শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:১২

এখনো বহাল ৫৯ লাখ টাকা লোপাটের নায়ক দুই প্রকৌশলী

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

এখনো বহাল ৫৯ লাখ টাকা লোপাটের নায়ক দুই প্রকৌশলী

 বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) দুই প্রকৌশলী চেক টেম্পারিং করে লোপাট করেছেন ৫৯ লাখ টাকা। ১৮১টি চেক টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে তারা এই বিপুল পরিমাণ টাকা লোপাট করেন। প্রমাণ গায়েব করতে পুড়িয়ে দেওয়া হয় নথিপত্র। তদন্তে এমন ভয়াবহ জালিয়াতি ধরা পড়লেও অভিযুক্তরা এখনো বহাল তবিয়তে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে মামলার সুপারিশ করা হলেও তা আমলে নেয়নি বিএমডিএ। প্রায় তিন বছর আগে ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাতে বিএমডিএর রাজশাহীর গোদাগাড়ী জোন-২ কার্যালয়ে ক্যাশ শাখায় হঠাৎ আগুন লাগে। এ ঘটনা তদন্তে বেরিয়ে আসে কীভাবে ১৮১টি চেক টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে সরকারি টাকা লোপাট হয়েছে। ঘটনা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে বিএমডিএ পৃথক দুটি এবং পরে অধিকতর তদন্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দল।

৬৫৭ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ওই কার্যালয়ের সহকারী হিসাবরক্ষক মতিউর রহমান ও সহকারী কোষাধ্যক্ষ খাবিরুদ্দিন কীভাবে লাখ লাখ টাকা লোপাট করেছেন। ১৫৪ টাকার চেক টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে করা হয়েছে ৮৯ হাজার ১৫৪ টাকা, ৪৫০ টাকার চেক করা হয়েছে ১ লাখ ৪৫০ টাকা ও ৬২১ টাকার চেকে লেখা হয়েছে ১ লাখ ৬২১ টাকা। এভাবেই ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ১২ হাজার ৩২১ টাকা। তবে চেকের মুড়ির অংশগুলোতে ঠিকঠাক আছে প্রকৃত                টাকার অঙ্ক। বিএমডিএর অডিট অফিসার বাসুদেব চন্দ্র মোহন্ত জানান, চেক টেম্পারিংয়ের প্রমাণ নষ্ট করতেই খাবিরুদ্দিন আগুন লাগিয়েছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে তিনটি তদন্ত কমিটির রিপোর্টেই। প্রথমে চেক টেম্পারিং করেছিলেন মতিউর। এরপর খাবিরুদ্দিন। অভিযুক্ত খাবিরুদ্দিন ও মতিউর রহমান তদন্ত কমিটিগুলোর কাছে নিজেদের দায় স্বীকার করেছেন। তবে তাদের দাবি, এর পেছনে ছিলেন তৎকালীন দুই সহকারী প্রকৌশলী। এ বিষয়ে মতিউর বলেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে আমাকে শাস্তি দিয়ে একরকম ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমি এর নিষ্পত্তি চাই। এজন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছি।’ তবে তার দাবি, তৎকালীন সহকারী প্রকৌশলীর নির্দেশেই তিনি এ কাজ করেছিলেন। কিন্তু প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এ ধরনের ঘটনার পরও পিএফ ফান্ড থেকে খাবিরুদ্দিনকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছে বিএমডিএ। সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও কীভাবে ঋণ পেলেন তা নিয়েও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে এ দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্তে অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ও জিএফএম হাসনুল ইসলাম এখনো বহাল তবিয়তে। ২০১৮ সালের ১২ জুন দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার সুপারিশও আছে। কিন্তু সে পথেও আর হাঁটেনি বিএমডিএ। আনোয়ার হোসেন বর্তমানে আত্রাই ও হাসনুল ইসলাম মোহনপুরে বিএমডিএর কার্যালয়ে কর্মরত। তবে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপিত না হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া খাবিরুদ্দিন বরখাস্ত হওয়ার আগেই ঋণের আবেদন করেছিলেন। তাই ঋণ পেয়েছেন।

 

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর