বলেন, ‘এবারের শুষ্ক মৌসুমেই শাহ্ আমানত সেতু থেকে বলিরহাট পর্যন্ত মাটি ভরাটের কাজ শেষ করা আমাদের লক্ষ্য। মাটি ভরাটের সঙ্গে সঙ্গে ১২টি খালের মধ্যে ছয়টি খালের মুখে রেগুলেটর বসানোর কাজ চলছে। তিন মাসের মধ্যে কর্ণফুলী নদী থেকে পাঁচ কোটি ঘনফুট মাটি উত্তোলন করে ১২টি খালের মুখে রেগুলেটর স্থাপন করা হবে। এ প্রকল্পের জন্য ১২ কোটি ঘনফুট মাটি উত্তোলন করা হবে।’

চউকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে ভূমির ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত ৬০০টি আবেদন পড়েছে। আবেদন গ্রহণ চলছে এখনো। এর মধ্যে কয়েকটি আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। চউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত আট সদস্যের একটি প্যানেল আবেদনগুলো শুনানি করছে। শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যানঘাটা-কল্পলোক আবাসিক এলাকার পেছনে নদীর তীরে তৈরি করা হচ্ছে প্রকল্প কার্যালয়। প্রকল্পের জন্য মাটি তোলা হচ্ছে কর্ণফুলী নদী থেকে। ভরাট জায়গায় পড়ন্ত বিকালে ভিড় করছেন পর্যটকরা।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, সমুদ্র সমতল থেকে ২৪ ফুট উঁচু, রোডের নিচে ২৫০ ফুট প্রস্থ ও রোডের উপরিভাগে ৮০ ফুট চওড়া হবে সড়কটি। প্রকল্পের আওতায় নদীর ভিতরের অংশে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ঢালু করে প্রতিরোধক বসানো হবে। চার লেনের এই রোডটির সঙ্গে খাজা রোড, কেবি আমান আলী রোড ও মিয়াখান রোড যুক্ত হবে। ফলে এখানকার মানুষও এ সড়কের সুফল পাবে। এ ছাড়া চাক্তাই খালের মুখ থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত সিটি আউটার রিং রোড ঘিরে হবে কর্মসংস্থান। কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে উঁচু এ সড়কটির অভ্যন্তরে বিস্তীর্ণ পরিত্যক্ত জায়গাগুলোতে শুরু হবে অর্থনৈতিক কর্মকা-, গড়ে ওঠবে পর্যটন স্পট। কর্ণফুলী নদী আর শহরের মিতালীতে সম্ভাব্য অপরূপ শোভা দর্শনে আসবেন দেশ-বিদেশের পর্যটকরা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর