Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:১২

কুমিল্লায় ৭ দিন আগে অপহৃত

পুলিশের অভিযানে পণবন্দী প্রবাসী ঢাকায় উদ্ধার

কুমিল্লা প্রতিনিধি

পুলিশের অভিযানে পণবন্দী প্রবাসী ঢাকায় উদ্ধার

কুমিল্লা থেকে অপহরণের সাত দিন পর মো. ইয়াছিন ওরফে সোহাগ নামে এক প্রবাসীকে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার পোস্তগোলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণকারী চক্র ওই যুবককে নির্যাতনের ভিডিও তার মায়ের মোবাইলে পাঠিয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। নির্যাতিত সোহাগ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার পোমকাড়া গ্রামের ছিদ্দিকুর                রহমানের ছেলে। গত ১২ সেপ্টেম্বর তাকে কুমিল্লা থেকে কৌশলে অপহরণ করা হয়। শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াত হোসেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সোহাগ (৩০) সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন। সোহাগের বন্ধু চাঁদপুর জেলা সদরের পশ্চিম হোসেনপুর গ্রামের মৃত আবিদ মাস্টারের ছেলে নজরুল ইসলাম ওরফে সুমন (৩৫)। বন্ধুটি সোহাগকে ইতালিতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা সেন্টারে সোহাগের কাগজপত্র জমা দেয়। ১২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে গিয়ে ভিসা আনার জন্য সোহাগ বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু ওইদিন বিকাল ৫টায় সোহাগ মোবাইলে তার পরিবারকে জানান, তিনি বন্ধু সুমনের সঙ্গে ঢাকায় রয়েছেন। এরপর থেকে সোহাগের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে সোহাগের মোবাইল থেকে কয়েকটি ছবি ও দুটি মোবাইল নম্বর তার মায়ের মোবাইলে ইমোর মাধ্যমে পাঠানো হয়। এরপর সোহাগের পরিবারের লোকজন ওই মোবাইলে কথা বলে জানতে পারে- সোহাগকে তার বন্ধু সুমন ও অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন আটক করে রেখেছে।

এ ব্যাপারে সোহাগের ভাই সুজন মিয়া ওইদিন ব্রাহ্মণপাড়া থানায় মামলা করেন। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর সুমন ও তার সঙ্গীরা অজ্ঞাত স্থানে একটি বদ্ধরুমে সোহাগকে আটকে রেখে তার হাত ও পা বাঁধা অবস্থায় কয়েকটি ছবি ও নির্যাতনের ভিডিও ইমোর মাধ্যমে তার মায়ের মোবাইলে পাঠায় এবং ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এলআইসি টিম ও ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের টিম সোহাগকে উদ্ধারের জন্য অভিযানে নামে। তারা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ও বিভিন্ন সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, সোনারগাঁও এলাকাসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার শ্যামপুর থানা পুলিশের সহায়তায় পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে আহত অবস্থায় সোহাগকে উদ্ধার করে কুমিল্লা নিয়ে আসা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর