Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৫৪

শিবির-যুবলীগের চাঁদাবাজির ‘জোট’!

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

শিবির-যুবলীগের চাঁদাবাজির ‘জোট’!

আদর্শে মতপার্থক্য থাকলেও চাঁদাবাজিতে একাকার যুবলীগ ও ছাত্রশিবির। জোটবদ্ধ হয়েই তারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করেন। শুধু তাই নয়, সাধারণ লোকজনের কাছ থেকে নেওয়া চাঁদার উল্লেখযোগ্য একটি অংশই পায় দেশের বাইরে থাকা শিবির ক্যাডাররা। একটি চাঁদাবাজি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ।  এ মামলার সূত্র ধরেই নগরীর বায়েজীদ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় যুবলীগের পাঁচ কথিত নেতাকে। তারা হলেন- রুহুল আমিন, মো. তুহিন, সুজন  জাবেদ ওরফে ভাগিনা জাবেদ এবং রনি। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর বায়েজীদ থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বায়েজীদ থানার ওসি মোহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আবদুল ওয়াজেদ নামে এক ব্যবসায়ী চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন। তার অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে শিবির ক্যাডার সরওয়ার ও ম্যাক্সনের সঙ্গে এ চক্রের সম্পর্ক থাকার সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।’ জানা যায়, দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার মো. সরোয়ার এবং নুরুন্নবী ওরফে ম্যাক্সন ২০১৭ সালে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে পাড়ি জমান। কাতার থেকেই তারা নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে নগরীর বায়েজীদ, অক্সিজেন, মুরাদপুরসহ আশাপাশ এলাকা। চাঁদাবাজি, ভূমি দখল- বেদখল, অস্ত্র ব্যবসাসহ নানান অপরাধের নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন কাতার থেকে। সরোয়ার-ম্যাক্সন কাতারে অবস্থান করলেও  অপকর্ম দেশে বাস্তবায়ন করার জন্য জোট করেন কথিত যুবলীগ নেতা ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম ও রুহুল আমিনের সঙ্গে। প্রবাসীর কাছ থেকে নেওয়া চাঁদাবাজির টাকা সমান হারে পেতো চাঁদাবাজ জোটের শরিকরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানায়, চাঁদাবাজ জোটের মূল টার্গেটই হচ্ছে প্রবাসীরা। বিদেশে থাকা অর্থশালী প্রবাসীদের কাছেই তারা টাকা দাবি করতেন। তাদের চাহিদা মতো চাঁদা না দিলে প্রবাসীদের পরিবারের উপর নেমে আসতো অমানুষিক নির্যাতন। শিবির ক্যাডারদের হয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের কাজটি করত কথিত যুবলীগ নেতারা। পরিবারের কথা চিন্তা করে টাকা দিতে বাধ্য হতো প্রবাসীরা।  গত ৬ সেপ্টেম্বর মুরাদপুরের এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করেন রুহুল আমিনরা। কথামতো চাঁদা না দেওয়ায় ২৩ সেপ্টেম্বর নয়াহাটে তার বাড়িতে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এটি তদন্ত করতে গিয়েই মূল ঘটনা ফাঁস হয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর