শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:১৩

খুলছে সিলেট-লন্ডন পণ্য রপ্তানির নতুন দুয়ার

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

খুলছে সিলেট-লন্ডন পণ্য রপ্তানির নতুন দুয়ার

সিলেট-লন্ডন পণ্য রপ্তানির নতুন দুয়ার খুলতে যাচ্ছে। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা। করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে সিলেট থেকেই যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শাক-সবজি, ফলমূল, গার্মেন্টস ও কুটিরশিল্প সামগ্রী পাঠানো শুরু করবেন রপ্তানিকারকরা। সে লক্ষ্যে তারা আগাম প্রস্তুতিও শুরু করেছেন। রপ্তানি শুরু হলে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প পুনরুজ্জীবিত হবে বলে মনে করছেন তারা। জানা গেছে, ২০১১ সালে সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়। নানা জটিলতায় কিছুদিন পরই বন্ধ হয়ে যায় ফ্লাইট। দীর্ঘ বিরতি শেষে গত বছরের ৪ অক্টোবর ফের চালু হয় বিমানের সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট। বর্তমানে সপ্তাহের রবিবার ও বুধবার সিলেট থেকে সরাসরি ফ্লাইট যাচ্ছে লন্ডনে। ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা আছে ম্যানচেস্টারেও। লন্ডনে সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ার পর সিলেটের ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকরা নতুন আশায় স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন। যুক্তরাজ্যে পণ্য রপ্তানির জন্য নানা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারীদের মধ্যে সিংহভাগই সিলেটের বাসিন্দা। সেখানকার বাংলাদেশিদের মধ্যে নেতৃস্থানীয়রাই সিলেটি। বড় আকারের সুপার শপ, রেস্টুরেন্ট, টেকওয়ে প্রভৃতির মালিকানায়ও সিলেটিদের নেতৃত্ব রয়েছে। ফলে সিলেট থেকে পণ্য রপ্তানি করা গেলে সেখানে বাজার ধরা সম্ভব বলে মনে করছেন রপ্তানিকারকরা। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকরা লন্ডনে ফ্রোজেন ফিশ, শাক-সবজি, ফলমূল, বেতের আসবাবপত্র, নকশিকাঁথা, পান, বিন্নি চাল, গার্মেন্টসামগ্রী রপ্তানির পরিকল্পনা করছেন।

এ জন্য সিলেটে জরুরিভিত্তিতে ওয়্যারহাউস নির্মাণের জন্য সরকারি পর্যায়ে কড়া নাড়া শুরু করেছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। রপ্তানিকারকরা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হয়, সেগুলো ঢাকার শ্যামপুরে অবস্থিত যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অনুমোদিত ওয়্যারহাউসের মাধ্যমে প্যাকেজিং করে কোয়ারেন্টাইন সার্টিফিকেট নিয়ে পাঠাতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় সিলেটের রপ্তানিকারকদের। এ ছাড়া পচনশীল পণ্যগুলো ঢাকায় নিয়ে যেতে পচন ধরে। রপ্তানি বাড়াতে ও বিড়ম্বনা রোধ করতে শ্যামপুরের মতো সিলেটেও ওয়্যারহাউস নির্মাণের জন্য গত ১৩ জানুয়ারি কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাকের কাছে চিঠি দিয়েছেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি। চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো কমপ্লেক্স ও স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে সিলেট থেকে পণ্য রপ্তানির সুবর্ণ সুযোগ। পণ্য রপ্তানির জন্য সিলেটে ওয়্যারহাউস নির্মাণ জরুরি। এটা নির্মিত হলে শাক-সবজি, ফলমূল, কৃষিপণ্য বেশি পরিমাণে রপ্তানি সম্ভব হবে।

সিলেটের ব্যবসায়ীরা জানান, যুক্তরাজ্যে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী শাড়ি, সাতকরা, জারা লেবু, পান, বিন্নি চাল, বেতের আসবাবের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। যদি সিলেট থেকে সরাসরি রপ্তানি শুরু হয়, তবে এখানকার ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প নতুন প্রাণ পাবে, লাভবান হবে দেশের অর্থনীতি। সিলেট থেকে পণ্য রপ্তানির জন্য উড়োজাহাজেরও কোনো সমস্যা নেই। বোয়িং ৭৭৭ যাত্রী ও লাগেজের পর ২১ টন এবং ড্রিমলাইনার ১৬ টন পণ্য পরিবহন করতে পারে।

সামগ্রিক প্রসঙ্গে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু তাহের শোয়েব বলেন, সিলেট থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পর সিলেট চেম্বার রপ্তানিকারক, উৎপাদক ও ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে আসছে, যোগাযোগ রাখছে। পণ্য রপ্তানির জন্য রপ্তানিকারকদের প্রস্তুতি আছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে রপ্তানি শুরু হবে। ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে সমন্বয় করা গেলে, ওয়্যারহাউস নির্মিত হলে রপ্তানি জোরদার ও সহজ হবে।

জালালাবাদ ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রোজেন ফিশ এক্সপোর্ট গ্রুপের সভাপতি হিজকিল গুলজার বলেন, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা আছে। নানা জটিলতার কারণে চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। সিলেটে ওয়্যারহাউস হলে, রপ্তানি শুরু হলে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। দেশীয় পণ্য বেশি পরিমাণে রপ্তানি করা গেলে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প এবং কৃষকরা উপকৃত হবেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিলেট অফিসের ব্যবস্থাপক শাহনেওয়াজ মজুমদার বলেন, সিলেট-লন্ডন ও সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে যাত্রীসংখ্যা প্রচুর। প্রতিনিয়তই যাত্রী বাড়ছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে প্রতিদিন আসা-যাওয়ার মতো যাত্রী আছে বিমানের।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর